Advertisement

বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে কেন সাহিত্য পড়বেন

Science and novel


১।

বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের নাম নাইন্টিন এইটি ফোর। উনিশশ' চুরাশি।

ভদ্রলোক উপন্যাসটা লিখেছিলেন আজ থেকে সত্তর বছর আগে। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর রাজনীতি সমাজনীতি রাষ্ট্রদর্শন বিষয়ক আলোচনা বা ডিসকোর্সে এই বইয়ের প্রভাব অনেক। তার একটা প্রমাণ হল লেখকের নাম থেকে ইংরেজিতে একটা শব্দ এসেছে- অরওয়েলিয়ান। সমাজ-সংস্কৃতির একটা বিশেষ অবস্থা যখন নাইন্টিন এইটিফোরের জগতের সাথে মিলে যায়, তখন আমরা সেটাকে বলি অরওয়েলিয়ান। এরকম উদাহরণ বাংলায় আছে বলে আমি জানিনা। রাবীন্দ্রিক বলতে আমার জানামতে শুধু রবিবাবুর সাহিত্যকর্মকেই বোঝানো হয়, সমাজ বা দর্শনের অন্য কোন ধারণাকে নয় (রাবীন্দ্রিক সাজ কথাটা বোধহয় ব্যতিক্রম)।

বইটার কাহিনীর পটভূমি উনিশশ' চুরাশি সালের কল্পিত ইংল্যান্ড। এই সমাজব্যবস্থা চূড়ান্ত স্বৈরাচারী। ব্যক্তিস্বাধীনতা বা মুক্তচিন্তার কোন ধরণের সুযোগ এখানে নেই। সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে, সেখানে চব্বিশ ঘন্টা ক্ষমতাসীন দলের প্রোপাগান্ডা চলে। দেশের প্রত্যেকটা মানুষ সরকারের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে। বসতবাড়ির মধ্যে পর্যন্ত ক্যামেরা ফিট করা। বাইরের মানুষকে কিছু বলা দূরে থাক, নিজের ব্যক্তিগত ডায়রিতে কিছু লিখলেও মৃত্যুদণ্ড। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় দিক খুব সম্ভবত দেশটার স্লোগান। উনিশশ' চুরাশির ইংল্যান্ডে রাস্তার মোড়ে মোড়ে কালো গুঁফো দলনেতার বিকট পোস্টার, আর প্রতিটি পোস্টারের ওপর জ্বলজ্বলে সতর্কবাণী- বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ।

বড়দা তোমাকে দেখছেন। কাজেই সাধু সাবধান।

এই জায়গাটায় এসে অনেক জানলেঅলারাও অরওয়েলকে বুঝতে একটু ভুল করেন। তারা মনে করেন নাইন্টিন এইটি ফোরের সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এই সর্বগ্রাসী স্বৈরাচারিতা। এজন্য দেশ বিদেশের কোথাও স্বৈরাচারিতার লক্ষণ দেখা গেলেই তারা বলেন- কি একটা অরওয়েলিয়ান অবস্থা দেখ দেখি।

কিন্তু অরওয়েলিয়ান কথাটার মানে স্রেফ স্বৈরাচারিতা নয়- এরকম স্বৈরাচারের উদাহরণ বিশ্বসাহিত্যে অন্যান্য উপন্যাসেও আছে।
অরওয়েলের জগতে স্বৈরাচার কায়েমের জন্য শাসকের একটা বিশেষ উপায় আছে। বিশ্বসাহিত্যে এই উপায়ের দ্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয়ভাবে অরওয়েল। উপায়টা হল- মানুষের কথ্য ভাষার নিয়ন্ত্রণ।

ব্যাপারটা মোটামুটি এরকম। উনিশশ' চুরাশির শাসকগোষ্ঠী মানুষের মধ্যে একটা নতুন ভাষার প্রচলন করে। এই ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা খুব সরল। এই ভাষায় শব্দসংখ্যা কম, এবং প্রকাশের মাধ্যমও সীমিত। যেমন ধরুন- ইংরেজিতে থট শব্দটা বিশেষ্য, থিঙ্ক শব্দটা ক্রিয়া, আর থটফুল শব্দটা বিশেষণ। অর্থাৎ একই শব্দ বিভিন্ন পদ হিসেবে ব্যবহার করতে গেলে এর গঠনে একটু পরিবর্তন করে নিতে হয়। উনিশশ' চুরাশির ভাষায় এসব বালাই নেই- থিঙ্ক কথাটাকে বিশেষ্য বিশেষণ ক্রিয়া সব হিসেবেই ব্যবহার করা যাবে। আরেকটা উদাহরণ- বাংলায় ভাল কথাটার বিপরীত খারাপ, ঠাণ্ডার বিপরীত গরম, শক্তের বিপরীত নরম। কিন্তু অরওয়েলের শাসকগোষ্ঠী এত এত শব্দের ব্যবহার আপছন্দ করলেন না। তারা ভালর বিপরীত করলেন অভাল, ঠাণ্ডার বিপরীত অঠাণ্ডা, শক্তের বিপরীত অশক্ত। এরকম করতে থাকলে যেকোন ভাষাতেই শব্দের সংখ্যা একদম কমে যাবে। এই ব্যবস্থার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য ছিল ভাষা থেকে যাবতীয় জটিলতা ঝেঁটিয়ে বিদেয় করা।

এরকম অদ্ভূত নিয়মকানুন প্রবর্তনের মানে কী? এখানেই অরওয়েলের যুগান্তকারী অন্তর্দৃষ্টি। অরওয়েল আর তার উপন্যাসের শাসকগোষ্ঠীর মতে- মানুষের চিন্তাটাকে ধারণ করে হচ্ছে তার ভাষা। কাজেই তার ভাষাকে যদি কেটেছেঁটে সরল সোজা ছোট বানিয়ে রাখা যায়, তাহলে মানুষের চিন্তার পরিধিও কুঁকড়ে ছোট হয়ে যাবে। ফলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

এর সবচেয়ে সহজবোধ্য উদাহরণ হল ভাষাটাতে রাজনৈতিক শব্দগুলোর ব্যবহার। যেমন ধরুন, ক্ষমতাসীন সরকার বা শাসনতন্ত্র সংক্রান্ত যেকোন ভাব প্রকাশের জন্য এই ভাষায় শব্দ একটাই- গুডথিঙ্ক। অর্থাৎ চলতি ব্যবস্থার সমস্ত ব্যাপারই সৎচিন্তার মধ্যে পড়ে, এর কোন কিছুই খারাপ নয়। সরকার মানেই ভাল। ক্ষমতাসীন দল মানেই সৎ। অন্যদিকে মুক্তচিন্তা, সাম্য, অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ইত্যাদি সংক্রান্ত যাবতীয় ভাব প্রকাশের জন্য শব্দ ছিল একটাই- ক্রাইমথিঙ্ক। এখানে তারা দু'টি ব্যাপার করছেন- প্রথমত, রাজনীতির চমৎকার বর্ণিল শব্দভাণ্ডারকে এনারা শুধু ভাল বনাম খারাপের সাদাকালোতে নিয়ে আসছেন, এবং দ্বিতীয়ত, সেই সাদাকালোর সংজ্ঞায়ন করছেন তাদের স্বার্থ মত।

ক্ষমতাসীনদের হাতে ভাষার এ ধরণের সরলীকরণ বা ভিন্ন সংজ্ঞায়ন- এই ব্যাপারটাকেই বলা হয় অরওয়েলিয়ান।

অরওয়েলের কাছে স্বৈরাচার তথা মানুষের মনমানসিকতা ছোট করে রাখার যন্ত্র হিসেবে ভাষা এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, তার উপন্যাসের শেষে আলাদা করে একটা পরিশিষ্টই রাখা ছিল এই নতুন ভাষার মূলনীতিগুলো সম্পর্কে। স্বৈরাচার এবং মানুষের মানসিক দাসত্ব বুঝতে হলে তাদের সমাজের ভাষাটাকে ভালভাবে চিনতে হবে- এটা তিনি দিব্যদৃষ্টি দিয়ে দেখেছিলেন।

এই ব্যাপারটা আদৌ উপন্যাসের জগতে সীমাবদ্ধ নয়- বাস্তব জীবনে এরকম উদাহরণ অসংখ্য। যেকোন অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠী বা তাদের পোষ্য সুশীল সমাজ জটিল ব্যাপারকে সহজ ভাষায় নিয়ে আসতে বা রাতকে দিন করতে ভালবাসে। এই ব্যাপারটা অরওয়েল আবিষ্কার করেননি, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন মাত্র।

সম্ভবত এর সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ হল অরওয়েলের সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রণালয়গুলোর নামকরণ। উনিশশ' চুরাশির ইংল্যান্ডে মন্ত্রণালয়গুলোর নাম এরকম- তথ্যযোগাযোগের দায়িত্বে সত্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ভালবাসা মন্ত্রণালয় (এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ), আর অর্থনীতির দায়িত্বে প্রাচুর্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক দাঙ্গাহাঙ্গামার দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয়টা তার নাম ছিল শান্তি মন্ত্রণালয়।

আমাদের পৃথিবীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে বিভিন্ন দেশের সরকারব্যবস্থায় যুদ্ধবিগ্রহের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছুদিন পর থেকে এই নামটা আর শোনা গেল না। তার জায়গা করে নিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার হয়ে গেল মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্স।

২।

ইতিহাস পাঠক মাত্রই স্বীকার করবেন, সক্রেটিস পশ্চিমের প্রথম দার্শনিক ছিলেন না। তার আগেও গ্রীসেই গাদাগাদা দার্শনিক ছিলেন, এবং শাস্ত্রে এই প্রাক-সক্রেটিস দার্শনিকদের অবদান আদৌ কম নয়। তবুও পশ্চিমা দর্শনের গুরু হলেন সক্রেটিস। পারমেনিডেজ বা জিনো নন।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঐতিহাসিকেরা বলেন- সক্রেটিসের অর্জন ছিল দর্শন জিনিসটাকে হাটের মাঝে নিয়ে আসা। মানুষ যেভাবে গেরস্থালির তেলনুনের হিসেব আলোচনা করে, সক্রেটিস আমাদের সেভাবেই দর্শন আলোচনা করতে শিখিয়েছিলেন। আমরা শিখতে পেরেছি কিনা সেটা অন্য কথা। এই ব্যাপারটা তার আগের অন্য কোন দার্শনিক সেভাবে পারেননি।

মানুষের মনস্তত্ত্বের ওপর ভাষার প্রভাবের ব্যাপারটা আমাদেরকে শিখিয়েছেন অরওয়েল। কিন্তু তিনি এই ধারণার শিক্ষকই, প্রবক্তা নন। জ্ঞানতত্ত্ব ও সমাজবিজ্ঞান মহলে অরওয়েলের এই মতবাদ অনেক আগে থেকেই আলোচনা হয়ে আসছে। ভাষাবিদরা ভাষা এবং নৃতাত্ত্বিকরা সংস্কৃতি কাটাছেঁড়া করে এর পক্ষে বিস্তর প্রমাণ উপস্থিত করেছেন। ব্যাপারটাকে তারা চেনেন ভাষাগত আপেক্ষিকতা নামে।

এই পণ্ডিতেরা বলেন, লাল চশমা পড়লে যেমন গোটা দুনিয়াটা লাল দেখায়, তেমনি মানুষ তার চারপাশের বাস্তবতা, সমাজ-সংস্কৃতি সমস্ত কিছুকে পর্যবেক্ষণ করে তার ভাষার ফিল্টার দিয়ে। এই ভাষার ফিল্টারের প্রভাবটা যে ঠিক কতটুকু, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞমহলে দ্বিমত আছে। একদল বলেন, কারো ভাষায় কোন শব্দ নেই মানে ভাষাভাষীদের সেই ধারণাটাও নেই। কোথায় যেন পড়েছিলাম পৃথিবীর অন্য কোন ভাষায় বাংলা "পরশ্রীকাতরতা" শব্দটার কোন সমতুল নেই। তার মানে এই ব্যাপারটা এরকম পর্যায়ে পৃথিবীর অন্য কোন জাতির মধ্যেই নেই। এ ব্যাপারে বাঙালি অদ্বিতীয়। ব্যাপারটা বোধহয় হাস্যরস করে বলা- আমরা কোন কারণে জাতি হিসেবে নিজেদের হাসির পাত্র বানাতে ভালবাসি।
এটা খুব সামান্য উদাহরণ, এর চেয়ে আরো অনেক বড় বিষয় নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

এই সহস্রাব্দের গোড়ার দিকে প্রকাশিত একটা গবেষণাপত্রে লেখকেরা কোন কোন ব্যাপার পর্যবেক্ষণের ওপর ভাষার প্রভাব আছে, এই মর্মে একটা লিস্টি দিয়েছেন। লিস্টিতে কী নেই সেটাই হল প্রশ্ন- বস্তুর স্থানিক অবস্থান, সংখ্যা, গতি, সময়, আকৃতি, কোন জিনিস তৈরির উপাদান, লিঙ্গ- অর্থাৎ আমাদের জ্ঞানের ইট কাঠ পাথর বলতে আমরা যা বুঝি, প্রত্যেকটা জিনিস পর্যবেক্ষণেই আমাদের ভাষার ফিল্টার কাজ করে।
যে ব্যাপারটা জেনে আমার চক্ষু মোটামুটি চড়কগাছের ডালে উঠে গেল সেটা হল রঙ।

নামিবিয়ার একটা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ওপর একদল গবেষকের নজর পড়েছিল। বাকি পৃথিবী থেকে এরা মোটামুটি আলাদা- পশ্চিমের যাবতীয় প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে এরা নিজেদের সংস্কৃতি ঐতিহ্যের ওপরই আজ পর্যন্ত বহাল আছে। এদের ভাষা নিয়ে গবেষকেরা একটু কাঁটাছেড়া করে দেখলেন।

প্রথমে তারা যেটা লক্ষ্য করলেন, সেটা হল এই গোষ্ঠীর ভাষায় নীল বলে কোন শব্দ নেই। কিন্তু সবুজের জন্য অনেকগুলো শব্দ আছে। এটা এমনিতে খুব অস্বাভাবিক হয়ত নয়- তারা দু'টো রঙ হয়ত আলাদা বোঝে ঠিকই, কিন্তু নীলের জন্য আলাদা করে কোন নাম ঠিক করে নি। আকাশে হালকা নীল বাদে প্রকৃতিতে নীল খুব কম জায়গাতেই আছে।

তাদের ধারণা ঠিক না বেঠিক সেটা দেখার জন্য গবেষকেরা এদের একটা পরীক্ষা নিলেন। পরীক্ষাটা সাথে সাথে আপনিও নিন।

পরীক্ষাটা এরকম- গোষ্ঠীর লোকজনকে নিচের বামপাশের ছবিটা দেখিয়ে বলা হল, ব্যতিক্রম রঙের বাক্সটা বের করতে।

আপনি কি ধরতে পেরেছেন?

নামিবিয়ার সেই লোকগুলো কিন্তু পারেনি। অন্তত অত সহজে নয়। নীল আর সবুজের এত প্রচণ্ড পার্থক্য ধরতেও তাদের রীতিমত কালোঘাম ছুটে গেল।

এরপর পরীক্ষার দ্বিতীয় অংশ। নিচের ডানপাশের ছবিটার দিকে তাকান। বলুন তো অন্য রঙের বাক্স কোনটা।

নামিবিয়ার মানুষগুলো এর উত্তর মুহূর্তেই বলে দিল। আপনার কথা জানি না, আমি এখন পর্যন্ত বাক্সগুলোর রঙের কোন পার্থক্য ঠাহর করতে পারছি না। উত্তর কমেন্টে দেওয়া হচ্ছে, মিলিয়ে দেখুন।

বাস্তবতার চেহারা একেক ভাষাভাষীর কাছে একেক। নামিবিয়ার মানুষগুলো নীল বলে কোন শব্দ জানে না, তাই তাদের নীলবর্ণের ধারণাটাই সেভাবে নেই। অন্যদিকে সবুজের জন্য অনেকগুলো শব্দ জানে, কাজেই সবুজের হাজারটা অদৃশ্য রূপ তাদের চোখে ধরা পড়ে।

৩।

এবার আসুন, ঈশপের গল্পের মত নীতিকথায় আসি।

অরওয়েল যেটা দেখিয়েছেন, এই নৃতাত্ত্বিক আর ভাষাবিদরা গবেষণায় যা পেয়েছেন, সেখান থেকে একটা সহজ সত্য আপনার-আমার জীবনে কাজে লাগানো যেতে পারে। সেটা হল ভাষার গভীরতা মানে চিন্তার গভীরতা। ভাব প্রকাশের বেশি উপায় জানা মানেই আরো জটিল চিন্তা করতে পারা। দু'টোর সম্পর্ক ঠিক কতটুকু, সেটা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা চুল ছিঁড়তে থাকুন। কিন্তু সম্পর্ক যে আছে সেটা অনস্বীকার্য।

খেয়াল করে দেখবেন, অনেক পরিস্থিতি, ধারণা, আলোচনা ইত্যাদি আপনার চেয়ে আপনার বন্ধুটি আরো ভাল বুঝতে পারে বা চুলচেরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দাঁড় করাতে পারে। মানুষের এরকম ক্ষমতার পেছনে অনেক কারণ থাকে। কিন্তু একটা কারণ হতে পারে এরকম- আপনার বন্ধু এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো বেশি ভাব প্রকাশের উপায় জানে। এ কারণে সে সমস্যার এমন কিছু দিক নিয়ে চিন্তা করতে পারছে, যেটা আপনি অতটা সহসা হয়ত ধরতে পারছেন না। অনেক সময় আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়, কোন একটা বৈজ্ঞানিক বা দার্শনিক ধারণা দেখে সেখানে কিছু একটা সমস্যা যে আছে সেটা ধরতে পারি, কিন্তু সমস্যাটা ঠিক কোথায় তা মাথায় আনতে পারি না। এই ক্ষেত্রে একজন মানুষ যিনি সমস্যাটা ব্যাখ্যা করার ভাষা জানেন, তার বোধ আমার চেয়ে অবশ্যই বেশি হবে। কারণ তিনি সমস্যাটাকে কী ভাষায় প্রকাশ করতে হয় সেটা জানেন। সমাধানের ক্ষেত্রেও তিনি সাধারণের চেয়ে মুন্সিয়ানা বেশি দেখাবেন।

আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র? তবে আপনার জন্য সূক্ষ্ণদর্শিতা আর বিশ্লেষণাত্মক মনোভাব- এই দু’টো জিনিসের খুব দরকার। এগুলো ভালমত রপ্ত করার পূর্বশর্ত হল ভাব প্রকাশের দক্ষতা।

কাজেই সাহিত্য পড়ুন।

পরিশিষ্ট ও তথ্যসূত্রঃ
আমার অন্যান্য লেখার বিষয়বস্তু হয় জনস্বাস্থ্য বা অনুপ্রাণ বিজ্ঞান। সে বিষয়গুলোতে আমার কিছু গবেষণা আছে বলে একটু দখল নিয়ে কথা বলতে পারি। কিন্তু আজকের লেখার বিষয়বস্তু- ভাষাতত্ত্ব নৃতত্ত্ব দর্শন ইত্যাদি- আমি এগুলোর উৎসাহী পাঠকই, গবেষক নই। যদিও আমার সীমিত পড়ালেখামতে এসব শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে এই লেখার উপসংহার মোটামুটি গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তবুও স্বচ্ছতার স্বার্থে ব্যাপারটা জানিয়ে রাখা দরকার মনে করলাম।

নামিবিয়ার হিম্বা উপজাতির ওপরে যে পরীক্ষাগুলোর কথা বললাম, সেগুলো সবচেয়ে জোরালোভাবে এসেছে এই ডকুমেন্টে- Roberson, D., Davidoff, J., Davies, I.R. and Shapiro, L.R., 2004. Color categories: Confirmation of the relativity hypothesis.

Writer: Hassan Uz Zaman Shamol

Post a Comment

0 Comments

Close Menu