Advertisement

কীভাবে শেষ হয়ে গেল আমাদের জাহাজ-নির্মাণ শিল্প?



  • ১৬১৫ সালেই ক্রমওয়েল-এর বিখ্যাত ‘নেভিগেশন অ্যাক্ট’ পাশ হয়, যার সারকথা ছিল:

‘এশিয়া বা আমেরিকার কোনো মাল, বা পণ্য বা শিল্পদ্রব্য বা উৎপাদন ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড-আমেরিকার কলোনিতে ঢুকবে না। যদি না সেটা বৃটেন-নির্মিত জাহাজ হয়, বৃটিশ মালিকের জাহাজ হয়, আর ক্যাপ্টেনসহ ৭৫% নাবিক বৃটিশ নাগরিক হয়’। মজা না? মানে অন্যদেশের জাহাজ মাল নিয়ে ঢুকতেই পারবে না। এখন মুক্তবাজার অর্থনীতির গান শোনাতে এসেছে।

আচ্ছা, এর ২০০ বছর পর কাঠের জাহাজের স্থান দখল করে নিল বাষ্পচালিত ইস্পাতের জাহাজ। তখন হ্যারা কনফিডেন্ট হয়ে এই আইন অফ করে দিল। এরপরই বুঝতে পারল যে, বিরাট ভুল হয়ে গেছে। ১৮৩৯-১৮৫৭ সালের মধ্যে গোটাবিশেক লোহার জাহাজ নামায়ে ফেলল বোম্বে ডকইয়ার্ড। টেকনোলজি কি আর চাপা থাকে?

  • Taylor’s history of India, p216 থেকে William Digby কোট করেন:
The arrival in the port of London of Indian produce in Indian built ships created a sensation among the monopolists which could not have been exceeded if a hostile fleet had appeared in the Thames. The ship-builders of the port of London took the lead in raising the cry of alarm; they declared that their business was on the point of ruin, and that the families of all the shipwrights in England were certain to be reduced to starvation.
লন্ডন বন্দরে ইন্ডিয়ান পণ্য নিয়ে ইন্ডিয়া-মেড জাহাজ ঢুকতেই একচেটিয়া জাহাজনির্মাতাদের মধ্যে হাউকাউ শুরু হয়ে গেল। যেন শত্রুবাহিনীর নৌবহর ঢুকে পড়েছে টেমস নদে। এই শোরগোলের নেতৃত্বে ছিল জাহাজ-নির্মাতারা। তারা ঘোষণা করল যে, তাদের ব্যবসা এবার লাটে উঠবে। ইংল্যান্ডের সব জাহাজশিল্পীদের বালবাচ্চা এইবার নিশ্চিত না খেয়ে মরল বলে! [1]
অতএব, অবিলম্বে হিন্দুস্তান থেকে জাহাজ আমদানি বন্ধ করা হোক। এবং হিন্দুস্তানি মাঝিমাল্লাদেরও চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হোক। কেননা, তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় টেকা সম্ভব না। এ ছাড়া তাদের চোখেও আমরা হেয় হয়ে যাব, যখন তারা আমাদের হারিয়ে দেবে। [2]
শ্রমিকদের এ আন্দোলনের ফলে ১৮১৪ সালে বৃটিশ সরকার আবার আইন করে দিল:

‘ভারতীয় নাবিকরা যদিও বৃটিশরাজেরই প্রজা, তারপরও তাদেরকে বৃটিশ নাবিক হিসেবে গণ্য করা হবে না। এমনকি বৃটিশ কোনো জাহাজেও যদি ৭৫% নাবিক বৃটিশ না হয়, সেটাকে ক্রোক করা হবে। আর লন্ডন বন্দরে এমন কোনো জাহাজ ঢুকবে না, যার মালিক বৃটিশ না’।


  • এদিকে ইস্ট ইন্ডিয়া সরকার ভারতে কিছু পলিসি নিল। শুল্ক পার্থক্য তৈরি করে আইন করল ফোর্ট উইলিয়াম ১৮১১ সালে। বৃটিশ জাহাজ দেবে ৭.৫% আর নন-বৃটিশ জাহাজ দেবে ১৫% শুল্ক। মূলত ফ্রেঞ্চ আর ডাচ জাহাজের জন্য এটা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রতিবাদ করে আইনের বাইরে চলে গেল, বাকি রইল শুধু ভারতীয় জাহাজ। ১৮৭৫ সাল পর্যন্ত আইনটা চলল, ধ্বংস হয়ে গেল আমাদের বোম্বে শিপইয়ার্ড। [3]

William Digby লিখলেন ১৯০১ সালে:
The ancient occupations of the people on the sea and the land have been destroyed. The ships which now carry India’s coastwise trade and steamers, are built in Britain. We are literally draining India dry.
সাগরে ও ভূমিতে মানুষের প্রাচীন পেশাগুলো ধ্বংস হয়ে গেল। ইন্ডিয়ার উপকূলে বাণিজ্য জাহাজ আর স্টীমারগুলোও আজ বৃটিশ-নির্মিত। আমরা আক্ষরিকভাবেই ইন্ডিয়াকে শুষে ছিবড়ে বানিয়ে দিচ্ছি।


রেফারেন্স:
[1] William Digby, prosperous british india. P 84
[2] নকশে হায়াত, হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.
[3] Cynthia Deshmukh, THE RISE AND DECLINE OF THE BOMBAY SHIP-BUILDING INDUSTRY, 1736—1850, Proceedings of the Indian History Congress
Vol. 47, VOLUME I (1986), pp. 543-547

Writer: Shamsul Arefin Shakti

Post a Comment

0 Comments

Close Menu