Advertisement

Depression

"ডিপ্রেশন এমন একটি শব্দ যার সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। আমরা সবাই জানি, ডিপ্রেশন কি, কেন হয়? এখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ও আমাদের সকলের জানা! তবুও কেন যেন এই কালো ছায়া আমাদের পিছু ছাড়ে না!!
যাইহোক, ডিপ্রেশন সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানাতে, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের ভিত্তিতে এই লেখা.....

ডিপ্রেশন


প্রশ্ন 1 : ডিপ্রেশন কি ??
👉👉 ডিপ্রেশন একটি মানসিক ব্যাধি যা Mood ‌disorder এর অন্তর্ভুক্ত...
এখানে, যে জিনিসটি মনে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে মন খারাপ মানেই ডিপ্রেশন না । আমরা আমাদের চারপাশে কাউকে একটু মন খারাপ করতে দেখলেই diagnose করে ফেলি সে depression এ ভুগতেসে! কিন্তু, ডিপ্রেশন একটি রোগ , যা DSM-5 ক্রাইটেরিয়া দ্বারা ডায়াগনোসিস করা হয়..
DSM 5 criteria যে কেউ গুগল করলেই জানতে পারবেন, সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিষন্নতা/লো মুড ,সবকিছুতে আনন্দ হারিয়ে ফেলা , শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা, ঘুমের সমস্যা, কোন কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারা, নিজেকে ব্যর্থ মনে করা, অতিরিক্ত অপরাধবোধ এ ভোগা এবং বার বার আত্মহত্যার চিন্তা করা এগুলোই ডিপ্রেশন এর প্রধান লক্ষণ তবে মনে রাখতে হবে এই সমস্যাগুলো দুই সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় ধরে থাকতে হবে।

প্রশ্ন 2 : ডিপ্রেশন এর কারণ কি?
👉👉 অনেকেই মনে করে যে, এর উত্তর সবার জানা- যখন আমাদের জীবনের চাওয়া-পাওয়ার মিল থাকেনা তখনই দেখা দেয় ডিপ্রেশন। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে এতটা সহজ না,
Actually exact pathophysiology of depression is still unknown ..
কিন্তু ব্রেইনে কিছু নিউরোট্রান্সমিটার abnormalities ( মেইনলি serotonin and nor adrenaline) কমে গেলে ডিপ্রেশনের লক্ষণ গুলো দেখা যায়।

প্রশ্ন 3: সবাই কী ডিপ্রেশনে ভোগে ??
👉👉দুঃখ ,হতাশা ,ব্যর্থতা সবার জীবনে আসতে পারে কিন্তু সবাই ডিপ্রেশনের ভোগে না। কিন্তু ডিপ্রেশনের জন্য জেনেটিক এবং environmental factors এই দুই ধরনের ইনফ্লুয়েন্স দরকার,
জেনেটিক ফ্যাক্টরস এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে serotonin reuptake transporter protein encoding gene!! সহজভাবে বললে , যাদের এই জিনের কাঠামোটি ভালো তাদের ডিপ্রেশনে ভোগার সম্ভাবনা খুবই কম। আর যাদের এই জিনের কাঠামোতে কোন সমস্যা আছে তারা খুব সহজেই ডিপ্রেসড হয়ে পড়ে। আর ইনভারমেন্টাল ফ্যাক্টরস এর মধ্যে ব্যক্তির ছোটবেলার বেড়ে ওঠার পরিবেশ , পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং বৈবাহিক সম্পর্ক কাজের পরিবেশ এবং আরো অনেক আর্থসামাজিক কারণ জড়িত। এই ইনভারমেন্টাল অ্যান্ড জেনেটিক ফ্যাক্টরের উপর ডিপেন্ড করে একজন ব্যক্তি ডিপ্রেসড হবেন কিনা!! তবে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ডিপ্রেশনে ভোগার সম্ভাবনা বেশি থাকে due to defective emotional defense system ...

প্রশ্ন 4: আমি ডিপ্রেশনে ভুগছি কিনা বোঝার উপায় কি?
👉👉বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিপ্রেশনের রোগী নিজেই বুঝতে পারে তার নিজের মধ্যে কোন সমস্যা চলমান রয়েছে, সুতরাং কারো মধ্যে যদি ডিপ্রেশনে উপরোক্ত লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে বিদ্যমান থাকে তাহলে তার একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যত দ্রুত ডিপ্রেশনের ডায়াগনোসিস এন্ড ট্রিটমেন্ট করা যায় ততই এর আউটকাম ভালো।

প্রশ্ন 5: আমি ডিপ্রেসড !! এখন আমি কি করব???
👉👉প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে ডিপ্রেশন একটি খুবই কমন রোগ এবং বর্তমান স্ট্রেসফুল লাইফ স্টাইলে ডিপ্রেশন কম্মনলি হতে পারে। আমরা যেমন নানা রকম শারীরিক রোগের চিকিৎসা নেই তেমনিভাবে আমাদের মনের রোগের চিকিৎসা নিতে হবে। এবং চিকিৎসার মাধ্যমে ডিপ্রেশনে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তাই ডিপ্রেশনকে নিয়ে কোন রকম মানসিক গ্লানিতে না ভুগে প্রফেশনালের হেল্প নিন।।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসা :

১. মৃদু ডিপ্রেশনের জন্য উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে cognitive behavior therapy ...
২. মাঝারি এবং তীব্র ডিপ্রেশনে জন্য antidepressants medications and cognative behavior therapy দুটোই প্রয়োজন...

🔴 ডিপ্রেশনের রোগীর সাথে যে কাজগুলো করবেন না-
📌 " মন খারাপ সবারই হয় এগুলো কোন ব্যাপার না"
📌 " আমার জীবনেও অনেক কষ্ট , কই আমিতো ডিপ্রেসড না!?"
📌 " কত মানুষ তোর চেয়েও বেশি কষ্টে আছে তাদের কথা ভাব"

উপরোক্ত, সকল প্রশ্নের জবাব একটাই ,ভাই থামেন !!! সবার শারীরিক শক্তি যেমন সমান নয় , তেমনি মানসিক শক্তিও সমান নয়, তাছাড়া প্রত্যেকের জেনেটিক এবং এনভারমেন্টাল ফ্যাক্টর আলাদা সুতরাং প্রত্যেকের চিন্তার ধরন ও প্রকৃতি আলাদা। সুতরাং, সব ব্যাপারে কম্পারিজন বাদ দিন। ।

🔴🔴যেসব আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ উপদেশ, কিন্তু ডিপ্রেশন রোগীর জন্য তা ক্ষতিকর!

👉" চল দোস্ত ঘুরে আসি, মুভি দেখি , লাইফটাকে ইনজয় করতে শেখ"  স্বাভাবিক মন খারাপের জন্য এটি কার্যকরী হলেও ডিপ্রেশনে রোগীর জন্য এটি ক্ষতিকারক, কারণ সে ভাবে সবাইতো জীবনকে উপভোগ করে! কিন্তু, আমি পারিনা কেন???

👉 "দোস্ত তোর পরিবার, বাবা-মার কথা ভেবে পড়াশোনা/ কাজ কর" এই ধরনের উপদেশ বারবার দিলে পেশেন্টের মনে negative reinforcement হয়। অর্থাৎ , সে ভাবতে থাকে সবাই আমাকে ভালবাসে কিন্তু, বিনিময়ে আমি কাউকে কিছুই দিতে পারছিনা সুতরাং এই জীবন রাখা অর্থহীন।

পরিশেষে,
🔴🔴🔴 "ডিপ্রেশন এবং আত্মহত্যা " ---

যখনই আমরা কারো আত্মহত্যার খবর শুনি, আমরা তখন নানা রকম পজিটিভ এবং নেগেটিভ way তে judge করি,কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের সুস্থ মস্তিষ্কে আমরা যেরকম চিন্তা করতে পারি, একটি depressed brain সেভাবে চিন্তা করতে পারে না। সুতরাং, severely depressed patient কে antidepressants drug এবং methodical counseling না করে নিজের ইচ্ছা মত উপদেশ দিয়ে, ধর্মীয় দোহাই দিয়ে অথবা অন্যভাবে জোরজবরদস্তি করে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব না । ব্যাপারটা তুলনা করার জন্য মনে করুন, একজন মানুষের দুটো চোখই অন্ধ , এরপরে আপনি তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর চিত্রকর্মটি এনে দেখান তবুও সে সেটিকে কালোই দেখবে। ঠিক তেমনিভাবে severe depression এ আমাদের ব্রেইনে চিন্তা করার জন্য যে অংশটি দায়ী ( pre frontal cortex) সেটি কাজ করে না। সুতরাং আপনি বাইরে থেকে তাকে যতই বুঝান সেটি কার্যকরী হয় না।

📌📌পাদটীকা: ডিপ্রেশন একটি বিশাল বড় টপিক শুধুমাত্র একটি লেখায় তার পরিব্যক্তি বোঝানো সম্ভব নয় । যাইহোক, depression, anxiety disorder and stress Management এসব কিছুর জন্য দরকার regular mental hygiene practice করা। গত শতকের শেষের দিকে health hygiene practice আমাদের জীবনকে রোগমুক্ত এবং দীর্ঘায়িত করেছে তেমনি mental hygiene practice আমাদের এই জীবনকে উপভোগ্য করে তুলবে।


Writer: Dip Saha

Post a Comment

0 Comments

Close Menu