Advertisement

অনুপাত বিশ্লেষণ

"পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি বিষয়ের তুলনামূলক সম্পর্কের সংখ্যাগত পরিমাপকে অনুপাত বলে।"

অনুপাতকে শতকরা হারের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়।

♻️তারল্য অনুপাতসমূহঃ
এই অনুপাত গুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের তারল্য বা দায় পরিশোধ ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।
১. চলতি অনুপাতঃ
=চলতি সম্পত্তি ÷ চলতি দায়

[ এ অনুপাত প্রতিষ্ঠানের চলতি দায় পরিশোধের ক্ষমতা পরিমাপ করে]

২. ত্বরিত/দ্রুত/এসিড টেস্ট অনুপাতঃ
= ত্বরিত সম্পদ÷ ত্বরিত দায়

★ত্বরিত সম্পদ= চলতি সম্পদ - অগ্রিম ব্যয় – মজুদ পন্য
★ত্বরিত দায়= চলতি দায় - ব্যাংক জমাতিরিক্ত
[ এই অনুপাত প্রতিষ্ঠানের চলতি দায় পরিশোধের তাৎক্ষণিক ক্ষমতা পরিমাপ করে ]

৩. চলতি/কার্যকরী মুলধন অনুপাতঃ
= কার্যকরী মূলধন - চলতি দায়

★কার্যকরী মূলধন= চলতি সম্পদ - চলতি দায়
[এই অনুপাতটি চলতি অনুপাতের বিকল্প হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ চলতি দায় পরিশোধের ক্ষমতা পরিমাপ করে ]

অনুপাত বিশ্লেষণ


♻️ সক্রিয়তার অনুপাতসমূহঃ
এই অনুপাতগুলো প্রতিষ্ঠানের সক্রিয়তা বা প্রতিষ্ঠান তার বিনিয়োগকৃত সম্পত্তি কতটুকু সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে তা মূল্যায়ন করে।
১. দেনাদার আবর্তন অনুপাতঃ
= নীট ধারে বিক্রয় ÷ গড় দেনাদার

★নীট ধারে বিক্রয়= (নীট বিক্রয়- নগদ বিক্রয়)
অথবা,
(সমাপনী দেনাদার + দেনাদারের নিকট থেকে আদায় – প্রারম্ভিক দেনাদার)
★গড় দেনাদার= (প্রারম্ভিক দেনাদার + সমাপনী দেনাদার) ÷ ২
[প্রতিষ্ঠান তার দেনাদার নামক সম্পত্তি কতটুকু সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে তা মূল্যায়ন করে এই অনুপাতটি]

২. মজুদ আবর্তন অনুপাতঃ
= বিক্রীত পন্যের ব্যয় – গড় মজুদ

★বিক্রিত পন্যের ব্যয়= (নীট বিক্রয় – মোট লাভ)
অথবা,
(প্রারম্ভিক মজুদ + ক্রীত পন্যের ব্যয় – সমাপনী মজুদ)
★গড় মজুদ = (প্রারম্ভিক মজুদ + সমাপনী মজুদ) ÷ ২

[ প্রতিষ্ঠান তার মজুদ পন্য নামক সম্পত্তি কতটুকু সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে তা মূল্যায়ন করে এই অনুপাত ]

৩. সম্পত্তি আবর্তন অনুপাতঃ
= নীট বিক্রয় ÷ গড় সম্পত্তি

★ নীট বিক্রয়= বিক্রয় – বিক্রয় ফেরত – বিক্রয় বাট্টা
★ গড় সম্পত্তি= (প্রারম্ভিক সম্পত্তি + সমাপনী সম্পত্তি) ÷ ২

[ বিক্রয় সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠান তার বিনিয়োগকৃত সম্পত্তি কতটুকু সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে তা মূল্যায়ন করে অনুপাতটি]

🔹বিঃদ্রঃ সম্পত্তি আবর্তন অনুপাতকে অনেক হিসাববিজ্ঞানী " উপার্জন (মুনাফা অর্জন) ক্ষমতার অনুপাত" হিসেবে গন্য করেন।

উপার্জন (মুনাফা অর্জন) ক্ষমতার অনুপাতসমূহঃ
এই অনুপাতগুলো প্রতিষ্ঠানের উপার্জন ক্ষমতা পরিমাপ করে অর্থাৎ দক্ষতা পরিমাপ করে।

১. মোট মুনাফার অনুপাতঃ
= মোট মুনাফা ÷ নীট বিক্রয়

[ এটি বিক্রয়ের উপর মোট মুনাফার আনুপাতিল হার প্রকাশ করে]

২. নীট মুনাফার অনুপাতঃ
= নীট মুনাফা ÷ নীট বিক্রয়

[ এটি বিক্রয়ের উপর নীট মুনাফার আনুপাতিক হার প্রকাশ করে]

৩. সম্পত্তির উপর উপার্জন হারঃ
= নীট মুনাফা ÷ গড় সম্পত্তি

[ এই অনুপাত টি কতটুকু সম্পদ বিনিয়োগ করে কি পরিমান মুনাফা অর্জন করে তার অনুপাত মূল্যায়ন করে ]

৪. মালিকানাস্বত্বের উপর মুনাফার হারঃ
= নীট মুনাফা ÷ গড় মালিকানা স্বত্ব

[ এটি মালিকানা স্বত্বের উপর মুনাফা অর্জন ক্ষমতা পরিমাপ করে ]

৫. শেয়ারহোল্ডারদের প্রদেয় অনুপাতঃ
= নগদ লভ্যাংশ ÷ নীট মুনাফা

[ এই অনুপাত টি নগদ লভ্যাংশ আকারে বন্টিত মুনাফার আনুপাতিক হার পরিমাপ করে]

স্বচ্ছলতার অনুপাতসমূহঃ
যে অনুপাত গুলো প্রতিষ্ঠানের ঋণ/দায় পরিশোধের ক্ষমতা পরিমাপ করে তাই স্বচ্ছতার অনুপাত।

১. দায়/ ঋণ-সম্পত্তি অনুপাতঃ
= মোট দায় ÷ মোট সম্পত্তি

[ এই অনুপাতটি পাওনাদার কতৃক সরবরাহকৃত সম্পত্তির হার পরিমাপ করে বা সম্পত্তির উপর পাওনাদারের দাবির হার পরিমাপ করে]

২. ঋণ-মূলধন অনুপাতঃ
= মোট দায় ÷ মোট মালিকানা স্বত্ব

[ এটি পাওনাদারদের দাবি ও মালিকের দাবির আনুপাতিক হার প্রকাশ করে]

এই টপিক থেকে যেমন প্রশ্ন হবে,
★কোনটি কি অনুপাত
★অনুপাতের সূত্র
★ছোট ম্যাথ

এই ছিল এই অধ্যায়ের বিস্তারিত। ভালো করে পড়ে নিও। 

"সবার জন্য শুভকামনা রইলো"

মারুফ হোসেন

মার্কেটিং বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Post a Comment

0 Comments

Close Menu