Advertisement

দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাবরক্ষণ

আজ আমরা আলোচনা করবো দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাবরক্ষণ বা অবচয় নিয়ে। ভালো করে পড়ে নিও, পড়লেই পড়া হয়ে গেলো। চলো শুরু করা যাক..

♻️অবচয় হলো ব্যয় বন্টন প্রকৃয়া। এটি সাধারণত ধার্য করা হয়ে থাকে স্থায়ী সম্পদের উপর। আর দীর্ঘমেয়াদের ভিত্তিতে ব্যবসায়ে ব্যবহৃত সম্পদই হচ্ছে স্থায়ী সম্পদ। যেমনঃ আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, ভূমি, দালানকোঠা, সুনাম, ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট ইত্যাদি।

অদৃশ্যমান সম্পদের ব্যয় বন্টনের জন্য অবলোপন ধার্য করা হয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যয় বন্টনের জন্য শূন্যীকরণ/নিঃশেষকরণ ধার্য করা হয়।
দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদ



অস্তিত্বের উপর ভিত্তি করে স্থায়ী সম্পদকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
১. দৃশ্যমান স্থায়ী সম্পদঃ যেসব স্থায়ী সম্পদ বাস্তবে দেখা যায়, ধরা যায়, ছোঁয়া যায় সেসব সম্পদকে দৃশ্যমান স্থায়ী সম্পদ বলে। যেমনঃ দালানকোঠা, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, ভূমি ইত্যাদি।

২. অদৃশ্যমান স্থায়ী সম্পদঃ যেসব স্থায়ী সম্পদ স্পর্শ করা যায় না কিন্তু ক্রয় করা হয়েছে বলে এর মধ্যে স্থায়ী সম্পদের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে তাকে অদৃশ্যমান স্থায়ী সম্পদ বলে। যেমনঃ সুনাম, ট্রেডমার্ক, কপিরাইট, প্যাটেন্ট।

♻️অবচয় ধার্যের কারণঃ
অবচয় হলো কোন সম্পদের কার্যকরী আয়ুষ্কালের মধ্যে ব্যবহারযোগ্য ব্যয়ের একটি পরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিক বন্টন প্রকৃয়া। মূলত স্থায়ী সম্পদের ক্রয়মূল্যকে এর ব্যবহারিক জীবনকালের মধ্যে বন্টন করার উদ্দেশ্যেই এ অবচয় ধার্য করা হয়। IAS-16 এ বলা আছে, অবচয় নির্ধারণে ২টি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যেমনঃ ভগ্নাবশেষ মূল্য ও অবচয়যোগ্য মূল্য( সম্পদের ক্রয়মূল্য - ভগ্নাবশেষ মূল্য)।

♻️ অবচয় ধার্যের পদ্ধতিসমূহঃ
IAS-16 এর ৬২ প্যারায় অবচয় নির্ধারণের ৩ টি পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। তা হলো,

◼️১. সরলরৈখিক পদ্ধতিঃ
যে পদ্ধতিতে প্রতিবছর সমপরিমান অবচয় ধার্য করা হয় তাকে সরলরৈখিক পদ্ধতি বলে। এ পদ্ধতিতে অবচয় নির্ধারণে ৩ টি বিষয় বিবেচনা করা হয়, ক) সম্পত্তির ক্রয়মূল্য, খ) আনুমানিক আয়ুষ্কাল, গ) ভগ্নাবশেষ মূল্য।

এ পদ্ধতিতে অবচয় নির্ধারণের সূত্র,

অবচয় = (ক্রয়মূল্য–ভগ্নাবশেষ মূল্য)÷আয়ুষ্কাল

অথবা,
অবচয় = অবচয়যোগ্য মূল্য × অবচয়ের হার।

[অবচয়ের হার = ১০০% ÷ আয়ুষ্কাল ]

◼️২.ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিঃ
যে পদ্ধতিতে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় পরবর্তী বছর কম অবচয় ধার্য করা হয়, তাকে ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি বলে।

এ পদ্ধতিতে অবচয় ধার্যের সময় সম্পদের ভগ্নাবশেষ মূল্য বাদ দিতে হয় না। প্রতিবছর বহিঃমূল্যের উপর নির্দিষ্ট হারে অবচয় ধার্য করা হয়।

নির্দিষ্ট বছরের অবচয় = নির্দিষ্ট বছরের শুরুতে সম্পদের বহিঃমূল্য × অবচয়ের হার।
[বহিঃমূল্য = ক্রয়মূল্য – পুঞ্জীভূত অবচয়]
বিঃদ্রঃ অবচয়ের হার নির্ধারণের নিয়ম টা বই থেকে দেখে নিও।

আমেরিকান হিসাববিজ্ঞানে ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করার ক্ষেত্রে সাধারণত সরলরৈখিক পদ্ধতির দ্বিগুণ হারে অবচয় ধার্য করা হয়ে থাকে।

◼️৩. উৎপাদন একক পদ্ধতিঃ
এই পদ্ধতিতে একটি স্থায়ী সম্পদ অনুমিত আয়ুষ্কালের মধ্যে যে পরিমান একক উৎপাদনে সক্ষম ঐ উৎপাদিত এককের উপর অবচয়যোগ্য মূল্য বন্টন করে এককপ্রতি অবচয় নির্ণয় করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন ইত্যাদির অবচয় ধার্য করা উত্তম।

অবচয় নির্ধারণের সূত্রঃ

এককপ্রতি অবচয়ের হার = (ক্রয়মূল্য – ভগ্নাবশেষ মূল্য) ÷ মোট উৎপাদন একক

বার্ষিক অবচয় = এককপ্রতি অবচয় হার × বার্ষিক উৎপাদন একক

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি রয়েছে তা হলো,

♻️ দ্বিগুণ ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিঃ
সরলরৈখিক পদ্ধতিতে নির্ণীত অবচয় হারের দ্বিগুণ হারে ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করলে তাকে দ্বিগুন ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি বলে।

অবচয় হার নির্ধারণের সহজ সূত্র,
অবচয় = (১০০% ÷ আয়ুষ্কাল) × ২

♻️বর্ষ সংখ্যার যোগফল পদ্ধতিঃ
এই পদ্ধতিতে নতুন অবস্থায় সম্পদের উপর বেশি হারে অবচয় ধার্য করা হয়ে থাকে।

অবচয় নির্ধারণের সূত্র,

বার্ষিক অবচয় = {(অনুমিত আয়ুষ্কাল – অবশিষ্ট বছর সংখ্যা) ÷ মোট বর্ষের সমষ্টি } × (ক্রয়মূল্য – ভগ্নাবশেষ মূল্য)

অথবা,

বার্ষিক অবচয় = অবচয়যোগ্য মূল্য × (অবশিষ্ট বছর ÷ বর্ষ সংখ্যার সমষ্টি)

বর্ষ সংখ্যার সমষ্টি = N(N+1) ÷ 2
অবশিষ্ট বছর = N-(T-1)
N= আয়ুষ্কাল
T= যত বছর ব্যবহার করা হয়েছে

🌀এই পদ্ধতি গুলোর উপর এক্সামে কিছু ম্যাথ থাকবে। যেমনঃ যেকোন একটি পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করা।

♻️কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
🔹 Depreciation শব্দটি এসেছে — ল্যাটিন শব্দ "Depertium" থেকে।

🔹অবচয় কে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো হয় — পরিচালন ব্যয় হিসেবে।

🔹অনগদ খরচ — অবচয়।

🔹স্থায়ী সম্পদকে বলা হয় — পরিসম্পদ।

🔹স্থায়ী সম্পদের ক্রয়মূল্য থেকে অবচয় বাদ দিয়ে দেখানো হয় — চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণা অনুযায়ী।

🔹বিমাকৃত স্থায়ী সম্পদ লিপিবদ্ধ করা হয় — বাজারমূল্যে।

🔹সরলরৈখিক পদ্ধতির আরেক নাম — স্থির কিস্তি পদ্ধতি।

🔹সুদসহ সম্পদের ক্রয়মূল্যের উপর অবচয় ধার্য করা হয় — বার্ষিক সমকিস্তি পদ্ধতিতে।

🔹ভগ্নাবশেষ মূল্য বিবেচিত হয় না — ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে।

🔹কলকব্জা, দালানকোঠা ও আসবাবপত্র ইত্যাদির জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি — ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি।

🔹ইজারা সম্পত্তি, প্যাটেন্ট, গ্রন্থস্বত্ব ইত্যাদির জন্য উপযুক্ত — সরলরৈখিক পদ্ধতি।

🔹বাংলাদেশে কপিরাইটের মেয়াদ — ৪০ বছর।

🔹যানবাহনের উপর অবচয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে উপযোগী — মাইল হার পদ্ধতি।

🔹পুঞ্জিভূত অবচয় একটি — বিপরীত সম্পদ হিসাব।

এই ছিল এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট করে জানাও। এছাড়া যেকোনো কিছু জানার থাকলেও কমেন্ট করে জেনে নাও..

"সবার জন্য শুভকামনা রইলো, 
🌿

Maruf Hossain Munna
Instructor of Accounting
Executive of SILSWA

Department of Marketing
University of Dhaka

Post a Comment

0 Comments

Close Menu