Advertisement

বায়ান্নর দিনগুলো-শেখ মুজিবুর রহমান



🔴 লেখক পরিচিতিঃ

নাম:শেখ মুজিবুর রহমান
জীবনকাল: (১৯২০ সালের ১৭ মার্চ- ১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫)
জন্মস্থল : গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায়
পিতা:শেখ লুৎফর রহমান
মাতা: সায়ারা খাতুন
শিক্ষাজীবন: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যোগদান করেন।
★ ১৯৭০ সালের তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
★ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার। গ্রেফতারের আগে ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন।
★ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ
★ প্রথম বাঙালি হিসেবে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে বাংলায় ভাষন
★ ১৯৭৩ সালে জুলি কুরি পদকে ভূষিত হন
★ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা উত্থাপন করেন
★ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি ও জাতির জনক

🔴গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদিঃ

🔹জেল সুপারিন্টেনডেন্ট আমীর হোসেন
🔹ডেপুটি জেলার মোখলেসুর রহমান
🔹জেল পরিবর্তন করে মুজিবকে পাঠানো হয় ফরিদপুর জেলে
🔹ফরিদপুরে যাওয়ার জন্য এগারোটায় নারায়ণগঞ্জ থেকে জাহাজ ছাড়ে
🔹পাকিস্তান হওয়ার আগে সুবেদার গোপালগঞ্জে ছিলেন
🔹সুবেদার একজন বেলুচি ভদ্রলোক
🔹গোয়ালন্দ থেকে রাত চারটায় ফরিদপুর পৌছায়
🔹ঔষধ খেয়ে মুজিব অনশন শুরু করল
🔹অনশনের দুইদিন পর অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়
🔹মহিউদ্দিন প্লুরিসিস রোগে আক্রান্ত হয়
🔹চারদিন পর নাক দিয়ে জোর করে খাবার খাওয়ানো হয়
🔹মুজিব ফুড ভ্যালু না থাকায় কাগজি লেবু খেত
🔹নারায়ণগঞ্জে খানসাহেব ওসমান আলীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারা হয়
🔹সমগ্র ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে এক ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি হয়
🔹সিভিল সার্জন দিনে ৫-৭ বার মুজিবকে দেখতে আসতেন
🔹ডেপুটি জেলার মুজিবের মুক্তির অর্ডার পড়ে শোনান
🔹ডাক্তার সাহেব ডাবের পানি আনালেন
🔹মুজিবের বাবার সহ্যশক্তি খুব বেশি
🔹রেণু অনেক চাপা স্বভাবের
🔹মুজিবের মৃত্যুর আশঙ্কায় সিভিল সার্জনের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল
🔹একজন কয়েদি মুজিবের হাতে পাশে তেল মালিশ শুরু করল
🔹বাহাদুর শাহ পার্কের পূর্ব নাম ভিক্টোরিয়া পার্ক
🔹দিন দশেক পরে মুজিবকে শুধু বিকেলবেলা হাটার অনুমতি দিল
🔹খান সাহেব ওসমান আলীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ
🔹খান সাহেব ওসমান আলী আইন সভার এমএলএ ছিলেন
🔹মুজিবের ছোট ভাই নাসের
🔹রাতে মুজিব ও মহিউদ্দিন গোয়ালন্দ ঘাটে পৌছাল
🔹মহিউদ্দিন একজন রাজনীতিবিদ
🔹মহিউদ্দিন ১৯৭৯-১৯৮১ কালপর্বে জাতীয় সংসদে বিরোধীদদলীয় উপনেতা ছিলেন
🔹পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের লোকদের বেলুচি বলা হয়
🔹গনআজাদী লীগ নেতা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ

🔴গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক লাইনঃ

💠 "বেশি জোরে চালাবেন না, কারণ বাবার কালের জীবনটা যেন রাস্তায় না যায়।"- বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিনকে যখন ফরিদপুর জেলে স্থানান্তর করা হচ্ছিল তখন নিজের সহকর্মীদের এই খবর জানানোর জন্য বঙ্গবন্ধু কালক্ষেপণ করছিলেন এবং নিজের আশে পাশে নিজের সহকর্মীদের খুজছিলেন। তাই তিনি ট্যাক্সিওয়ালাকে বেশি জোরে গাড়ি চালাতে নিষেধ করেন। এতে তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রমাণিত হয়।

💠 " মরতে দেব না।"- অনশন ধর্মঘটে বঙ্গবন্ধু এবং মহিউদ্দিনের অবস্থা খারাপ হলে, কর্মকর্তারা তাদের নাক দিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। তাদের কথা হলো, যেকোন মতে তাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ, তাদের মৃত্যু হলে, পুরো বাংলায় তুমুল আন্দোলন শুরু হবে।

💠 "মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে।"- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে মিছিলরত ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানোয় সারা দেশে আন্দোলনের প্রকোপ বেড়ে যায়। যা পরবর্তীতে নুরুল আমীন সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো যে অপরিনামদর্শিতার কাজ হয়েছে, সেটি বোঝানো হয়েছে।

💠 "অনেক লোক আছে, কাজ পড়ে থাকবে না।"- অনশন ধর্মঘটরত অবস্থায় যদি শেখ মুজিবের মৃত্যুও হয় তাও তাতে উনার কোন আক্ষেপ নেই। তার বিশ্বাস তার এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। কেও না কেও তার স্থানে এসে তার দায়িত্ব পালন করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

💠 " শাসকরা যখন শোষক হয় অথবা শোষকদের সাহায্য করতে আরম্ভ করে তখন দেশের ও জনগণের মঙ্গল হওয়ার চেয়ে অমঙ্গলই বেশি হয়।"- প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজদের শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে যখন ১৯৪৭ সালে আমরা নিজেদের স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই তখন পাকিস্তান আমাদের তাদের কাছে পরাধীন রাখতে চায়। তারাও হয়ে ওঠে ব্রিটিশদের মতো শাসকের নামে শোষক। ফলে আমাদের উন্নতির চেয়ে পশ্চাৎপদতা বা অধিকারহরণই বেশি হয়।

🔴শব্দার্থ ও টীকাঃ

অনশন ধর্মঘট -কোন ন্যায্য দাবী পূরণের লক্ষ্যে একটানা আহার বর্জনের সংকল্প।

সুপারিন্টেন্ডেন্ট -তত্ত্বাবধায়ক (Superintendent)

মহিউদ্দিন -মহিউদ্দিন আহমদ (১৯২৫-১৯৯৭)।রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পূর্বে ও পরে প্রায় সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে দীর্ঘকাল কারাভোগ করেন তিনি ১৯৭৯-১৯৮১ কালপর্বে তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ছিলেন।

প্লুরিসিস-বক্ষব্যাধি

আমলাতন্ত্র-রাষ্টীয় প্রশাসনে সরকারি কর্মচারীদের কর্তৃত্বমূলক ব্যবস্থা।

খান সাহেব ওসমান আলী - নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৎকালীন বিশিষ্ট নেতা।তিনি আইন সভার সদস্য (এমএলএ) ছিলেন।

খোন্দকার মোশতাক আহমেদ- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংগঠক ১৯৭৫ এ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে মর্মান্তিক হত্যায় ষড়যন্ত্র, গোপন সমর্থন ও সহায়তার জন্য নিন্দিত।

ছোট ভাই- বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ ভ্রাতা শেখ নাসের।

হাচিনা,হাচু- বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্য সন্তান শেখ হাসিনা।

কামাল- বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্য পূত্র শেখ কামাল।

প্রকোষ্ঠ-ঘর বা কুঠুরি।

রেডিওগ্রাম-বেতারবার্তা(Radiogram)

🔴রচনার উৎসঃ

প্রবন্ধটি বঙ্গবন্ধুর "অসমাপ্ত আত্মজীবনী" (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত। বন্ধুবান্ধব,সহকর্মী ও সহধর্মিনীর অনুরোধে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সেন্ট্রাল জেলে থাকাকালীন আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন। ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি আগরতলা মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে থাকা কালীন আত্মজীবনী লেখা বন্ধ রাখেন। জীবনীতে ১৯৫৫ সালের ঘটনাবলি স্থান পেয়েছে।

🔴 মুলভাবঃ

'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা,গভীর উপলব্ধি ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষন তিনি এ গ্রন্থ তুলে ধরেছেন জাতির পিতা। বায়ান্নর দিনগুলো রচনায় ১৯৫২ সালের বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন ও জেল থেকে মুক্তি লাভের স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। স্মৃতিপটে বর্ণিত হয়েছে ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তান সরকারের অবিচার এবং বাঙালির সাহসিকতা।


মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Post a Comment

0 Comments

Close Menu