Advertisement

রঙধনু


বধূ বেসে বসে আছে ১৮ বছর কিশোরী কায়নাত আফ্রা মোহ..দীর্ঘ ৩ঘন্টা যাবত মাথায় ঘোমটা দিয়ে,ভারী সাজে আর ভারী গয়না পরে অপেক্ষা করছে তার বরের কিন্তু যার জন্য সে অপেক্ষা করছে তার আসার নাম গন্ধ নেয়।।
পুরো নাম কায়নাত আফ্রা মোহ,বাবা মা বলতে কেও নেয় তার..ছোট থেকে আশ্রমে বড় হয়েছে সে..ছোট থেকে শান্ত স্বভাবের..বাবা মায়ের অভাব বুঝতে পারলেও কখনো কারো সামনে সে প্রকাশ করে নি..নিজে টিউশানি করিয়ে নিজের পড়ালেখা সে এইচ.এস.সি পর্যন্ত টেনে নিয়ে এসেছে..
এই পরিবারের বড় ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছে মোহর..বিয়েটা হতে না হতে তার স্বামী নিরুদ্দেশ.. দেখা হয়ে উঠে নি মোহর তার স্বামীকে শুধু নামটায় শুনেছিলো তার দাদী শাশুড়ির কাছ থেকে..তার স্বামীর নাম "ফাইজান ফারিশ ফাজ" বয়স ২৮ তার আর মোহর বয়স ১৮..গুনে গুনে ১০ বছরের বড় তার স্বামী তার থেকে..এতোটুকু সে জানে..
মোহর বিয়েটা হুট করে হয়ে উঠেছে..মোহর বিয়েটা হয়েছে ঠিক এমনভাবে,
ফ্ল্যাশব্যাক,
মোহ তার প্রতিদিনের মতো টিউশানি শেষ করে বাসাই ফিরছিলো এমন সময় দেখলো এক বয়স্ক মহিলা রাস্তায় পরে আছে..সেইটার চারপাশে মানুষ ভিড় জমিয়ে পরে আছে কিন্তু কেও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছে না,হন্তদন্ত হয়ে ছুটলো সেখানে..কেও সাহায্যের করছে না অথচ দাড়িয়ে তামাশা দেখছে..মোহ একটা রিক্সা ডেকে বয়স্ক মহিলাটাকে নিয়ে সে হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা দিলো..মহিলাটিকে কেবিনে শিফট করে সব ফর্মালিটি সে পূরন করলো,আজ মাসের প্রথম তারিখে বেতন পেয়েছিলো..এইসব পূরন করতে যেয়ে তার অর্ধেক টাকা ফুরিয়ে গেলো কিন্তু মোহর সেটার মাথাব্যাথা নেয়..
"উনার বিপি লো থাকার কারনে রোদের উত্তাপে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো..এখন ঘুমের ইঞ্জেকশন দেয়া হয়েছে ঘন্টা দু এক এর মাঝে জ্ঞান ফিরবে..আপনি রোগীর কে হোন??ডাক্তার বের হয়ে জিজ্ঞেস করলো
" আসলে উনি রাস্তায় জ্ঞান হারিয়ে পরেছিলো,আমার কেও হোন না উনি"মোহ জবাব দিলো
ডাক্তার এমন উদারতা দেখে ভ্রু কুচকে চলে গেলো
একটা ফোন বাজছে অনেকক্ষন যাবত..পাশে গিয়ে দেখলো তার বয়স্ক মহিলার ব্যাগ এটা..মোহ রিসিভ করবে কিনা বুঝছে না..রিসিভ না করলে উনার বাড়ির লোক টেনশন করবে আবার..মোহ ফোন বের করে দেখলো স্ক্রিনে নাম লিখা "সুলেমান"
"হ্যালো মা কই তুমি??এতোক্ষন হয়ে গেলো আসলে না যে??ঠিক আছো তুমি??আর তুমি একা বের হয়েছো ক্যান একা??" অপরপাশ থেকে বলে উঠলো
"আসসালামুলাইকুম আঙ্কেল!!প্লিজ প্যানিক হবেন না!!আপমার মা আসলে রাস্তাতে বেহুশ হয়ে পরেছিলো,আমি উনাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি" মোহ এক নাগাড়ে বলে উঠলো মোহ
"কিহ??কোন হাসপাতাল??সুলেমান বিচলিত কন্ঠে বলে উঠলো
মোহ সব ডিটেইলস দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো উনার ফ্যামিলি আসার..এর মধ্যে নার্স এসে পেসেন্টের জ্ঞান ফিরেছে
মোহ দরজা ঠেলে কেবিনের মাঝে ঢুকলো..উনার পাশে যেয়ে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"এখন কেমন আছেন??আসলে আপনার ত বিপি লো,এইভাবে একা বের হওয়া ঠিক হয় নি আপনার..আপনার ছেলে কল করেছিলো..সরি আসলে আপনার ফ্যামিলিকে জানানো দরকার ছিলো তাই রিসিভ করে ফেলেছিলাম..আপনার ফ্যামিলিকে জানানো হয়েছে চলে আসবে কিছুক্ষনের মধ্যে" মোহ এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললো
এতোক্ষন উনি মোহর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন..উনি ইশারায় মোহকে কাছে ডাকলো...পাশে বসাতে মোহর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
"নাম কি তোমার?"
মোহ তার নাম বললো..এরপর টুকটাক অনেককিছু জিজ্ঞেস করলো মোহকে তিনি..তার মনে যে মোহকে বেশ ধরেছে তার কথায় বুঝা যাচ্ছে..
এর মধ্যে দুজন মাঝবয়সী মানুষ আসলো..
"মা আপনাকে কতবার বলেছি একা না বের হতে?? কথা কি শুনবেন না কখনো??মাঝবয়েসী মহিলাটি বলে উঠলো
" তুমি আমাকে কত টেন্সে ফেলে দিয়েছিলে জানো তুমি??পাশে থাকা লোকটি বলে উঠলো
"আরে থাম তোরা!!এতো কথা বলিস কানের পোকা বের হয়ে গেলো!!দিদা বলে উঠলো
দিদার কথা শুনে উনার দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে হেসে ফেললো..
" এই যে ছেলেটাকে দেখছো??যার ফোন তুমি রিসিভ করেছিলে??আমার ছেলে এই,সুলেমান আর আমার বউ এভ্রিল"দিদা বলে উঠলো
মোহ দুজনকে সালাম দিলো..
"এই পিচ্চি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে??দেখ কতো সুন্দর??দিদা বলে উঠলো
এভ্রিল এগিয়ে এসে মোহর মাথায় চুমু একে দিয়ে বললো,
" মাশাল্লাহ!!তোমাকে অনেক ধন্যবাদ মা..আসলে কি বলে যে তোমার শুকরিয়া আদায় করবো??
"না আন্টি সমস্যা নাই..আচ্ছা আমি এখন আসি,আমাকে দ্রুত ফিরতে হবে ত" মোহ বললো
সবার কাছ থেকে মোহ বিদায় নিয়ে চলে গেলো।।
"আমাদের ফারিশের জন্য এরে ভাবছি বউ করে আনবো" দিদা বলে উঠলো
"মা তোমার কি মনে হয় ও রাজি হবে??ও ত দেশে আসতে রাজি হয় না!!তাও এইবার তোমার জোরাজুরিতে সে আসছে অল্প কয়েকদিনের জন্য" সুলেমান অবাক হয়ে বললো
মোহর সব ডিটেইলস নিয়েছিলো দিদা..পরেরদিন মোহর সবকিছু জেনে নিয়ে সুলেমান আর এভ্রিলকে জানালো..
মেয়েটার কেও নেই শুনে সুলেমান আর এভ্রিলের দুজনেরই খারাপ লাগলো..কিন্তু তারা আতঙ্কে আছে যে ফারিশ রাজি হবে কি না..
ফারিশ অত্যন্ত রাগী আর বদমেজাজী..নিজে যা চায় তাই করে,কারো কথায় পাত্তা দেয় না..যেটা জিদ হবে সেটা করেই ছাড়বে..
অতঃপর দিদার কসম খেয়ে ফারিশ বিয়ে করেই সেদিন রাত্রিরেই চলে যায় বাংলাদেশ ছেড়ে আমেরিকা চলে যায় ফারিশ..যেখানে সে থাকে,একবার চেয়েও দেখলো না পুতুলের মতো তার জন্য অপেক্ষা করছে..
বর্তমান,
চারপাশে গুঞ্জনে মোহর পুরোনো স্মৃতি থেকে ধ্যান ভাঙলো..
"এরকম এতিমকে কে বিয়ে করলে কে মাইনা নিবো??ঠিকই পোলা দেশ ছাইড়া চইলা গেলো বিদেশ" কেও একজন বললো
"ঠিকই ত,তার মতো এতিমকে বিয়ে করে এনেছে এটাই ত অনেক" বিড়বিড় করে বলে উঠলো মোহ
দরজা ঠেলে এভ্রিল ঘরে প্রবেশ করলো আর বললো,
"তুই আমার মেয়ে.. তোকে কারো পরিচয়ে বেচে থাকতে হবে না..তুই তোর পরিচয়ে বাচবি"
মোহ এভ্রিলকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো..এভ্রিল ও কি বলে শান্তনা দিবে বুঝে উঠতে পারছে না,তার মনে এই ভয়টাই ছিলো যা সত্যি হয়ে গেলো..
সুলেমান পলিটিশিয়ান আর সাথে নামকরা টপ বিজনেসম্যান বাংলাদেশে..বাংল
াদেশে রিচ ফ্যামিলি সবাই ফাজ ফ্যামিলিকে এক নামে চিনে..এভ্রিল ডাক্তার সে হাসপাতালে ডিউটি করে..মোহর একটা ননদ আছে,সে ক্লাস এইটে পড়ে..নাম ফারিহা..
তিন বছর পর,
কেটে গেছে তিনটা বছর..সেই কিশোর মোহ এখন ২১ বছরে পা দিয়েছে..অনার্স থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট.. ইংলিশ নিয়ে পড়ছে..আর ফারিহা ইন্টারমিডিয়েট এ ক্যান্ডিডেট এখন..
সুলেমান,এভ্রিল এবং দিদা মোহকে নিজের মেয়ের মতো আগলে রেখেছে..কষ্টের টোকাও পরতে দেয় নি...মুখ ফুটে কিছু চায় না মোহ কিন্তু ভিতরের চাপা কষ্ট যে তাকে ক্ষত বিক্ষত করে রেখেছে,এভ্রিল সহ বাকি সবাই ও বুঝতে পারে...আর ফারিহার বেষ্টফ্রেন্ড হলো মোহ..মোহকে সব কথা বলে,মোহ ও বলে..
ফারিশ সবার সাথে কথা বললেও এভ্রিল ফারিশের সাথে কথা বলে না..এই তিন বছরের ফারিশ একবারো মোহর কথা জিজ্ঞেস করে নি,কেও কথা তুললেই ফোন কেটে দেয়..সবাই কথা তুলে না আর মোহর..
ফারিশের ছবি দেখে মোহর এই তিনটা বছর কেটে যায়..এভ্রিল বুকের সাথে জাপটে ধরে মোহকে,মোহকে তিনি যে তার সন্তান ভাবে..অনেকবার ভেবেছে ফারিশের কাছে তালাক দিয়ে নতুন বিয়ে দিবে মোহর কিন্তু মোহ এই কথা শুনলেই কেদে বুক ভাসায়..মোহ ফারিশকে না দেখে ফারিশকে তার জীবনের চাইতে বেশি ভালোবেসে ফেলেছে যে সে..
আমেরিকা,
ক্রিস্টল হোটেলে বসে ড্রিংকস করছে ফাইজান ফারিশ ফাজ..আমেরিকার টপ আইকুন..বিজনেস ডিল করছে..কিন্তু তার চোখ সামনে থাকে এক মেয়ের উপর বর্তমানে,যে ফারিশকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে..ফারিশ বাকা হেসে চুমুক দিলো গ্লাসে..ডিল পছন্দ না হওয়ায় সে পকেটে হাত দিয়ে এটিটিউডের সহিত হোটেল ত্যাগ করলো..তার যেটা পছন্দ না সেটার সামনে দ্বিতীয়বার তাকাবে না..
"অন্ধকার রাজ্যের বেতাজ বাদশা আমি" বাকা হেসে ফারিশ গাড়িতে উঠলো..
বয়স এখন ৩১ ফারিশের..৬ফুট দেহের ফর্সা দেহে সুঠম গঠনের সুদর্শন পুরুষ সে..মেয়েদের মুখের অলওয়েজ ব্রেকিং নিউজে থাকে সে..মেয়েরা তাকে গিলে খায় যখনি দেখে..নীল চোখ দেখে মেয়েরা একটা কথা বলে "হট"
নিজের বিয়ের কথা তার মনেই নাই..মোস্ট হট টু হ্যান্ডেলর ব্যাচেলর হিসেবে সে পরিচিত..



কিচেনে এক ধ্যানে শাশুড়ির জন্য চিকেন ভুনা করছে মোহ..আজ এভ্রিলের হসপিটালের নাইট আছে..মোহ প্রতিদিন কিছু না কিছু রান্না করে ফেলে সবার জন্য..এভ্রিল মোহকে নিজ হাতে সব শিখিয়েছে রান্নার ব্যাপারটা.. সে যেন পিছিয়ে না থাকে কোনকিছু থেকে..মোহকে তিনি কত ভালোবাসেন যে মোহর মনেই হয় না সে এতিম।।
টিফিন ক্যারিয়ারে সব খাবার প্যাক করে ড্রাইভার কে দিয়ে গাড়িতে রেখে দিলো মোহ..
"তোর কি লাগবে মা এইবার??" সুলেমান জিজ্ঞেস করলো চা খেতে খেতে মোহকে
"না বাবা কিছু লাগবে না ত..সব ত দিচ্ছো ই" মোহ শান্ত স্বভাবে বলে উঠলো
"ওই ত কিছু চাইতে জানে কি??আমি ঠেলে ঠেলে ওকে জিনিস কিনে দি" ফারিহা চিপস চিবুতে চিবুতে বললো
এভ্রিল উপর থেকে নামছে এপ্রোন পরে,চা খেয়ে বেরিয়ে পরবে..এভ্রিল নিচে আসাতে মোহ চা দিলো..
দীদাও হজ্জে গেছে এইজন্য বাসাটা আরো বেশি ফাকা ফাকা লাগছে এই কয়দিন..
"নতুন সেমিস্টারের বই আর লাগবে তোর?" এভ্রিল চায়ে চুমুক দিয়ে বলে উঠলো
"না মা সব ত সেদিনই কিনে দিলা তুমি" মোহ বলে উঠলো
এভ্রিল মোহকে পরিষ্কার বলে দিয়েছে তাকে মা ভাবলে তাকে তুমি করে ডাকতে হবে,যেমন তাকে সে নিজের মেয়ে ভাবে..
"আসলে ফারিশের কোম্পানি আবারো হিট খেয়েছে..গ্র‍্যান্ড পার্টি দিচ্ছে আমেরিকায়.. ফ্যামিলিকে দেখতে চায়" আমতা আমতা করে বলে উঠলো
কারন সে জানে ফারিশের নাম উঠলে মোহ অনেক কষ্ট পায়..ফারিশের ছবি যেন দেখতে না পায় এইজন্য এভ্রিল সব সরিয়ে রেখেছে..তবুও মোহ একটা ছবি কেমনে পেয়ে গেছে ওইটাই দেখে সারাক্ষণ.. ফারিশের রুমেও মোহকে এভ্রিল রাখে না কারন সে চায় না ফারিশের এমন ফেলে চলে যাওয়া কোন খারাপ স্মৃতি মোহকে তাড়া দিক..ফারিহার সাথে মোহ ঘুমায়..
এভ্রিল কিছু বলছে চুপচাপ চায়ের দিকে মনোযোগ.. ফারিহার ও চিপ্স খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে..মোহ লিভিং রুম ছেড়ে চলে গেলো কিচেনে..
"কিছু বললা না" কোনমতে বললো সুলেমান
"ত?" এভ্রিল চোখ না তুলেই বললো
"না মানে বলছিলাম আমারো ত বিজনেসের কাজে যাওয়া লাগে মাঝেমধ্যে " তাই আর কি সুলেমান বললো
"আমার হাসপাতালের ডিউটি ছেড়ে এরকম সো কলড জায়গাতে যাওয়ার কোন ইচ্ছা নাই??" এভ্রিল কথাটা বলেই বের হয়ে গেলো
মোহ আড়াল থেকে সব শুনলো কিন্তু কিছু বললো না,নিঃশব্দে চোখের জল ফেললো..সে ত জানে তার জন্য তাদের ছেলের ঘরে না ফেরা কারন..সে ত অনেকবার চলে যেতে চেয়েছে কিন্তু এভ্রিল কসম দিয়ে রাখছে যদি সে যায় তার মরা মুখ ও কখনো সে দেখতে পাবে না...এই পরিবারের প্রতিটা সদস্যই তার কাছে প্রিয় কারন প্রতিটা মানুষ তাকে অসম্ভব ভালোবাসে..
মোহর মাথার তেল থেকে হাতের আইফোন পায়ের স্যান্ডেল সব এভ্রিল করে দেয় কিছু বলতে হয় না তাকে..মোহর এইভাবে তিন বছর ধরে দেখে আসছে অনেকেই, অনেক ফ্যামিলি মোহকে বাড়ির বউ করার উঠে পরে লেগেছিলো কিন্তু সুলেমান অনেক বড় পলিটিশিয়ান+বিজনেসম্যান.. তাদের ফ্যামিলি প্লট স্ট্রং থাকার জন্য আরো চাহিদা আসতো,যারা প্রপোজাল দিতো তারাও রিচ ফ্যামিলি থেকে বিলং করতো কিন্তু বিয়ের প্রপোজাল আসলে মোহর চোখভর্তি পানি থাকতো..সে ত তার স্বামীকে ভালোবাসে যতই সে তাকে ফেলে চলে যাক..তার বুকে এক সমুদ্র ভালোবাসা শুধু না দেখা ওই ফারিশের জন্য..
ফারিশ যদি একটাবার জানতো যে তার বউ কত অপ্সরী..একটাবার পিছন ফিরে তাকাতো তার বউ রঙধনুর মতো সুন্দর..একটা জলজ্যান্ত পুতুলকে সে যদি দেখতে পারতো তার বাসর রাতে খাটের মাঝখানে বসে তার জন্যই অপেক্ষার প্রহর গুনছে..
ফারিহাকে ধরে মোহ কত হিচকি তুলে কেদেছে..সাথে ফারিহাও কেদেছে ছোট হলেও মোহর সব কান্নার সাক্ষী ফারিহা,এভ্রিলের সামনে মোহ কাদতে পারে না কারন জানে সে কাদলে এভ্রিল নিজেকে এমনিতে অপরাধী ভাবে আরো ভাববে কাদা মুখ দেখে..ফারিহা ছোট হলে মোহকে সে প্রচন্ডভাবে ভালোবাসে..মোহর কষ্ট দেখে সেও একসময় কথা বলা বন্ধ করে দেয় তার ভাইয়ের সাথে
কিন্তু মোহ বলে,
"আমার জন্য তোমরা কথা বলা বন্ধ করলে আমি মরে যাবো কারন উনার না হয় মনে নাই তার জীবনে কোন নারীর সাথে বিয়ে হয়েছিলো,খোজ নেয়া ত দূরেই থাক..আমি ত জানি আমি বিবাহিত তোমাদের মাধ্যমে খোজ পাই আমি আর তোমরাও যদি কথা না বলো"
এইসব ভাবতে ভাবতে মোহ ক্লান্ত শরীরের পা বাড়ায় নিজের রুমের দিকে..
ফারিহা আর সুলেমান চুপচাপ বসে আছে তারা আসলে এই পরস্থিতি দেখে অভ্যাস কিন্তু আজকের টা ঘোলাটে হয়ে গেছে বেশি.
"বাবা এইভাবে চলবে না..কিছু একটা করতেই হবে এইবার" ফারিহা বললো
"কি করবি??দেখলিনা তোর মা কিভাবে চলে গেলো??সুলেমান গালে হাত দিয়ে বললো
" আমার বার্থডে কয়দিন পর..ভাইকে আমি ডাকবোই বাংলাদেশে যে করেই হোক..ভাবীর সাথে দেখা হোক ত,যদি ভাবী দেখে ভাইয়া একবারের জন্য হলেও ভালোবাসে??" ফারিহা বসে বললো
"কিন্তু ফারিশ কি আসবে??ওই ত কখনো বিয়ে নামক কোন কিছু জড়াতে চায় না বলে এস.এস.সি র পর বাহিরে জোর করে চলে গেছে" সুলেমান বলে উঠলো
"ভাই আমার কোন কথা ফেলতে পারে না..এইবার জোর করবোই..ভাবীকে এইভাবে দেখতে পারছি না আমি..ভাবী ভাইকে অনেক ভালোবাসে বাবা..এমন পুতুলের মতো বউ ফেলে কেমনে যায়??ফারিহা জিজ্ঞাসু ভাবে বললো
" যা পারিস কর..মোহর জন্য আমি তিন বছর ধরে ওর চোখে চোখ রেখে সঠিকভাবে তাকাতে পারি না..নিজের মেয়ে মনে করি আমি ওকে..হেল্প লাগলে জানাবি"বলে সুলেমান চলে গেলো..
ফারিহা এইসব সিরিয়াস মুডে এসে প্ল্যান করতে লাগলো..এইবার যে করেই হোক প্ল্যান সাকসেস করতে হবে..
এভ্রিল ওয়ার্ডের ভিজিট শেষ করে ডিনার করতে কেবিনে আসলো..টিফিন ক্যারিয়ার খুলে নিজের পছন্দ দেখে মুচকি হাসলো..সে জানে মোহ ফেভারিট কিছু বানিয়ে দেয় যখন নাইট ডিউটি শুরু হয় তার..
ফারিশের কথা মনে পরলো এভ্রিলের..ছেলের সাথে কথা না বলে এই তিন বছর ধরে তিনি নিজেকে খুব কষ্টে সামলেছে..কোন মা চায় তার সন্তান তার কাছে আসুক??
কিন্তু মোহর দিকে তাকালে আর ইচ্ছা জাগে না..ফারিহা আর ফারিশ দুই সন্তান তার..ফারিহা অহংকার সবার সাথে দেখালেও মোহর কাছে একদম পানি সে,আর ফারিশ তার নিজের রুপ স্ট্যাটাস, গেট আপ,এটিটিউড সবকিছু ছোটবেলা থেকে অহংকার করে...ইচ্ছা হইলে কথা বলবে না হইলে না,..এভ্রিলের ননদ তার মেয়ের সাথে ফারিশের বিয়ে দেয়ার জন্য এখনো প্রস্তুত..মোহ তার চোখের বিষ..উনি আসলে এভ্রিল মোহকে ধর থেকে বের হতে দেয় না..
এভ্রিলে মা নেয়.. মোহর আচার আচরণ তাকে মা ভাবে এভ্রিল..এভ্রিলের এতো যত্ন নেয় সে..
সকালবেলা,
বিছানার উপর চিত হয়ে শুয়ে আছে ফারিহা..চিন্তা করছে অনেকক্ষন যাবত..ভাবছে কল দিবে কি না তার ভাইকে..কিছু না ভাইবাই কল দিলো,ভিডিও কল দিলো..
ফারিশ বেডে তখন উপুত হয়ে শুয়ে আছে,ড্রিংকসের নেশা এখনো ছুটে নাই.কল আসাতে দেখলো তার প্রানপ্রিয় বোন কল করছে..রিসিভ করে বলে উঠলো,
"এতো সকালে ফোন দিছোস??ফারিশ ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে উঠলো..
" ভাই সকাল এটা??বেলা ১২টা বাজে অলরেডি"ফারিহা বললো
"আই নিড টু স্লিপ..কল ইউ লেটার" ফারিশ বললো
"নো..আই নিড টু টক..একচুয়েলি আই ওয়ান্ট সামথিং ফর ইউ" ফারিহা বললো
"কি?ফারিশ বলছে
" প্লিজ আগে প্রমিস করো তুমি যে দিবা আমি যা চাইবো"ফারিহা বললো
"ব্ল্যাকবেইল মারা বন্ধ কর.. বল তোর কি চাই??ফারিশ চোখ তুলে তাকালো..
" আমার বার্থডে কয়দিন পর..আর আমার ফেভারিট কালারে ড্রেস নিয়ে ডিজাইনার দিয়ে করিয়ে তোকে এখানে আসতে হবে"ফারিহা এক নিঃশ্বাসে বলে উঠলো
"ইমপসিবল!!তুই এখানে আয়..যা চাইবি তাই পাইবি!!" ফারিশ বললো
"ভাই একটা কিছু চাইলাম দিলা না?আমি ত তোমার কাছে কিছু চায় না..এইভাবে নানান ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করলো" ফারিহা
"স্টপ বাটারিং অন মি..ওকে আই উইল কাম" ফারিশ বলে উঠলো
ফারিহা ফারিশের সাথে কানে হেডফোন গুজে ছিলো,ওই সময় ফারিহা দেখলো মোহ গোসল করে চুল মুছছে ব্যালকনিতে
ফারিহা ব্যাক ক্যামেরা দিলো..
মোহর চুল ত অনেক বড় বড়..চুল ঝাড়তেছে..পিছন দিক দেখে ফারিশে উঠা থেকে বসে গেলো..বুকটা ধুক করে উঠলো..কত মেয়েকে দেখেছে কিন্তু এই মেয়েকে দেখে তার বুক এইভাবে ধুক করে উঠলো ক্যানো??কে এই মেয়ে??
ব্যাকসাইড দেইখা তুমি এরকম করো ভাই,ফ্রন্টে আইসা দেখলে তোমার ত খবরই হয়ে যাবে ফারিহা মনে মনে বললো
ফারিশ কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে,ফারিহা আগে বিদায় নিয়ে ফোন কেটে দিলো+ওয়াইফাই অফ করে দিলো..
ফারিশকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না..সে জানে তার ভাই এখন ফিদা হয়েছে মোহর ব্যাক দেখে..তার ভাইয়ের প্রতি অনেক মেয়ে নেশাক্ত থাকলেও,তার ভাই কখনো কোন মেয়ের প্রতি নির্ভর ছিলো না...তার ভাই যে ফিদা হয়েছে এক পলক দেখাতে সে বুঝতে পারছে..প্ল্যান সাকসেস হওয়ার ধাবিতে সে খুশিতে বক্স ছাইড়া নাচা শুরু করচগে,বাকি প্ল্যান ফারিশ আসার পর সাকসেস করবে..
এদিকে ফারিশ হতভম্ভ হয়ে গেছে ফারিহার কল কাটা দেখে..অনেকবার কল দিলো কিন্ত ডাটা অফ..মেয়েটি কে??দেইখা আমি হ্যাং হয়ে গেছি??
ভাবতে পারছে না আর সে..শাওয়ার নিতে চলে গেলো ফারিশ।।


ফারিহা বক্সে জোরে গান দিয়েছে,আর নিজেই উড়াধুরা নাচ করেই যাচ্ছে..সে তার ভাইয়ের মনে ঝটকা দিয়ে পৈশাচিক যে আনন্দ পেয়েছে তা সে নেচে নেচে প্রকাশ করছে..মোহ রুমে আসছে যখন ফারিহা তাকে টেনে নিয়েও নেচে যাচ্ছে..মোহ ফারিহার স্বভাব সম্পর্কে অবগত,যখনি সে খুব খুশি হয় ধুমধাড়াক্কা গান বাজিয়ে নাচবে..আর মিন খারাপ হইলে জোরে জোরে স্যাড সঙ বাজিয়ে শুনবে..
মোহ ফারিহাকে গোসলে পাঠালো ঠেলে সে জানে ওকে এখন ঠেলে গোসলে না পাঠালে ঘেমে যাবে আর রাত ছাড়া গোসল করবে না অতঃপর তার জ্বর বাধাবে।।
ফারিহা বক্সে গান ছেড়ে ওয়াশরুমে যাইয়া উড়াধুরা চিল্লাইয়া গান করে গোসল করতেছে..মোহ মুচকি হেসে ফোন হাতে নিলো..
মোহ ফেসবুক একাউন্ট খুলে ফারিশের প্রোফাইলে রেগুলার ঢু তার প্রতিক্ষনের কাজ..দেখলো কিছুক্ষন আগে স্ট্যাটাস দিসে,
"after seeing someone,feeling hang for the first"
অনেক মেয়েরা হুমড়ি খেয়ে লাইক কমেন্ট করে ফেলেছে..কেও কান্নার রিয়াক্ট দিচ্ছে আবার কেও এংরি।।
মোহ চোখ ভরে উঠলো..কাকে দেখে সে স্ট্যাটাস দিয়েছে..আর ছবি দেখলো ফেসবুক থেকে বের হয়ে গেলো..আরে পাগলী যদি জানতি তোরে দেইখা বেচারা হ্যাং মাইরা এরকম স্ট্যাটাস দিসে তার ওয়ালে প্রথবার।।
মোহ নিচে চলে গেলো লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে..এভ্রিল ও নাইট ডিউটি করে ঘুমিয়ে গেছে..তাকেও উঠিয়ে গোসল করতে পাঠালো..সুলেমানের অফিসে লাঞ্চ পাঠালো ড্রাইভারের হাত দিয়ে..মেসেজ করে দিলো,
"বাইরের খাবার খাবা না বাবা নইত মাকে বলে দিবো..লাঞ্চ দিয়েছি সেটাই খাবা"
এরই মধ্যে মায়ের ফোন বাজছে কাছেই গিয়ে দেখলো দিদা ফোন দিয়েছে..কল ধরে মোহ সালাম দিলো..
"কিরে পরি আমারে ফোন দেস নাই কাল তুই" একটু মিথ্যা মিথ্যা রেগে বললো দিদা
"সরি সুন্দরি..কাল একটু জলদি ঘুমিয়ে গেছিলাম তাই তোমাকে কল দিতে পারি নাই" মোহ ও নরম করে বললো
এই নিয়ে নাতবউ আর দিদার মধ্যে কথা চললো টুকটাক..
লাঞ্চে সবাই খেতে আসলে এভ্রিল বললো,
"চল আজকে আমরা শপিং এ যাই..দিয়ে রাতে বাইরে থেকে খেয়ে আসবো...গতকাল আমার নাইট শেষ হয়ে গেছে"
"মা তুমি ত দেবী" ফারিহা খুশির ঠেলাতে বলে উঠলো
ফারিহার মাথাতে একটা গাট্টা মারলো এভ্রিল..
মোহ মুচকি হেসে খেতে আরম্ভ করলো..সে জানে তার চোখ ফুলা দেখে মা বুঝে ফেলেছি যে কাদছি তাই বাইরে নিয়ে যাবে..মা এরকম প্রায় করে যখনি বুঝে আমি কান্না করেছি।।
দুপুরে ফারিহা ওর বাবা কে ফোন করে সব জানালো..তার বাবা ত হেসে কুটিকুটি..সাব্বাশ দিচ্ছে ফারিহা
কিন্তু এর মধ্যে ফারিহা ঘুষ চেয়ে বসেছে নিউ কারের..অগত্যা তার বার্থডে তে গিফট করবে বলে সুলেমান প্রমিস করলো ফারিহাকে..
বিকালবেলা,
ফারিহা ডাটা অন করতে দেখলো ভাইয়ের অসংখ্যা মিসডকল..ফারিহা শয়তানী হাসি দিয়ে বললো,
"তুমি আমার ভাই হইলে আমিও তোমার বইন..এইবার বুঝবা"
"ভাই বিজি আছি পরে কথা হবে" ফারিহা ইচ্ছা করে এমন একটা মেসেজ পাঠালো যেন ফারিশের কিউরিওসিটি আরো বেড়ে যায়..বলেই ডাটা অফ করলো আবার।।
এভ্রিল মোহ আর ফারিহাকে নিয়ে শপিং করতে বের হলো..ফারিহা এটা সেটা দেখছে আর নিব বলছে..আর এভ্রিল বিভিন্ন কুর্তি হাতে নিয়ে মোহকে কোনটাতে ভালো লাগবে তা দেখছে কারন বাইরে এসে মোহ একদম সাইলেন্ট মুডে চলে যায়..কি লাগবে তার তাও বলে না..
একটা ছেলে বেশ অনেকক্ষন যাবত মোহকে খেয়াল করছে..প্লাজো আর কামিজের সাথে সুন্দরভাবে কভার করে হিজাব পরে আছে মোহ..কোন সাজ নাই মুখে..
এভ্রিলের হাসপাতাল থেকে কল আসাতে বাইরে গেলো কল এটেন্ড করতে আর ফারিহা মোহকে নিয়ে ট্রায়াল রুমের সামনে দাড়িয়ে নিজে ভিতরে গেলো..
মোহ ফোন হাতে নিয়ে দেখলো কটা বাজে..সামনে হুট করে কারো উপস্থিত হওয়াতে মোহ চোখ তুলে তাকালো
"নাম?" ছেলেটি জিজ্ঞেস করে উঠলো
এমন উদ্ভট পরিস্থিতিতে মোহ ঘাবড়ে যায় সবসময়.. কাচুমাচু করে দাড়িয়ে আছে..
"হোয়াই ডু ইউ ওয়ান্ট টু নো হার নেইম ডিয়ার?" এভ্রিল পিছন থেকে বলে উঠলো
ছেলেটি ঘাড় কাত করে বললো,
"আপনি উনার কে হোন?ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো
" ওর আম্মা আমি..কি সমস্যা??চিনো কি তুমি আমার মেয়েরে??এভ্রিল জিজ্ঞেস করে উঠলো
"নাহ..জাস্ট পরিচিত হতে চাচ্ছিলাম আন্টি ওর সাথে" ছেলেটি বলে উঠলো
"বাট মাই ডটার ডাজ নট ওয়ান্ট টু ডু দিস..লিভ আস" এই বলে এভ্রিল মোহর হাত ধরে ওইখান থেকে চলে আসলো
ছেলেটি এখনো ঘাড় কাত করে ওদের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো।।
এভ্রিল মোহ আর ফারিহাকে নিয়ে একটু নদীর পারের দিকে গেলো..এরকম খোলা জায়গা আর খোলা বাতাস মোহর অনেক পছন্দ..
ফারিহা মোহকে নিয়ে নদীর পানিতে এসে পা ভিজালো..একটা সুন্দর ছবি ক্যাপচার করলো দুজনের পায়ের।।
এরকম হাসিখেলে যদি ফারিশ আর মোহর সংসারটা সাজানো থাকতো যদি এই ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেললো এভ্রিল
নদীর পার থেকে ঘুরে এসে তারা রেষ্টুরেন্টে গেলো..
"মা আমি কিন্তু বিরিয়ানি খাবো" ফারিহা নাক কুচকে বললো
"জানি..তুমি এটাই খাবা" এভ্রিল চশমা উপরের তুলে বললো..
এর মধ্যে সুলেমান ও এসে জয়েন দিলো..নিজের রেষ্টুরেন্ট হওয়ার সুবাদে তাদের আপ্যায়ন সেই লেভেলের হলো..
রেষ্টুরেন্টে বসে মোহ আর তার পায়ের ছবি ফারিহা তার কভার ফটোতে দিলো..
কভার ফটো দিয়ে বললো বিড়বিড় করে সুলেমানের কানে,
"এইবার মারলাম ফাকা ফিল্ডে চার"
সুলেমান ফারিহার কথা আগাগোড়া কিছু বুঝলো না..
ফারিশ ওই মুহূর্তে গেলো ফেসবুকে কারন তার নোটিফিকেশন আসছে যে ফারিহা কভার পিক চেঞ্জ করেছে..ওর ওয়ালে যেয়ে দেখলো ফারিহার পায়ের সাথে আরেক জোড়া পা..এমন ভিজা পা দেখে ফারিশ বুকের উপর দিয়ে হালকা ঢেউ খেলে গেলো..
সাথে সাথে ফারিহাকে মেসেজ..
"এই তোর সাথে এটা কে?"
ফারিহা জানে এমন কিছু হইবো..মনে মনে ঢোলা বাজিয়ে মনে মনে নেচে নিলো সে..
"ভাই খাইতে আসছি বাহিরে..পরে নক দিব" টুপ করে মেসেজ দিয়্ব বাইর হয়ে গেলো সে..কারন, সে জানে তার ভাই নজর দিসে এই প্রথম কোন মেয়ের উপর..আরেকটা পোড়ানো যাক তার ভাইকে
"যে মেয়েটার ব্যাকসাইড দেখে (চুল আর পা দেখেছিলো) সারাদিন আমি হাসফাস করেছি..এখন এই ভিজা পা দেখে মনে হচ্ছে ওরে আমার লাগবোই লাগবো ব্যাস যে করেই হোক..কিন্তু কে মেয়ে??ফারিহার কে হয়..নাহ আর ভাবতে পারছি না দ্রুত বাংলাদেশ যাওয়াই লাগবে তার" এই বলে ফ্লাইটের টিকেট বুক করতে লাগলো ফারিশ
রাতে বাড়ি ফিরে এসে খাবারের ছবিগুলো আপলোড সাথে ফ্যামিলির ও..মোহর মুখের উপর স্টিকার মেরে দিলো..
ফারিশ তখন ইন্সটাগ্রামেই ছিলো..ফারিহার আপলোড করা ছবি দেখতে যেয়ে স্টিকার মারা মেয়ের মুখ দেখে বুক ধুক করে উঠলো..
"এতো মায়া ভর্তি কারো চোখ হয়??ফারিশ ভাবছে..
ফারিহাকে মেসেজ দিলো ফারিশ কিন্তু ফারিহা মেসেজ দেখে পৈশাচিক হাসি দিয়ে বললো,
" মাত্র ত আজকে দেখে ভাইয়া এরকম করছো??আর ভাবী সে তিনটা বছর তোমার দহনে পুড়ছে??আরেকটু পুড়ো"
সুলেমানকে মেসেজ করলো ফারিহা,
"বাবা ছক্কা মেরে দিয়েছি"
"খেলা দেখে দেখে এই মেয়ের মাথাটা একেবারে গেছে" সুলেমান বিড়বিড় করে বলে শুয়ে পরলো..
"আড়ালে রেখে যেইভাবে পেইন দিচ্ছো তুমি??সামনে আসতে দাও, সব সুদে আসলে বুঝিয়ে ফেলবো!" রাগে গজ গজ করতে বললো ফারিশ
চলবে
সারপ্রাইজ!! আজকে দিলাম দুই পার্ট..আমার ত হাত ঘেমে শেষ কেমন লাগলো জানাবেন??আর কাল গল্প যখন লিখা হবে পেয়ে যাবেন,আমি নিজেও অসুস্থ..ভুল ত্রুটি ক্ষমার নজরে দেখবেন
রঙধনু
তৃধা মোহিনী(ছদ্মনাম)
পর্ব চার
সকালবেলা,
ওয়াক থেকে এভ্রিল আর সুলেমান ফিরে এসে সামনে গাড়ি থেকে নেমে আসা মানুষটাকে দেখে অবাকের চরম পর্যায়ে অবাক..তাদের মুখটা খানিকটা না অনেকটা বড় করে হা করে রয়েছে..
সুলেমান হাসফাস দিয়ে বলে উঠলো,
"ফারিশ"
এভ্রিল ও অবাক হয়েছে অনেকখানি..সেই তিন বছর আগে গিয়েছে আর এখন আসছে..তিন বছরে ছেলের সাথে কথা ত দূরে থাক ওর মুখ দেখার কথা কেও বললে ক্ষেওএ যেতে..কিন্তু একমাত্র পুত্রসন্তানের কথা মনে হলে ভিতরটা সবসময় নাড়া দিতো..
তার ছেলে তার মতো চোখ পেয়েছে,যেমন সে তার মায়ের এই চোখের অধিকারী ছিল..ছেলে আমার আগের থেকে অনেকবেশি হ্যান্ডসাম হয়ে গেছে,রোদ ফর্সা মুখে পরাতে সারা মুখ লাল হয়ে উঠছে..কিন্তু এতোদিন পর আসছে কিজন্য??মোহকে তালাক দিতে??বুকটা ধক করে উঠলো এভ্রিলের
ফারিশ ক্লান্তমুখে হালকা হাসি এনে তারা বাবাকে জড়িয়ে ধরলো..এভ্রিল চলে যেতে চাইলে ফারিশ তার মায়ের হাত ধরে সামনে আসে।।
অভিমানী মায়ের মুখ ফারিশ দুই হাতে উপরে তুলে বললো,
"মা!! তিন বছর কথা বলো নি!!এইবার ত বলো??"
এভ্রিল নিজেকে আর ধরে রাখতে পারি নাই..হাউমাউ করে ছেলেকে ধরে কেদে দিয়েছে..সুলেমান, এভ্রিল আর ফারিশ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আছে..
"ইনাফ..আই এম সো টায়ার্ড!!নিড টু স্লিপ!!" ফারিশ বলে উঠলো
এভ্রিল ফারিশকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলো..
সুলেমান বিড়বিড় করে তখন বলছিলো,
"বাপ কা বেটি?ফারিহা তাহলে এই চার ছক্কা মেরেছে আর সে এটার কথা আমাকে বলেছিলো??ওয়াহ মাইয়া আমার একদম ম্যাক্স ওয়েল..খালি চার ছক্কা মারে"
আপনমনে হাসতে হাসতে বাড়ির ভিতরে চললো..
ফারিশ নিজের রুমে ফ্রেশ হতে চলে গিয়েছে..ফ্রেশ হয়ে ফারিশ দরজা লক করে লম্বা ঘুম দিলো..কাল থেকে ফারিশ যখনি চোখ বন্ধ করছে তখনি ওই মায়াভরা চোখ টা বারবার দেখতে পাচ্ছে..
এদিকে সুলেমান আর এভ্রিল ভাবছে..
"ফারিশ ত আসলো কিন্তু মোহকে যদি ডিভোর্স দেয়??ও ত বেচে থেকেও মরে যাবে??এভ্রিল বললো
" এমন কিছু হবে না..ভরসা রাখো"সুলেমান এভ্রিলের হাত ধরে বললো
সকাল ১১টা,
ফারিশের রুমে যাওয়া চুপিচুপি মোহর কাজ নিত্যদিনের.. আজ ও গেলো কিন্তু অবাক হলো দরজা লক দেখে একটু অবাক হলো..পরে ভাবলো মা হয়তো করেছে যেন আমি না আসতে পারি..তাই আবার ফিরে গেলো নিজের ঘরে..
বেলা ১২টার দিকে ফারিহা ঘুম থেকে উঠলো..উঠেই মোহকে খুজছে
,"ভাবীইইইইইইইইইইই!!!দিল কা পিঞ্জিরা কিধার হ??ঘুমুঘুমু কন্ঠে বলছে ফারিহা
দুইদিকে চুল বেধে আছে,টিশার্ট মিকি মাউসের আর পায়জামা হাটু অব্দি উঠে আছে..আউলাঝাউলা হয়ে শুয়ে থাকার সব এলোমেলো হয়ে আছে তার।।
ফারিহার এমন ডাক শুনে মোহ জলদি ঘরে আসে আর ভাবছে না জানি কি হলো
"এই কি হয়েছে তোমার??চিলাইতেসো যে?? মোহ জিজ্ঞেস করে উঠলো
" এই মাদার তেরেসা!!ফারিহা মাথা নিচু করে বলছে
মোহ এই নাম শুনে ফিক করে হেসে দিলো..সে মোহকে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন সময়ে ডাকে..মোহ পাশে এসে বললো,
"কি হয়েছে আমার পাখির দেখি??
" জানো ভাবী"কাদো কাদো কন্ঠে বললো ফারিহা
"কি বলো?" মোহ ও উদগ্রীব হয়ে আছে কি হয়েছে শুনার জন্য
"আসলে আমি কার বাসা আছি এইটা মনে করতে পারছি না??এইটা মেইন ফ্যাক্ট না,মেইন ফ্যাক্ট আমার অত্যন্ত জরুরী ইমারজেন্সি লাইন চালু হয়ে গেসে,যেকোন মুহূর্তে সেখানে না গেলে পরের বাসার পরের ঘরে বাসাইয়া দিব আমি" ফারিহা বললো
মোহ হাসবে না কাদবে বুঝতে পারছে না..সে বুঝতে পারলো ফারিহা ইমারজেন্সি লাইন বলতে কাকে বুঝিয়েছে,
"আচ্ছা চলো ওয়াশরুম" হাত ধরে মোহ ফারিহাকে নিয়ে যাচ্ছে
ফারিহা যেতে বললো,"তুমি যদি আজ না থাকতে আমার ইমারজেন্সি লাইন আজ লিক হয়ে যেতো..আই লাভ ইউ"এই বলে মোহর গালে চুমু দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পরলো..
মোহ ভাবছে,
"এই মেয়ের হুশ থাকে না ঘুম থেকে উঠলে..নিজের বাড়ি চিনতে না পেরে বলে কার বাড়িতে আছি??না জানি বিয়ে হইলে বাসরের পরের দিন না বলে উঠে,এই আপনি কোন আফ্রিকার উগান্ডার মানুষ??
বাসর আর স্বামী শব্দটা উচ্চারণ করেই নিজের মন থেকে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসলো..
মোহ নিচে যেয়ে দেখলো এভ্রিল আর সুলেমান তখন থেকে কি বিড়বিড় করছে,মোহকে দেখে চুপ হয়ে গেছে আর একটা কেমন হাসি দিলো..
"চা দিব??" মোহ বললো..
"হ্যা চা দে..তোর হাতের চা খাওয়ার জন্য কখন থেকে বসে আছি??সুলেমান কেমন ভড়কে যেয়ে বললো
" আচ্ছা দিচ্ছি "মোহ মিষ্টি করে হেসে বললো
কারো মনের আর কথার প্যাচ কিংবা কেও যে তাকে কটুক্তি করছে তার পিছন ফিরে সামনে হেসে হেসে কথা বলছে এই মেয়ে বুঝতে পারে না..মোহ এতো বেশি সোজা সরল দেখে এই পরিবারের প্রতিটা মানুষ তার জান হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে
"এই বেগম রোকেয়া!!এতো উদারতা কেন??একদম মেরে দিব..চুপচাপ নিজের ছাড়া আর আমার ছাড়া কারো প্রতি দরদ দেখালে" ফারিহা রেগে বলেছিলো কথা গুলো কারন,ফারিহাদের এক কাজিন তাদের বাসায় এসেছিলো,মোহ তাদের সামনে নাস্তার প্লেট রেখেছিলো..
মোহ যাওয়ার পর তাদের মাঝে একজন বলেছিলো,
"এখনো এতিম মাইয়ারে রাখছো তোমরা??এই মেয়ের জন্য তোমার ছেলে এখনো বাড়ি ফিরে না"
মোহ সব শুনেছিলো কিন্তু টু শব্দ না করে অতিথিদের আপ্যায়ন করাতে ব্যস্ত ছিলো সে..এইসব দেখে সেদিন ফারিহা এতোগুলো ঝেড়েছিলো তাকে..
চা দিয়ে মোহর ফোনে কল আসে ভার্সিটি থেকে..প্র‍্যাকটিক্যাল ক্লাস নাকি আজ আছে দুপুরে?সেইজন্য যেতে হবে..
মোহ রেডি হয়ে ভার্সিটি গেলো..বাসাতে ত খেতে পারবে না,এভ্রিল আবার টাকা দিলো।।
"মা তোমার দেয়া অনেক টাকা জমায় আছে??এখন লাগতো না" মোহ বললো
"আছে রাখতে দে..তুই খরচ করিস না,এতো তোর দোষ?এভ্রিল বললো
মোহ টাকা নিবে না এভ্রিল ধমক দিয়ে ব্যাগে গুজে দিলো..অবশেষে হার মেনে মোহকে নিতে হলো," এই এমন পরিবারের মানুষের ভালোবাসা দেখে সে বাঁচার জন্য আস্থা খুজে পায়"
"গাড়ি ওয়েট করছে,বের হ..আর পৌছে কল দিবি??এভ্রিল বললো
" হুম "মোহ বেরিয়ে পরলো..এভ্রিল তাকে গাড়িতে তুলে, যতক্ষন গাড়ি না ছাড়ছে ততক্ষন দাড়িয়ে ছিলো..বিদায় দিয়ে বাড়ি আসলো..
দুপুরবেলা,
ফারিহা,সুলেমান আর এভ্রিল একসাথে খেতে বসেছে..টেবিলের রাখা খাবারের দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে ফারিহা।।
"ভাইয়ার পছন্দের খাবার সব আজ??আজ ত ওর জন্মদিন ও না??ফারিহা জিজ্ঞেস করে উঠলো
সুলেমান আর এভ্রিল একে অপরের মুখ চাওয় চাওয়ি করছে..
" তুমি কাল যে চার ছক্কা মেরেছো??এইগুলো এখন আমার পক্ষ থেকে পুরষ্কার " সুলেমান চেয়ার টেনে বসতে বললো
"মারছি আমি...পছন্দের খাবার ও হবে আমার মতো করে??ভাইয়ার পছন্দের ক্যান" নাক ফুলিয়ে বলে উঠলো ফারিহা
উপর থেকে ফারিশ নামছে..থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট আর ঢিলা টিশার্ট ব্ল্যাক কালার..উফফ মাখনের মতো হয়ে আছে
ফারিশকে উপর থেকে নামতে দেখে ফারিহা ভূত দেখার মতো চমকে উঠেছে..
"চার ছক্কা ময়দানে মারলাম আমি..আর তুমি এতো জলদি আউট হয়ে চলে আসলা ভাইয়া
" ফারিহা ওর বাবার কানে বলছে।।
"এই লাইলি তোমার মজনু আইসা ভাত খাইবো আর আজই তোমার ক্যাম্পাস যাওয়া লাগলো??? আস্ত একটা বোরিং মাইয়া..যার জন্য তিন বছর ধরে আহামরি করলো,আইসা হাজির আর নায়িকা সিনেমার মতো গায়েব ভুল টাইমে" ফারিহা বিড়বিড় করে চলেই যাচ্ছে।।

চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পরছে মোহর..সামনে থাকা ব্যক্তিটির উপস্থিতি তাকে পোড়াচ্ছে নাকি উষ্ণতা দিচ্ছে বুঝতে পারছে না..তিন বছর পর..হ্যা তিন বছর পর স্বশরীরের সে মানুষটাকে দেখছে যে তাকে ফেলে চলে গিয়েছিলো,সেই মানুষটাকে দেখছে যেই মানুষের ছবি দেখে তার সকালটা শুরু এবং রাত টা শেষ হয়..হ্যা তার ফারিশ শুধু তার মনের গহীনে বাস করা সুপ্ত আলোর এক তরফার মাঝে বিরাজমান..
ফ্ল্যাশব্যাক,
দুপুরে সবার সাথে খেতে আসছে যখন ফারিশ কেও কোন কথা তুলেও নি..ফারিশ ও কিছু বলে নি..খাওয়া শেষে ফারিশ ফারিহাকে বললো,
"তোকে খাওয়া শেষে যেন রুমে পাই?" এই বলে ধপাধপ পা ফেলে উপরে চলে গেলো
ফারিহার মুখখানা তখন এরকম" "
ফারিহাও প্রস্তুতি নিয়ে খাবার শেষবকরে ফারিশের রুমে গেলো..সুলেমান একটু হলেও আন্দাজ করতে পেরেছে কি বলতে পারে ফারিশ,এভ্রিল জিজ্ঞেস করতে যেয়েও থেমে গেছে।।
"ভাই আসবো" নক করে ফারিহা বললো
"তুই আবার কখন থেকে নক করে আসছিস ঘরে?" ফারিশ ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো বইয়ের উপর থেকে মুখ উঠিয়ে।
"এটা ভদ্রতা" মুখ ভেঙচি দিয়ে
ফারিশ কথা বাড়ালো না..সোজা প্রশ্ন করলো,
"আগে ত সবসময় ফ্রি থাকতি??আজ দুইদিন যাবত তুই কি নিয়ে এতো বিজি যে আমার কল, টেক্সট কিছুই উত্তর দেস নাই??" ফারিশ থমথমে গলায় জিজ্ঞেস করলো।।
"এই রে সারছে..কুরবানির জন্য মনে হয় আমারে পাইছে আজ" বিড়বিড় করে বলে উঠলো ফারিহা
"হুয়াই ইউর মাউথ শাট নাও??ফারিশ কিছুটা রেগে বললো
" ইয়ে মানে সত্যি দুইদিন ব্যস্ত ছিলাম ভাই"ফারিহা ভাইয়ের রাগ দেখে বললো,যতই বাঘিনী হয়ে ঘুরে বেড়াক না কেন ফারিশের সামনে বিড়াল হয়ে যায় সে।।
"দেখ আমি কোনকিছু ঘুরিয়ে পেচিয়ে জিজ্ঞেস করবো না..তুই যে ইচ্ছা করে এইসব করছোস আমি জানি সেটা..এখন আমার একটা কথার সোজাসাপটা উত্তর দে" ফারিশ বসা থেকে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো
"কি " ফারিহা বললো
"এটা কি সেই মেয়ে যার সাথে আমি বিয়েতে আবদ্ধ হয়েছিলাম??" ফারিশের গলা কাপছে বলার সময়
ফারিহা কিছু বলছে না,শুধু একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,
"ডিভোর্স দিতে আসছো ভাবীকে??
এই কথা শুনে ফারিশ শতভাগ সিউর হয়ে গেলো যাকে দুইদিন আগে দেখে দিওয়ানা হয়েছে সে,যার জন্য দুই রাতের ঘুম হারাম হয়েছে..যার জন্য এই মন যেটা কখনো তার অবাধ্য হতো না তার মন এখন ওই মেয়ের এক পলক দেখার জন্য অস্থির হয়ে আছে..এখানে আসার পর তার চোখ শুধু যে তাকেই খুজে বেড়াচ্ছে..
"কোথায় সে?" ফারিশ জিজ্ঞেস করলো
ফারিহা কিছু বললো,শুধু হেসে কিছু কথা জানিয়ে দিলো,
"তুমি যার জন্য তিনটা বছর বাড়ি আসো নি..যার কথা উঠলেই তুমি কথা না বলার হুমকি দিয়েছো??যাকে নববধুর সাজে ফেলে চলে গেছো...তুমি কি ভেবেছো যারে তুমি ঘেন্না করো সে তোমার সামনে এতোদিন আসে নি,আবার এখন আসবে?"
"প্লিজ বোন বল না..কই সে..আমি জানি আমি ভুল করেছি..অনেক বড় ভুল..ওকে দেখার জন্য আমার ভিতরটা হাসফাস করছে..ভিতরটা পুড়ে যাচ্ছে..ওকে না পেলে মনে দম টা এখনি বের হয়ে যাবে মনে হচ্ছে..দুইটা দিন আমি খাইতে, ঘুমাতে কিছু করতে পারি নি..একটা সেকেন্ডের জন্য আমি শান্তি পাই নি..মনে হচ্ছে ওকে না দেখলেই আমি মরে যাবো" ফারিশ বললো
"ভাইয়া মাত্র দুইটা দিন??আর ভাবী তিন বছর..এই তিন বছরে তার ভিতরটা কুড়ে কুড়ে খেয়েছে এইসব স্মৃতি.. তিনটা বছরে সে কাদতে কাদতে প্রতি রাতে ঘুমাইছে..পারবে কি মুছে দিতে??" ফারিহা বিদ্রুপ করে বললো
"আমি জানি না ওর ঘা মুছতে পারবো কি না..বাট আই নিড হার এনিহাও..ও চাক বা না চাক ওই যখন আমার সামনে ধরা দিয়েছে,আমাকে ওর কাছেই থাকতে হবে" ফারিশ চোখমুখ শক্ত করে বললো
"যদি না চায়??যদি যে মুক্তি চায়??যদি সে তোমাকে এখন দেখে মানতে না পারে??যদি সে ভাবে যে আমাকে এতো কষ্ট দিয়েছে তার কাছে কেন যাবো আমি??" ফারিহা অনেক কথা বললো
"ওর চাওয়াটা আমি আগে রাখি নি..এখন রাখবো..ওই চাইলেও ওই আমার আর ওই না চাইলেও ওই আমার..আই নিড হার বাই এনি কস্ট" ফারিশ চোখমুখ শক্ত করে বললো
ফারিহা কি বলবে বুঝে উঠে পারছে না,সে অন্তত এতোটুক বুঝতে পারছে তার ভাই এখন মোহর জন্য পাগল..মোহকে পাওয়ার আকুল আবেদন দুই চোখ জুড়ে..
এদিকে বিকাল হয়ে গেছে মোহ বাড়ি আসে নি এখনো..সন্ধ্যার আগ দিয়ে বাড়ি আসলো মোহ..বাড়ি এসে এসে গোসলে ঢুকে গেছে সে..বাহিরে যে গরম পরেছে..
এদিকে ফারিশের বুক ধকধক করছে মোহর বাড়ি আসছে যখন..অবশ্য খবরটা ফারিহাই নিজেই দিয়েছে..ফারিশ ফারিহার রুমে যেয়ে দেখলো মোহ গোসলে,ওয়াশরুম থেকে পানির আওয়াজ আসছে..
সোফাই পা তুলে মোহর ওয়েট করছে..এদিকে আধাঘন্টা পর মোহ গোসল সেরে সালোয়ার কামিজ পরে বের হয়ে আসছে..ওড়না তার বাইরে..ভিজা চুল গলাতে লেপ্টে আসছে..তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বের হচ্ছে।।
মোহর বের হয়ে যখন আসলো...সামনে বসে থাকা মানুষটার উপরের যখন চোখ গেলো সে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো..শরীর টা মনে হচ্ছে অসাড় হয়ে আসছে..দাড়িয়ে থাকার ভারসাম্য টা হারিয়ে ফেলছে..
নাহ আর পারছে না সে,দৌড়ে যেয়ে ওয়াশ্রুমের ভিতরে যেয়ে দরজা লক করে ডুকরে কেদে উঠলো..
এতোক্ষন ফারিশ মোহ্র দিকে এক দৃষ্টিতে নেশাভরা চোখে তাকিয়ে ছিলো..কোন মেয়ের নেশা এতোটা গ্রাস করে নি,যতটা এক পলকে সে করে গেলো..গলায় পেচানো ভিজা চুল..উফফ...লম্বা এক নিঃশ্বাস নিয়ে বললো,"আমার বউ"
বর্তমান,
ওয়াশরুমের দরজাতে ধপাধপ আওয়াজ পরছে..
"ওপেন দ্যা ডোর ড্যাম ইট..ভিতরে কি করছো তুমি??" ফারিশ চিল্লিয়ে বের হতে মোহকে
কিন্তু মোহ ওয়াশরুমে কেদে বেহুশ হয়ে পরেছে..লাস্টে যখন কোন রেসপন্স না পেলো ফারিশ,তার ভিতরটা অজানা ভয়ে নাড়া দিলো..ধাক্কাধাক্কির আওয়াজে উপরে সবাই এক দৌড়ে আসলো..
দরজা যখন ভেঙে ফেলা হলো..ফারিশ ভিতরে যেয়ে দেখলো মোহ ফ্লোরে বেহুশ হয়ে পরে আছে..
তার জানটা মনে হচ্ছে বের হয়ে গেলো..ফারিশ দ্রুত পদে কোলে তুলে এনে বেডে শুইয়ে দিলো..
এভ্রিল নিষেধ করতে গেলে সুলেমান বাধা দেয়..
"যার দায়িত্ব তাকে করতে দাও এখন..পুরোনো কিছু ধরে থাকতে বর্তমানটা আমাদের নষ্ট হবে" সুলেমান এভ্রিলের হাত ধরে বললো


খুব একটা মিষ্টি গন্ধ মোহর নাকে এসে বারি খাচ্ছে বারবার..তার ঘুমের ঘোরে মনে হচ্ছে কেও তাকে অনেক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে..চোখ খুলতে তার ইচ্ছা করছে না..
চোখ যখন খুললো তখন দেখলো কারো বুকের সাথে লেপ্টে শুয়ে আছে..বুকটা ধক করে উঠলো..চোখ তুলে উপরের তাকালো দেখলো ফারিশ তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে..কল্পনা কি না ফারিশের উদাম বুকে একটা চিমটি দিলো।।
"আউচ" ফারিশ হালকা চিৎকার দিলো
মোহ ওমনিতে ধড়াস দিয়ে উঠে দাড়িয়ে গেলো..সাথে সাথে এক চিৎকার,
"মাআআআআআআআআআআআ"
মোহর এমন চিৎকারে ফারিশের কানে মনে হয় তালা লেগে গেলো..রুম সাউন্ডপ্রুফ হওয়ার সুবাদে চিল্লানী বাহিরে যায় নি..
মোহ থরথর করে কাপছে..আর মোহর এই কাপাকাপি দেখে ফারিশ ভিতর ভিতর আনন্দ পেলেও মোহর সামনে গম্ভীর মুখ প্রকাশ করে আছে..
"কাম হেয়ার" গম্ভীরমুখে বললো ফারিশ
মোহ এখনো ঠায় মেরে দাড়িয়ে আছে..তিন বছর পর এই মানুষটার সামনে সে,নিজের চোখ দেখেও দেখছে না,মন বাধাও মানছে না আর বেহায়া কানের কথা কি বলবো..আরেকটা লাইন শুনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে..
মোহর রিয়াকশন না দেখে ফারিশ নিজে টেনে হাত ধরে নিয়ে আসলো..মোহর সারা শরীর বেয়ে মনে হচ্ছে কারেন্ট বয়ে গেলো..বুকটা কেমন ধুকপুক করছে..
"চিল্লালে কেন??" মোহর চুল কানের পিছে গুজে দিয়ে ফারিশ বললো
ফারিশের এমন বিহেভিয়ার দেখে মোহর চোখ ত কপালে..কারন,সে যতটুকু জানে ফারিশে তাকে মেনে নিতে পারে নি বিধেয় বিয়ের দিন তার মুখ না দেখে এইভাবে চলে গেছে..
চোখভর্তি জল নিয়ে তাকিয়ে আছে মোহ ফারিশের দিকে.. একটু সরে আসলো সে ফারিশের থেকে..ফারিশ আরেকটু কাছে গেলে মোহ ইশারায় না করে কাছে না আসার জন্য।।
ফারিশের ভিতরটা মনে হচ্ছে ছ্যাৎ করে উঠলো মোহর এমন এমন ইশারায় কাছে না আসার, অনুমতি না দেয়ার।।
মোহ চোখের জল এক হাত দিয়ে মুছে বেরিয়ে যেতে লাগলে..ফারিশ বলে উঠলো,
"স্টপ!!আই ডোন্ট গিভ ইউ পারমিশন টু গো আউট"
এমন থমথমে গলা শুনে মোহ দাড়ালো ঠিকই কিন্তু পিছন ফিরে তাকালো না..সে ভেবেছে ফারিশ এইবার তাকে হয়তো ডিভোর্স দেয়ার জন্য এসেছে।।
ফারিশ অয়ায়ের কদম চালিয়ে মোহর কোমর দুই হাত দিয়ে ধরতে গেলে..
"আপনি যা চাইবেন বা যে জন্য এসেছেন এখানে এসেছেন আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব না" কোনকিছুর না বুঝে এই জবাব দিয়ে গেট খুলে বেরিয়ে পরলো।।
ফারিশের চোখ রাগে একদম লাল হয়ে গেছে..
"এতো এভোয়েড??হাহ??সে ত এখনো জানেই নাই আমি ফাইজান ফারিশ,আমাকে ইগনর করার শাস্তি একদম তিলে তিলে সুদে আসলে দিব..আর কি বললো ও?? আমি যা চাই সে দিবে না??বাট সরি টু সে বেবি,আমি যা চাই তা নিয়েই ছাড়ি...আর সেখানে তুমি আমার বউ..তোমাকে ত আমি চাইইই চাইইই সেটাতে তোমার অনুমতি না থাকলেও" বাকা হেসে বললো..
লিভিংরুম,
সবাই নিচে বসে আছে,অপেক্ষা করছে মোহ আর ফারিশ নিচে নেমে আসার কিন্তু এখনো আসছে না শুধু ফারিশের রুম থেকে বিভিন্ন ভাঙচুরের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে..
"এই এক সমস্যা এই ছেলের,কিছুই হইলেই ভাঙচুর আরম্ভ করে" সুলেমান বিড়বিড় করে উঠলো
এভ্রিল উপরে অনেকবার যেতে চেয়েছিলো কিন্তু ফারিহা আর সুলেমান আটকে রেখেছে তাকে..পায়চারি করছে সারা লিভিং এরিয়া জুড়ে।।
মোহ ওয়াশরুম দরজা বন্ধ করে মুখ চেপে কাদছে..এতোবছর পর তার স্বামীকে দেখছে..কিজন্য আসছে তাকে মেনে নিতে?? অবশ্যই না..তাকে তার জীবন থেকে একদম বিতাড়িত করার জন্য এসেছে সে..
রাতেরবেলা,
লিভিংরুমের পরিবেশ থমথমে হয়ে আছে...কারন,ফারিশ আর মোহ কেও নিচে নামে নাই..মোহ মাথাব্যাথার অজুহাত দিয়ে আগেই রুম লক করে শুয়ে গেছে..
ফারিহা থাকতে না পেরে এই দমবন্ধ কর পরিস্থিতিতে, উপরে গেলো ভাইয়ের রুমে..দুই একবার নক করলো তবে সাড়া নাই..
"ভাইয়া দরজা খোল..তোদের টেনশনে বাকি সব মরে যাইতেছে আর রুম লক করে কি জপ করতেছোস??" ফারিহা বলে উঠলো
এই কথায় মনে হয় টনিকের মতো কাজ হলো তার..দরজা খুলে বের হয়ে আসলো সে..কিন্তু ফারিহাকে কিছু সুযোগ না দিয়ে নিচে চলে ধপাধপ পা ফেলে..ফারিহা রুমের হাল দেখে হতবাক..রুমের সব জিনিসের উপর যে মর্মান্তিক অত্যাচার হয়েছে সেটা সে বুঝতে পারছে,বুয়াকে ডেকে রুম পরিষ্কার করতে বললো..
ফারিহা নিচে যেয়ে দেখলো বাবা মায়ের সামনের সোফাতে ফারিশ বসে আছে..দুই হাটুর উপরে দুই হাত ভর দিয়ে থুতনীতে রাখছে..
"কি হয়েছে বলবা কি??" সুলেমান জিজ্ঞেস করলো
"তুমি না বললে বুঝতে পারবো কি করে???তাছাড়া তুমি এখানে এসেছো কোনকিছু বলার জন্যই তাই না??" এভ্রিল ইতস্ততভাবে বললো
ফারিশ এইবার চোখ তুলে তাকালো..চোখগুলো দেখে এভ্রিলের বুকটা ধক করে উঠলো..অসম্ভব লাল হয়ে আছে,আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় সে যে কেদে চোখ ফুলিয়ে রেখেছে সেটা..কারন,ফারিষ কষ্ট দিবে কিন্তু নেয়ার মানুষ না..
ফারিশ ধীর পায়ে কাছে এসে মায়ের হাটুর কাছে বসলো।।
"মা!!" ফারিশ এভ্রিলকে ডেকে থেমে গেলো..আসলে সেও এই প্রথকবারের মতো গুছিয়ে কথা বলতে যেয়েও পারছে না।।
এভ্রিল হয়তো আন্দাজ করতে পারছে ছেলের পরিস্থিতি..তাই তিনি এগিয়ে এসে ফারিশের হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোতে নিয়ে..চুলে হাত বুলিয়ে দিলো।।
"আই নো দ্যাট আই মেড এ মিসটেক..আই অলসো নো দ্যাট হোয়াট ই ডিড ইন পাস্ট,ইট ইজ রং" ফারিশ এইটুকু বলে থামলো।।
কিছুক্ষন থেমে আবার বলা শুরু করলো,
"আমার ভুলের জন্য আমাকে যা শাস্তি দিবা তুমি দাও কিন্তু ও যেন আমারে ছেড়ে চলে না যায়.. ও আমাকে ভুল বুঝে আছে আমি জানি,আমার উচিত হয় নি তাকে এইভাবে ফেলে চলে যাওয়াটা কিন্তু মা আমি আসলে জড়াতে চাই নাই কোন শিকলে..কিন্তু এই শিকলটায় আমাকে তার সাথে এমনভাবে আবদ্ধ করেছে যে আমি চাইলেও তার থেকে দূরে থাকতে পারবো না..আমি যদি একটু চিন্তাও করি দূরে চলে যাবে সে,আমার দম টা বন্ধ হয়ে আসে মা" এক নাগাড়ে কথা গুলো বললো ফারিশ
এভ্রিল স্তব্ধ হয়ে গেছে ফারিশের এমন কথা শুনে..সে এখনো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।।
"আই নো মা..আমার এই দুইদিনে যতটা দম বন্ধ হয়ে আসছে ঠিক ততোটাই ওর এই তিন বছরের হয়ে আসছে কিন্তু মা আমি ত এখন ওকেই চাই..যে করেই হোক" ফারিশ চোখমুখ শক্ত করে বললো।।
"কিন্তু এতো বছরের ঘা যা সে পেয়েছে মুছে ফেলা কি সম্ভব??এভ্রিল বলছে
" আমি সব পারবো"বাকা হাসি দিয়ে উপরে চলে গেলো ফারিশ
এভ্রিল,সুলেমান আর ফারিহা এখনো হতভম্ব হয়ে নিচে আছে..
রাতেরবেলা,
"ওই তোর রুমে চল..মোহ ওখানে ঘুমাবে ক্যান??আমি আসছি আমার ঘরে ঘুমাবে" ফারিশ ভ্রু কুচকে ফারিহাকে বলে উঠলো
"ভাইয়া তোমার কি মনে হয় ভাবী তোমার রুমে যাবে " ফারিহা বললো
"কেন যাবে না হু?? ওর ঘাড় যাবে!!অভিমান করছে ভাঙায় দিব..কিন্তু এখন আমার ঘরে আমার সাথে থাকা লাগবে,আমি থাকতে পারবো না আর ঘুমাতেও পারবো না ওরে ছাড়া" ফারিশ ব্যাকুল কন্ঠে বলে উঠলো
"আমি এই রিস্ক নিতে পারুম না ভাই..ভাবী যদি জানে কষ্ট পাবে..একটু সময় দাও তাকে এবং নিজেকে..গুছিয়ে উঠতে হবে সবকিছু..তাড়াতাড়ির ফল খারাপ হয়" ফারিহা বললো।।
অগত্যা ফারিশকে নিজের রুমে যেতে হলো..মোহকে আর রাতে দেখতে পেলো না।।
"ইউ আর মোস্ট ডিয়ারেস্ট পানিশমেন্ট অফ মাই লাইফ সুইটি" এই বলে বাকা হাসি দিয়ে ফারিশ ঘুমানোর চেষ্টা চালাতে লাগলো।।
সকালবেলা,
ফারিহা কোচিং থাকার কারনে সে একেবারে কলেজ ড্রেস পরে কোচিং এর উদ্দেশ্য রওনা দিলো..আজ গাড়ি নিয়ে বের হবে না,কানে হেডফোন গুজে রিক্সাতে উঠে চিপ্স খাইতে খাইতে গেলো কোচিং এ।।
কোচিং এ আসার পর,রিক্সাওয়ালাক
ে টাকা দিয়ে নিচে নামলো যখন..এক বাইকওয়ালা কই থেকে জোরে গাড়ি চালাচ্ছিলো দূর্ভাগ্যবশত ফারিহাকে লেগে যায়..বেশি ব্যাথা না পেলেও কব্জি খানিকটা ছিলে যায়..
"আহ!!" বলে নিচে বসে পরলো ফারিহা
বেচারা বাইকওয়ালা মাথা থেকে হেলমেট খুলে হন্তদন্ত হয়ে আসলো ফারিহা কাছে..কাছে এসে দেখতে চাইলে,ফারিহা এমন কটমট করে তাকালো যে এখনি ওকে খেয়ে ফেলবে।।
"ধাক্কা দিয়া ফালাইয়া কি তামাশা দেখতে আসছেন??একদম টাচ করবেন না!!সরেন" ফারিহা নিজে উঠে দাড়িয়ে জামা ঝেড়ে ভিতরে গেলো..
এদিকে আশেপাশের মেয়েরা ছেলেটাকে হা করে গিলে খাচ্ছে..
"আরে ব্রো মেয়েটা তোরে একেবারে ভাউ না দিয়ে চলে গেলো" একটা ছেলে বললো
"এইটা দ্যা পলিটিশিয়ান সুলেমান আঙ্কেলের একমাত্র মেয়ে" ছেলেটি বলে উঠলো অবাক যখন ফারিহাকে দেখতে পেলো।।
"সুলেমান ফাজের একমাত্র ফাবিহা ফারিহা ফাজ এই নুহাস চৌধুরীকে ইগনরে করে মনের ভিতর যে ভালোবাসার আগুন জ্বালালো সেটার কি হবে" শয়তানী হাসি দিয়ে বললো নুহাস
রাফাইয়েত নুহাস চৌধুরী সন অফ কবির চৌধুরীর একমাত্র ছেলে..নামীদামী ব্যবসায়ীদের মাঝে একজন..পড়াশোনা শেষে কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছে..বাবার ব্যবসাতে হাত লাগানোর আগে একটু লাইফটাকে ইনজয় করছে..বাইক তারই,তার বাবার থেকে কাল শোরুম থেকে লেটেস্ট মডেলের নিয়েছে..চেহারা,
এটিটিউড এবং চলাফেরা অলওয়েজ খাতারনাক..মেয়ে মানুষের ক্রাশ হলেও,মেয়ে মানুষের কাছ থেকে অলওয়েজ দূরে থেকেছে সে।।
ফারিহার কটমট করে তাকানো নুহাসের মনে একটা আলাদা উত্তেজনার জ্বালা সৃষ্টি করেছে..
"আই কান্ট ওয়েট টু সি হার ফর নেক্সট টাইম..এন্ড অভিয়েশলি আই নিড হার মাই লাইফ..ওয়েলকাম হানি..গেট রেডি টু কাম নুহাস কিংডম"
বাকা হাসি দিয়ে ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ কিনে পাঠালো নুহাস ফারিহার জন্য।।
সুলেমান আর এভ্রিল অবাক হয়ে সামনে বসে থাকা ব্যক্তিটির দিকে তাকিয়ে আছে..সামনে বসে থাকা ব্যক্তিটি বলছে,
"আমার ছেলে আপনার মেয়েকে শপিংমলে দেখে পছন্দ করে ফেলছে..সে আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চায়" ভদ্রলোক বলে উঠলো..
এভ্রিলের চিনতে অসুবিধা হয় নি ছেলেটাকে..এই ছেলেটা সেদিন মোহকে নাম আর ও কি কি জিজ্ঞেস করছিলো।।
"আমার মেয়ে ইন্টারমিডিয়েট পড়ে এখন বিয়ে দিবো না" সুলেমান বললো
"আঙ্কেল আমি আপনার ছোট মেয়েকে চিনি..আপনার বড় মেয়েকে আমি বিয়ে করতে চাই" স্যুট পরা একটা সুদর্শন ছেলে বলে উঠলো
"ওটা আমার মেয়ে না,ওটা আমার বড় ছেলের বউ" এভ্রিল বললো
"হোয়াট!!" ছেলেটা এক প্রকার চিৎকার দিলো..
মোহ ওই সময় বুয়াকে দিয়ে চা আর নাস্তা দিয়ে পাঠালো
"এই তুমি ম্যারিড আগে বলো নি কেন?আর হলেও আমি ডিভোর্স দিয়ে ছাড়াবো মাইন্ড ইট" ছেলেটি রেগে বললো
মোহ ত ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে আচমকা প্রশ্নে..এভ্রিল সামনে এসে দাড়ালো।।
"গিভ সাম গ্যাপ বয়..ইউ আর টকিং টু মাই ডটার ইন ল..কিপ ইউর ভয়েস ডাউন" এভ্রিল রেগে বললো
এদিকে ফারিশ উপর থেকে শার্ট ফোল্ড করতে করতে আসছে..যখনি ছেলেটা মোহর কাছে এসে দাড়িয়েছে,তা দেখে মেজাজ গরম হয়েছে আবার যখন সে বললো ডিভোর্স দিয়েই ছাড়বে..এইটা শুনে মাথার রগ রাগে ছিড়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে..
নিচে নেমে এসে ছেলেটার কাছে যেয়ে মুখের উপর এক ঘুষি দিলো ফারিশ..
"আমার বউ কে আমার কাছে আলাদা করবি??সাহস কত তোর?? ফারিশের জানের দিকে তাকাইছোস?? আই কিল ইউর ব্লাডি বিচ" ফারিশ রাগে আরো কয়েকটা ঘুষি দিলো।।।

লিভিংরুমের পরিবেশ থমথমে ফারিশ হাত মুঠ করে সোফায় বসে আছে..রাগে তার সারা শরীর বারবার কেপে উঠছে..এরকম চুপ থাকা যে কোন তুফানের পূর্বাভাস সেইটা তার বাবা মা বুঝতে পারছে।।
"মা?তুমি এই ছেলেরে চিনো??" মোহর দিকে তাকিয়ে ফারিশ প্রশ্ন করলো..মোহ ত মেঝেতে নখ খুটিয়ে যাচ্ছে ভয়ের ঠেলাতে..বিনা কিছু করাতেই তার অবস্থা করুন হয়ে দাড়িয়েছে..
"হ্যা এই ছেলেটা মোহকে শপিংমলে নাম আর কি কি জিজ্ঞেস করেছিলো..আমি ওরে সেখান থেকে উত্তর দিয়ে টাইনা নিয়ে গেছি" এভ্রিল উত্তর দিলো।।
ফারিশ চোখমুখ শক্ত করে মোহর দিকে তাকালো,মোহ এখনো মাথা নিচু করে আছে..ফারিশ কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো গাড়ি নিয়ে।।
ফারিশের এই স্বভাবের সাথে পরিচিত তার বাবা মা..এইজন্য উনারা আর কিছু বলে নি,কিন্তু মোহর কাছে ফারিশের এই স্বভাবটা নতুন..সে বেশ ভয় পেয়েছে..এভ্রিল বুঝতে পেরে,মোহকে সাথে করে ঘরে নিয়ে গেলো..
"মনোযোগ দিয়ে কিছু কথা শুন,আমি যা বলবো এখন" এভ্রিল বললো
"ফারিশের উপর তোর অভিমান জমে আছে অনেকখানি..এটাও জানি এটা সহজে ভাঙার নয়..আমি আমার ছেলের হয়ে সাফায় গাইতে আসে নি..আমি তোকে আমার মেয়ে ভাবি বিধেয় কথাগুলো বলছি..ফারিশ তোকে ডিভোর্স দিতে আসে নি,বরং তোর উপর এতোবেশি দূর্বল হয়েছে সে,তোর সাথে সংসার করার জন্য এসেছে সে!!" এতটুক বলে এভ্রিল থামলো
সংসার করতে এসেছে শুনে মোহর বুকের উপর মনে অনেক কেজি ওজনের পাথরটা সরে গেলো।।
"জানি তুই হয়তো ভেবেছিস ডিভোর্স দেয়ার জন্য সে এসেছে কিন্তু না,তোর মতো আমিও ভেবেছিলাম এরকম কিছু একটা..এই কথা শোনার পর জানি তুই ওর সাথে ঢ্যাংঢ্যাং করে ক্ষমা করে দিবি..কিন্তু আমি বলছি তুই এটা করবি না" এভ্রিলের সাফ জবাব
"ক্ষমা করতে না করছে তার ছেলেকে??" এই কথা শুনে মোহ কিছুক্ষন তার শাশুড়ী দিকে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকলো।।
"শোন ওকে তোর গুরুত্বপূর্ণ টা আরো বুঝাতে হবে...ক্ষমা করবি,করে দে কিন্তু বুঝতে দিস না..চড়কা কারে তাকে ঘুরা কিছুদিন.." এভ্রিল বললো
"মানে" চোখ বড় বড় করে বললো মোহ
"মানে সোজাসাপটা তাকে তোর পিছে ঘুরা কয়দিন,যেমনটা তুই এতোবছর অপেক্ষা করেছিলি" এভ্রিল চোখ ঘুরিয়ে বললো
"কিন্তু মা" মোহ কিছু বলতে যাবে তার আগের এভ্রিলের ধমক
"চুপ..যা বলছি তাই করবি..ওর সামনে নরম থাকবি কিন্তু বুঝতে দিবি না তুই সব জানোস,মাফ কইরা দিছোস" এভ্রিল বললো
"কিন্তু মা উনি যে রাগী,আজ যেমন ব্যবহার করলো..আমার দিকে যেইভাবে তাকিয়ে ছিলো মনে হচ্ছে আজকে কুরবানী করে দিবে" মোহর জবাব
মোহর কথা শুনে এভ্রিল ফিক করে হেসে দিলো।।
"হ্যা ওদের বংশের সব কয়টা এক লাইনের..রাগী আর বদমেজাজি তবে ফারিশ একটু বেশি..ছোট থেকে ওর যা চায় দিতেই হতো না দিলে কি যে প্রবলেম করতো" এভ্রিল বললো
"কিন্তু মা তুমি যেসব বলছো, আমি কি পারবো করতে?" মোহ ঢোক গিলে বললো।।
"পারবি না মানে,পারতেই হবে..নাইলে ওই ছেলেরে ডেকে এনে তোর বিয়া দিয়ে দিব?" এভ্রিল হাসি আটকে রেখে বললো
"না না না আমি পারবো" মোহ তাড়াহুড়ো করে বললো
এভ্রিল হো হো করে হেসে মোহকে জড়িয়ে ধরলো।।
কলেজ,
কোচিং এ এক পিচ্চির কাছ থেকে ফারিহা ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ পেয়ে,সেটা কব্জিতে লাগিয়ে রেখেছে..পিচ্চিেক
জিজ্ঞেস করেছিলো কে দিলো??পিচ্চিটা কিছু না বলে দৌড় দিসে।।
কলেজ শেষে ক্লাসমেটদের সাথে ফারিহা দাড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছে।।
দূর থেকে গাড়ির ভিতরে চোখে সানগ্লাস দিয়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে নুহাস ফারিহার দিকে..সকালে দেখার পর থেকে নুহাস ছটফট করছে ফারিহাকে দেখার জন্য,এখন ছুটি শেষে তাকে দেখতে এসেছে।।
কিছু বখাটে ছেলে আশেপাশে ঘুরঘুর করছে আর টিস করছে বাকি মেয়েদের..ফারিহা চুপচাপ খাচ্ছে কিছু বলছে না।।
কিন্তু দূর থেকে নুহাস সব দেখছে,এই কান্ড দেখে সে ভীষণ রেগে গেছে..গাড়ি থেকে নেমে ওদের দিকে এগোতে যাবে কি একটা অনেক জোরে থাপ্পড়ের সাউন্ড আসছে।।
নুহাস এগিয়ে গিয়ে দেখলো ফারিহা একটা ছেলের চুল ধরে একের পর এক থাপ্পর মেরেই চলছে।।
"আর আমার ফুচকার প্লেটে হাত দিবি??তোর সাহস ত কম না আমার ফুচকার প্লেট থেকে ফুচকা তুলে খাস তুই??বাইর কর,এখুনি ফেল" এই বলে আবারো থাপ্পর মার‍তে লাগলো
"আফা মাফ করি দেন,আমি ফুচকা কেন..আমি আজ বাড়ি যেয়ে ভাত ও খাবো না!!ছাইড়া দেন" এই বলে ছেলেটা পা ধরতে আসছে
"লজ্জা করে না মেয়েদের টিস করোস আর আমার ফুচকা খেয়ে,আমারে টিস করার সাহস করার চেষ্টা করছোস"ফারিহা রাগে আবারো মারতে গেলে কেও তার হাত টেনে সামনে নিয়ে আসলো।।
" ইনাফ..যথেষ্ট মেরেছো তাকে,এইবার অফ যাও?? যতটা মেরেছো ওই আর কোন মেয়েকে টিস করার আগে দশবার ভাববে?" নুহাস কথা গুলো বললো
নুহাস ফারিহার হাত ধরেছে বলে ফারিহা নিজের কনুই দিয়ে নুহাসের পেটে দিলো এক গুতা।।
"আউচ" বলে নুহাস পেটে হাত দিলো।।
"নেক্সট টাইম ফারিহা ফাজের হাত ধরার সাহস করবেন মিস্টার ধলা মুরগী..স্টে এওয়ে ফ্রম মি" এইটা বলে ফারিহা সামনে চুল টা উপরের উঠিয়ে গাড়িতে উঠে চলে গেলো।।
"মেয়েদের কাছ থেকে দূরে থাকতি ঠিকই তুই কিন্তু মেয়েরা তোর কাছে দূরে থাকতো না..প্রেমে পরলি ত পরলি এমন এক লেডি ডনের প্রেমে পরলি যে প্রথম মিটেই মার দিলো..এতো কড়া?? ডোন্ট ওয়ারি বেবি..একবার সব সেটেল হোক,তখন তোমাকে টাইট দিয়ে পানিশমেন্ট দিব একদম কড়া করে" এই বলে নুহাস বাকা হাসি দিয়ে গাড়িতে উঠে পরলো।।
সন্ধ্যাবেলা,
ফারিশ সকালে যেয়ে এখনো আসছেনা দেখে মোহর টেনশনে দুপুরে খেতে পারে নি..এভ্রিল অনেকবার বললো কিন্তু ওর ভয় লাগছে ফারিশ এখনো আসে নি এইজন্য।।
ফারিহার কব্দিতে স্যাভলন দিয়ে,মলম দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে মোহ..সুলেমান আর এভ্রিলকে স্ন্যাকস দিয়ে,টেবিলে পানি রাখছিলো।।
কোথা থেকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে ফারিশ মোহর এক হাত ধরে উপরে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে,এমন আচমকা টানার কারনে মোহর ভিতরটা ভয়ে কুকড়ে যায়।।
কেও কিছু বললো না..তাদের ব্যাপার, তারাই মিটিয়ে নিক।।
ফারিশ মোহকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে যেয়ে,ভিতর থেকে লক করে দিলো।।
"স্টে হেয়ার..আমি শাওয়ার নিয়ে আসি?? বের হয়ে না পেলে,তোমাকে কি করবো আমি নিজেও জানি না" এই বলে ফারিশ তোয়ালে নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।।
২০মিনিট পর ফারিশ বের হলো ওয়াশরুম থেকে..ফারিশের পরনে শুধু ব্ল্যাক কালারের থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট..ফর্সা শরীরে বুকের মাঝে বিন্দু বিন্দু পানি..
মোহর দিকে তোয়ালে এগিয়ে বললো,
"মুছো?"
ফারিশ বেডে বসলো..মোহ দাড়িয়ে কাপা কাপা হাতে ফারিশের চুল মুছে দিতে লাগলো..
ফারিশ মোহর কোমর টা ধরে একটু টেনে সামনে আনলো...এই প্রথম তার স্বামীর স্পর্শ এতো কাছ থেকে পাচ্ছে।।
মোহর এরকম কাপাকাপি দেখে ফারিশ আরেকটু কাছে টেনে মোহর কোমর ধরলো..মোহর সালোয়ারের উপর দিয়ে ফারিশের গরম গরম নিঃশ্বাস ফেলছে..
এদিকে মোহর হাত থেমে গেছে আর মুছতে পারছে না সে ফারিশের চুল..তার কলিজাটা মনে হচ্ছে গলার কাছে এসে আটকে গেছে।।
মোহর সহ্য করতে পারছে না ফারিশের নিঃশ্বাস..পা টাও মনে হচ্ছে চলছে না,কোনরকমে সরে আসতে চাইলে ফারিশ আরো শক্ত করে ধরে টেনে এনে,মোহর পেটে মুখ গুজে দিলো..
"ডোন্ট মুভ?? ডু হোয়াট আই সে??মোহর পেটে মুখ গুজে কথাগুলো বলছিলো ফারিশ..
বুঝতে পেরেছে সে আর সরাতে পারবে না..নিজেকে সামলানো বড় দায় হয়ে গেছে তার আজ..কোনরকম ঢোক গিলে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছলো..
বেশকিছুক্ষন এরকম হওয়ার পর,ফারিশ মোহর পেট থেকে মুখ সরিয়ে মোহর হাত ধরে তার সামনে বসালো।।
"বসো..আমি আসছি?" এই বলে ফারিশ আলমারির দিকে গেলো।।
প্যাকেট নিয়ে মোহর সামনে ধরলো,মোহ প্যাকেটের দিকে তাকাচ্ছে একবার আর একবার ফারিশের দিকে।।
ফারিশ নিজে প্যাকেট খুলে দিলো..প্যাকেটের ভিতরে জিনিস দেখে মোহ অবাক হলো।।
কারন,প্যাকেটের ভিতরে ছিল স্বর্নের চুড়ি,নাকফুল,কানের দুল ছোট করে সিম্পল, আংটি আর চেইন।।
"আমি কি করবো এইগুলো?" মোহ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো।।
ফারিশ কোন জবাব দিলো না..চুড়ি গুলো মোহর হাতে পরিয়ে দিলো,নাকফুল আগের টা খুলে নিজের আনা পছন্দমতো বালি সিস্টেম নাকফুল পরালো,কানের দুল পরালো..আংটি পরালো..চেইন পরানোর সময় ফারিশ মোহর ঘাড়ে একটা কামড় দিলো..মোহ এমনিতে শিউরে উঠছিলো যখন এইসব পরাচ্ছিলো,এখন ত মনে হচ্ছে এই কামড়ে মরেই যাবে..
ফারিশ যেখানে কামড় দিয়েছিলো সেখানে ঘনঘন চুমু দিলো কয়েকটা..মোহ ফারিশ হাত খামচে ধরেছে।।
বেশকিছুক্ষন পর ফারিশ সরে আসছে,কিন্তু মোহ চোখ বন্ধ করেই আছে।।
"এইগুলো কখনো খুলতে যেন না দেখি??এইগুলো সবসময় পরার জন্য সিম্পলের মধ্যে এনেছি আমি..কখনো খোলা দেখলে খবর আছে"ফারিশ বললো
মোহ চোখ খুললো ঠিকই কিন্তু তাকাতে পারছে না লজ্জায় সে ফারিশের দিকে।।
ফারিশ মোহর সামনে হাটুর ভরে বসে,মোহর কোলে মাথা দিলো..মোহর হাত টেনে নিয়ে নিজের মাথাতে রাখলো।।
মোহ ত অবাকের উপর অবাক হচ্ছে,একদিনে এতোকিছু??সইবে ত?
"জানি আমি ভুল করেছি..ভুল না অন্যায় করেছি কিন্তু ভুলের শাস্তি তুমি যা দিবা মেনে নিব"কোলে মাথা রেখে বলছে ফারিশ।।
"তুমি যদি ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তাও করো?? তোমাকে মেরে মাটিতে আমি পুতে দিব??যে আলাদা করার বিন্দুমাত্র ট্রাই করবে তাকে দুনিয়া থেকে সরাতে আমি দুই সেকেন্ড সময় নিব না..কিন্তু তুমি যদি আমার কাছ থেকে এখন এই মুহূর্ত থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবো আই প্রমিস টু আল্লাহ,আই উইল কিল ইউ..ডোন্ট ইউ এভার ডেয়ার টু স্টে এওয়ে ফ্রম মি..যত পারো সামনে থেকে শাস্তি দাও,আমি তোমার মুখ দেখে সহ্য করে নিব কিন্তু দূরে গেলে কি করবো বলেই দিয়েছি??তুমি আমার..তোমাকে চাই আমি শুধু..মাইন্ড ইট?? ফারিশ কোলের মধ্যে মাথা রেখে এতো কথা বলে গেলো।।
ফারিশ মাথা তুলে মোহর ঠোটে বেশকিছুক্ষন চুমু খেয়ে বললো,
"যা বললাম মাথায় থাকে যেন?"
এইটা বলে ফোন নিয়ে বারান্দায় গেলো ম্যানেজারকে কল করতে কারন আমেরিকা ত সে আর যাবে না..ব্যবাস সব এখানে সেটেল করবে তাই যত দ্রুত সম্ভব এখানে সব শিফট হোক।।
মোহর হাত আপনা আপনি ঠোটে চলে গেলো..খুশির কারনে,চোখ দিয়ে উপচে জল পরলো।।
"তুমি আমার,তোমাকে চাই শুধু " এইসব শুধু তার কানে বাজছে।।

দেখতে দেখতে দিন চলে আসছে ফারিহার জন্মদিনে তবে এভ্রিলের ইচ্ছে নাই ধুমধাম জন্মদিন পালন করার..সে খ্রিস্টান পরিবারের মেয়ে হলেও সুলেমানকে বিয়ে করে সে মুসলিম ধর্ম নিয়েছে।।
ফারিহার জন্মদিন পালন না করলেও ফারিহার জন্য সুখ শান্তির বাসায় ইমাম সাহেব ডেকে মিলাদ দিবে,ফারিহার পছন্দের খাবার সে আর মোহ মিলে বানাবে।।
মোহকে ফারিশ আর ফারিহার রুমে ঘুমাতে দেয় না..এইতো কিছুদিন আগ,মোহ ফারিহার রুমে এসে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো ওমনি পিছন দিক থেকে এসে ফারিশ মোহকে কাধের উপর তুলে নিয়ে যাচ্ছে রুমের দিকে,মোহ এদিক ওইদিক তাকাচ্ছে কেও দেখলো কি না শরমে তার মাথা শেষ হয়ে যাবে কেও দেখল।।
ঘরে এসে বিছানায় ধপ করে দিলো ফারিশ মোহকে,মোহ উঠতে চাইলে মোহকে বিছানার সাথে চেপে ধরে বলছে সে,
"তোরে বলছিই না যা শাস্তি দেয়ার আমার পাশ থেকে আমারে সামনে রাইখা শাস্তি দিতে??তুই কোন সাহসে ফারিহার রুমে ঘুমাস??নাকি দেখতে চাস আমি রেগে কিছু করি??"
এরকম কথা শুনে মোহ ত এক প্রকার ভয়ে চোখজোড়া বন্ধ করে আছে..ফারিশ নিজেকে শান্ত করে মোহর চোখজোড়ার উপর লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে চুমু খেলো..বুকের মধ্যে নিয়ে বললো,
"সব সহ্য করতে পারবো কিন্তু তোমার কাছ থেকে নিজেকে আলাদা করার এক বিন্দু টর্চার আমি সহ্য করতে পারবো না"ফারিশ মোহর কপালে ঠোট রেখে কথা গুলো বলছিলো।।
এদিকে ফারিহা ঘুমাতে পারছে না নুহাসের কলের জন্য..এই বজ্জাত ছেলে ওর নাম্বার কিভাবে পেলো??আবারো ফোন বাজছে..ধরলো না সে বাজতে থাকুক..মেসেজ আসলো,
" ফোন না ধরার সাহস দেখাও??ওয়েট তোমার বাসায় আসছি"
ফারিহা এই হুমকিতে ভয় পেলো কারন এর কিছুদিন আগে সে বাসার নিচে গাড়ি দাড়িয়ে ছিলো,ফোন না ধরাতে।।
ফোন বেজে উঠলো আবার ফারিহা অগত্যা উপায় না দেখে ফোন রিসিভ করলো..
"হ্যালো.এই এই আপনার সমস্যা কি??নিজের ঘুম হয় না বলে আমারে ঘুমাতে দিবেন না আস্ত একটা খাটাশ লোক" ফারিহা রাগে গজরাতে গজরাতে বললো
"এই আমি ডেইলি শাওয়ার নি, কই থেকে খাটাশ হলাম??আর তুমি ফোন না ধরে,আমার শান্তির ঘুম কেড়ে নিয়ে নিজে কিভাবে ঘুমাও কুম্ভকর্ণ?? নুহাস বললো
" এই শুনেন এতো পেচাল পারার টাইম নাই..ঘুম ভাল্লাগে আমার আমি ঘুমাবো..ঘুমকেই দরকার রাখেন ফোন" ফারিহা বললো
"এহ,বললেই হলো ঘুম দরকার??আমার তোমাকে দরকার,ঘুম সাইডে রাখো..মাথা গরম করো না...একটু সুন্দর করে কথা বলো বাবু?" নুহাস একটু নুইয়ে বললো
"কে বাবু?? আমি কি দুই বছরের বাচ্চা?? ফিডার খায় যে বাবু ডাকেন আস্ত একটা শয়তানের নানা"ফারিহা বলো দাত কিড়মিড় করে।।
এইভাবে চলতে থাকে তাদের টম এন্ড জেরীর মতো সারাক্ষন খুনশুটি..আজকাল নুহাসের উপরেও ফারিহার মায়া জন্মে গেছে..এক মিনিট কল দিতে দেরী বেচারাকে একদম ধুয়ে দেয়..তবে নুহাস ফারিহা এই ঝাসি কি রানী ওয়ালা লুক টা সে প্রচন্ড ভালোবাসে কারন এইজন্য সে তার প্রেমে উপুত করে পরে গেছিলো।।
জন্মদিন,
রাতে কেও উইশ করতে আসে নাই ফারিহাকে কিন্তু এই নিয়ে তার মাথা ব্যাথা নেয় কিন্তু নুহাস তাকে একটাবারের জন্য কল করে উইশ করার প্রয়োজনবোধ করলো না এই ভেবে তার কান্না পাচ্ছে।।
এভ্রিল আর মোহ দুজন মিলে অনেক রকমের রান্না করছে সব ফারিহার পছন্দের।।
দুপুরে সবাই মজা করে খেলেও ফারিহা খাবারে মন বসাতে পারে নি,ভিতর থেকে কান্না গুলো দলা পাকিয়ে মনে হচ্ছে ঠেলে বের হয়ে আসবে..সারাদিনেও একটাবার নুহাস ফোন দেয় নি ফারিহাকে।।
বিকালবেলা,
মিলাদ পরানো শেষ হলো কিছুক্ষন আগে..মোহ সবার হাতে মিস্টির প্যাকেট দিচ্ছে।।
"এতিমরে এখনো ঘরের বউ রাখছো??যার জন্য তোমার ছেলে দেশ ছাড়লো,তিন বছর আসলো না তারে কিভাবে মাথায় রাখো??অবশ্য মেয়ে লোভী না হইলে কি থাকে??আমি হইলে ওইদিন ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতাম" কটুক্তি করে বললো এক মহিলা
মোহর চোখে পানি এসে পরেছে অলরেডি..চলে যাওয়ার জন্য অন্যদিকে পা বাড়ালে,কেও তার কোমর শক্ত করে ধরে সামনে আনলো।।
এভ্রিল আর ফারিহা রেগে কিছু বলতে যাবে,সুলেমান ইশারা দিয়ে চুপ করতে বলে সামনের দিকে তাকাতে বললো।।
"আচ্ছা তাই মিসেস মজুমদার??আমার বউ না হয় এতিম,আমি ওর জন্য ঘর ছেড়েছি কিন্তু ওর জন্য যে আমি পাগল হয়ে ওর সাথে সংসার করার জন্য আসছি সেইটা দেখলেন না??আর কি বলছিলেন লোভী??আই থিংক আপনার মেয়ের থেকে আমার বউ কম আসে এই ক্ষেত্রে?? আমার বউ আমার ভালোবাসার লোভী,আমার বউ আমার ফ্যামিলির প্রতিটা মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য লোভী!! কিন্তু আপনার মেয়ে বাচ্চা দুইটা হয়েও,পরকীয়া করে টাকার জন্য??কেন স্বামী তার ব্যবহারের জন্য তার হাতে হাত খরচের টাকা দেয় বলে??" ফারিশ মুচকি হেসে কথাগুলো বললো
মিসেস মজুমদারের মুখ অপমানে লাল হয়ে গেছে..তিনি চলে যেতেই ফারিশ মোহর দিকে তাকিয়ে দাতে দাত চেপে বললো,
"ট্যাংক অলওয়েজ অন থাকে??নিজের স্ট্যান্ড নিতে পারো না?? খালি ভ্যা ভ্যা করে কাদতে জানো,আর আমারে কিভাবে চিপায় ফেলতে হয় সেইটা জানো?"
মোহ ভাবছে সে কখন তাকে চিপায় ফেললো..ফারিশের মোহর প্রতি স্ট্যান্ড নেয়াতে ফারিহা সোফার উপর দাড়িয়ে জোড়ে জোড়ে শিশ বাজালো।।
সন্ধ্যাবেলা,
সবাই বসে নুডুলস খাচ্ছে,ওই মুহূর্তে এক ফ্যামিলি বাসার মধ্যে আসলো বিভিন্ন থালি নিয়ে..থালির উপরে কাপড় দেয়া,বুঝায় যাচ্ছে থালির নিচে কিছু আছে।।
ফারিহা চোখ তুলে তাকালে সে ঝটকা খায়,সামনে আর কেও না নুহাস সাদা পাঞ্জাবি পরে কিলার লুক দিয়ে হেসে আসছে।।
ফারিহার মাথা এক প্রকার ভৌ ভৌ করছে এরা কেন??
"ব্রো!! কেমন আছো??" বলেই ফারিশের সাথে ম্যানলি হাগ করলো নুহাস ফারিশকে
ফারিশ ও সেইম ভাবে জড়িয়ে ধরলো,অবাক করার বিষয় ফারিহার কাছে তা হলো তার ভাই নুহাসকে তুই তুকারি করছে।।
তার মাথা ভার হয়ে যাচ্ছে এইসব দেখে,সে জানতে পারলো আমেরিকার ইউনিভার্সিটি তে জুনিয়র ছিলো নুহাস..আর তাদের সম্পর্ক অনেক ভালো..উঠাবসা সবখানে প্রায় জায়গায় উপস্থিত থাকতো সে..কিন্তু দেশে আসার পর দেখা হয় নি তাদের আর..
ফারিহার মাথায় আরেকটা ঝটকা পরলো যখন সে শুনলো আজ তার আকদ তাও আবার নুহাসের সাথেই..তার ভাই শুধু না তার ফ্যামিলি সবাই মিলে আগে থেকে মিট করে এটা প্ল্যান করে রেখেছে,আগে আকদ হবে তারপর ফারিহার ভার্সিটি শেষে অনুষ্ঠান হবে।।
ফারিহার মুখ দেখার মতো হয়ে আছে সে শুধু কাদতে বাকি রেখেছিলো..মোহ ফারিহাকে শাড়ি পরিয়ে নিচে নিয়ে আসলো..দেখতে নীল শাড়িতে নীল টুকটুকে পরী লাগছিলো।।
চোখের সামনে নুহাস আর ফারিহার বিয়ে হয়ে গেলো..নুহাস সবার আড়ালে ফারিহার কোমর চেপে ধরলো,ফারিহা চোখ বড় বড় করে তাকাচ্ছে।।
"হ্যাপি বার্থডে আমার ঝাসি কি রানী!!এইটা তোমার বার্থডে গিফট??এইটা দিব বলে সারাদিন কল দি নাই,গতরাতেও অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করেছি..গেট রেডি টু টলারেট মাই টর্চার বেবি??নুহাস ফিসফিসিয়ে বলে বাকা হাসি দিলো।।
" আমার সুখের দিন শেষ" ফারিহা বিড়বিড় করে বললো।।
সবাই মিলে একটা হ্যাপি ফ্যামিলি ফটো নিলো,দুই ফ্যামিলি মিলে।।
নয় মাস পর,
মোহকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অপারেশনে..সে প্রেগন্যান্ট..হ্যা সে ফারিশে বাচ্চার মা হতে চলেছে..ফারিশকে সে শাস্তি দিতে না পারলেও,প্রেগন্যান্সির সময় ফারিশকে সে চড়কা আকারে ঘুরিয়েছে..কখনো এই খাওয়ার আবদার,কখনো গোসল করানোর কখনো বমি পরিষ্কার কখনো মাথায় তেল দেয়া..ফারিশকে নাকানি চুবানি দিয়েছে সে কিন্তু ফারিশ এইসব করতে কখনো ক্লান্ত হয় নি.. ফারিশ যখন দেখলো মোহ প্রেগন্যান্ট তখন এতোবেশি খুশি হয়েছিলো মোহকে নিয়ে সারারাত কোলের মধ্যে ছিলো সে..
নার্স দুইটা এসে দুইটা বাচ্চা নিয়ে আসলো..মোহর টুইন বেবি
হয়েছে..বাচ্চা কোলে নেয়ার আগে ফারিশ জিজ্ঞেস করলো,
"আমার ওয়াইফ কেমন আছে?"
নার্স হেসে বললো,"তিনি আশংকা মুক্তো..দেখা করতে পারেন"
এভ্রিল দুই নাতি আর নাতনী কে নিয়ে মহাখুশি, সারা হসপিটাল জুড়ে মিস্টি দিচ্ছে সুলেমান।।
"আমরা কখনো নিব বাচ্চা বেবি??" নুহাস ফারিহাকে বলছে.তারাও,ফুফা ফুপি হওয়ার আনন্দে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছে..
"বেবি ডাকো??আবার বাচ্চাও চাও..আস্ত একটা হাদারাম" ফারিহা মুখ ভেঙচি দিলো।।
নুহাস ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো..এই মেয়ের মুখে কিছু আটকায় না??
ফারিশ কেবিনের দরজা খুলে মোহর কাছে গেলো,ক্যানোলা হাতে নিয়ে শুয়ে আছে।।
কারো উপস্থিতিতে সে চোখ খুললো,সে ইশারায় পাশে বসতে বললো ফারিশকে।।
ফারিশের ভয় এতোবেশি ছিলো যে মোহর প্রেগ্ন্যাসির সময় তাদের উপরের রুমটা নিচে করেছিলো..মোহকে বেড থেকে নামতে দিতো না,নামলেই অনেক বকতো সে।।
"ভালোবাসি" মোহ ফারিশের দিকে তাকিয়ে বললো..এই প্রথম মোহ ফারিশকে তার ভালোবাসি কথাটা বললো
"আমিও ভালোবাসি,খুব ভালোবাসি" ফারিশ মোহকে জড়িয়ে ধরলো।।
কিন্তু এর মধ্যে এভ্রিল, সুলেমান,ফারিহা আর নুহাস দরজা ঠেলে বেবিদের নিয়ে ঢুকলো।।
"এখন আর রোমান্স হবে না..এখন আমাদের বেবিদের সময়" নুহাস বলে উঠে মোহ আর ফারিশের মাঝে দুইটা বেবি রেখে দিলো।।
রুমে সবার হাসির রোল পরলো।।এইভাবে কেটে যাক তাদের সুখশান্ত্রি জীবন..

সমাপ্ত

লেখকঃ তৃধা মোহিনী (ছদ্মনাম)   

Post a Comment

0 Comments

Close Menu