Advertisement

ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণীবিন্যাস ও কনজুগেশন

এই পর্ব শুরু করার আগে একটা গল্প হয়ে যাক।
টি.টি.এস. পি.২.১.২.৯ নতুন আবিষ্কৃত গ্রহে পাওয়া গেছে পানির সন্ধান। বিজ্ঞানীদের ধারণা পানিতে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া সম্ভব। যথা সময়ে সেই পানির নমুনা নিয়ে আসা হলো পৃথিবীতে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে খোঁজ পেল ব্যাকটেরিয়ার মত কিছু জীবের। এখন পরীক্ষার পালা, এই জীব কি পৃথিবীর ব্যাকটেরিয়ার মত? নাকি এরা অন্য রকম?
বিজ্ঞানীরা প্রথমে দেখলেন নমুনা পানিতে পাওয়া ব্যাকটেরিয়ার মত জীবগুলোও গোলাকার, দন্ডাকার।
বিজ্ঞানীরা এদের আকার অনুযায়ী আলাদা করলেন প্রথমে।

তবে তার আগে ব্যাকটেরিয়ার গঠন অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ তারা একবার দেখে নিলেন।
চলুন এবার আমারাও দেখে নেই ব্যাক্টেরিয়ার শ্রেণিবিভাগ।

মূলত ব্যাক্টেরিয়াকে কোষের আকৃতিগত পার্থক্য দ্বারা শ্রেণিবিভাগ করা হয়ে থাকে।
১) কক্কাসঃ নামটা কটমটে হলেও, এই ব্যাক্টেরিয়াগুলো অনেক গুলুমুলু। হ্যা, কক্কাস শ্রেণির ব্যাক্টেরিয়াগুলো গোলকের মতো গোলাকার । এগুলো মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখতে ছোট ছোট বৃত্তের মতো।

কক্কাস ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে আবার ৬ ভাগে ভাগ করা যায়।
->মনোকক্কাসঃ এরা সিঙ্গেল নিব্বা। অর্থাৎ যেসব কক্কাস ব্যাক্টেরিয়াগুলো একা একা থাকে তারা মনো কক্কাস। উদাহরণঃ Micrococcus denitrificans
-> ডিপ্লোকক্কাসঃ ঠিক ধরেছেন। এরা কাপল। ডিপ্লোকক্কাস ব্যাক্টেরিয়াগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। Diplococcus pneumoniae (নিউমোনিয়ার জীবাণু)
->টেট্রাকক্কাসঃ টেট্রা অর্থ চার বুঝায়৷যখন চারটি কক্কাস ব্যাক্টেরিয়া একসাথে একই তলে থাকে তখন তাকে টেট্রাকক্কাস বলে।উদাহরণঃ Gaffkya tetragena
->স্ট্রেপ্টোকক্কাসঃ এরা মুক্তার মালা। অনেকগুলো কক্কাস ব্যাক্টেরিয়া যখন চেইনের মতো যুক্ত থাকে তখন তাকে স্ট্রেপ্টোকক্কাস বলা হয়। উদাহরণঃ Streptococcus lactis( Known as Lactobacteria. তিনি বাটার মিল্ক উৎপাদনে নিয়োজিত। আর এই ব্যাক্টেরিয়াই প্রথম GMO জীবীত ব্যাক্টেরিয়া যেটা মানুষের রোগ সারাতে ব্যাবহৃত হয়েছে!)

->স্ট্যাফাইলোকক্কাসঃ এরা গুচ্ছাকারে থাকে। গুচ্ছের আকার নির্দিষ্ট নয়। দেখতে আঙ্গুরের থোকার মতো। উদাহরণঃ Staphylococcus aureus.
-> সারসিনাঃ এরাও গুচ্ছাকারে থাকে। তবে তারা সমান দৈঘ্য প্রস্থ ও উচ্চতার ঘনক আকারে গুচ্ছ তৈরি করে থাকে।উদাহরণঃ Sarcina lutea
২) ব্যাসিলাসঃ এরা দেখতে দন্ডাকার। এরাও কয়েক প্রকারের হয়ে থাকেঃ
->মনোব্যসিলাসঃ সিঙ্গেল নিব্বা। একা একা থাকে। উদাহরণঃ Bacillus albus, Escherichia coli (এই ই কোলাই ব্যাক্টেরিয়া আমাদের জীবনের সাথে অনেক বেশি কানেক্টেড। আমাদের মুখে মিথোজীবী হিসেবে অবস্থান করে আমাদের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স দেয়। এছাড়াও জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ই কোলাই এর অবদান বলে শেষ করা যাবে না!)
->ডিপ্লোব্যাসিলাসঃ কাপল। জোড়ায় জোড়ায় থাকে। উদাহরণঃ Moraxella lacunata
->স্ট্রেপ্টোব্যাসিলাসঃ একাধিক ব্যাসিলাস মিলে চেইন আকারে থাকে। উদাহরণঃ Streptobasillus moniliformis
->কক্কোব্যাসিলাসঃ একের ভেতর দুই। দেখতে সামান্য লম্বা বা খানিকটা ডিম্বাকার।উদাহরণঃ Salmonella
->প্যালিসেড ব্যাসিলাসঃ কখনো ব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়াগুলো এমনভাবে পাশাপাশি সমান্তরাল অবস্থান করে যে দেখে একটি টিস্যু মনে হয়।তখন তাকে প্যালিসেড ব্যাসিলাস বলে।উদাহরণঃ Lampropedia sp
৩) কমাকৃতি বা ভিব্রিওঃ যেসব ব্যাক্টেরিয়া দেখতে "," কমা আকৃতির তাদের ভিব্রিও বলা হয়। উদাহরণ: Vibrio cholerae (কলেরার জীবাণু)

 
৪)স্পাইরিলিয়ামঃ প্যাচানো স্প্রিং এর মতো ( সার্পিলাকার) ব্যাক্টেরিয়াকে স্পাইরিলিয়াম বলে৷ উদাহরণঃ Spirillum minus
৫) স্টিলেট বা তারকাকারঃ এরা একেক্টা তারকা। দেখতে তারার মতো। উদাহরণঃ Stella sp
৬) বর্গাকৃতিরঃ এরা দেখতে বর্গের মতো।
উদাহরণঃ Haloquadratum walsbyi
৭) ফিলামেন্টাসঃ দেখতে সুতোর মতো। 
উদাহরণঃ Candidates savagell
এছাড়াও গ্রাম স্টেইনিং এর উপর ভিত্তি করে ব্যাক্টেরিয়া গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নিগেটিভ এই দুই ভাগে বিভক্ত

(আগের পর্বে আলোচনা করা হয়েছে। ব্যাকটেরিয়া ও অনুজীব )

আর ফ্ল্যাজেলার উপর ভিত্তি করেও ব্যাক্টেরিয়ার শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। কিন্তু তা সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই তার আলোচনা করলাম না।


এখন আমরা ব্যাক্টেরিয়ার প্রকৃতিতে টিকে থাকার কিছু কারণ সম্পর্কে জানবোঃ
এই প্রকৃতিতে সব জীবই নিজের অনুরূপ রেখে যেতে চায়। ব্যাপারটাকে আমরা প্রজনন নামে চিনি।একটি ব্যাক্টেরিয়াও প্রজননের মাধ্যমে নিজের প্রতিরূপ সৃষ্টি করতে চায়। ব্যাক্টেরিয়া প্রধানত দ্বি-ভাজন (Binary fission) পদ্ধতিতে প্রজনন করে থাকে। ব্যাক্টেরিয়া একটি এককোষী জীব। তাই দ্বি ভাজন প্রক্রিয়াটা অনেকটাই এমাইটোসিস এর অনুরূপ।এই প্রক্রিয়ায় ব্যাক্টেরিয়া অনেক দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। প্রক্রিয়াটি এরকমঃ
১) ব্যাক্টেরিয়ার ক্রোমোজোম( মূলত DNA) কোষের দুই প্রান্তের মাঝামাঝি অবস্থান নেয় ও প্লাজমামেমব্ররন এর সাথে যুক্ত হয়।
২) প্লাজমামেমব্রেনের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় DNA অণুর রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন শুরু হয়।
৩) DNA রেপ্লিকেশন চলাকালে ব্যাক্টেরিয়াম কোষ লম্বায় বৃদ্ধি পায়। মূলত কোষের মাঝামাঝি অংশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর কারণে DNA সূত্রক দুটি পরস্পর থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।
৪) কোষের মাঝ বরাবর প্লাজমামেমব্রেন ভেতরের দিকে ঢুকে যায়। প্লাজমামেমব্রেন ভেতরের দিকে ঢুকার সময় কোষপ্রাচীরও সংশ্লেষিত হতে থাকে। আস্তে আস্তে দুই প্রান্তের মেমব্রেন ও কোষ প্রাচীর মিলিত হয়। এভাবেই নতুন ব্যাক্টেরিয়াম সৃষ্টি হয়।
ব্যাপারটা অনেক দ্রুত ঘটে। উপযুক্ত কালচার মাধ্যমে একদিনে একটি ব্যাক্টেরিয়াম থেকে 2^72 টি ব্যাক্টেরিয়াম তৈরি হতে পারে। ( Ref. Abul Hasan)
এ ছাড়াও অনেক ব্যাক্টেরিয়াম মুকুল সৃষ্টি করর বংশ বিস্তার করে থাকে।
→→ এছাড়াও কোনো কোনো ব্যাক্টেরিয়াতে মুকুলোদগম এর মাধ্যমেও বংশবিস্তার হয়ে থাকে। মুকুলোদগমে মূলত কুড়ি সৃষ্টি হয়। প্রথমে এক পাশ থেকে সাইটোপ্লাজম কিছুটা প্রবর্ধিত হয়ে একটি ছোট কুড়ি সৃষ্টি করে। তারপর কুড়িটি ধীরে ধীরে বড় হয়। একইসাথে ব্যাক্টেরিয়ামের নিউক্লয়েড
(ক্রোমোজোম) দুই খন্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি খন্ড কুড়িটিতে প্রবেশ করে। তারপর যখন কুড়িটি মূল ব্যাক্টেরিয়ামের সমাব হয়ে যায় তখন সেটি মূল কোষদেহ (ব্যাক্টেরিয়াম) থেকে আলাদা হয়ে পড়ে।

★ যৌন জননঃ ব্যাক্টেরিয়ার যৌন জননের কনসেপ্টটা অন্যান্য জীবদের থেকে বেশ আলাদা৷ যৌন জনন বলতে আমরা সাধারণভাবে দুটি গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমে সৃষ্ট জাইগোট সৃষ্টির মাধ্যমে বংশবিস্তারের প্রক্রিয়াকে বুঝি। ব্যাক্টেরিয়ামে কোনো গ্যামিট সৃষ্টি হয় না। তাহলে যৌন জনন কেন?
কারণ ব্যাক্টেরিয়া নিজেদের মধ্যে জিনের আদান প্রদান করে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি করে থাকে। যেহেতু এখানে বংশগতীয় বস্তু
(জিন) আদান প্রদান হচ্ছে, তাই একে যৌন জনন বলা হচ্ছে
(ব্যাপারটা আসলেই অদ্ভুত। এখানে আদৌ জনন হচ্ছে না, তাও যৌন জনন হিসেবে ধরা হচ্ছে) ।



সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত ৩ প্রকার যৌন জনন নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
১) কনজুগেশন নালিপথেঃ কিছু ব্যাক্টেরিয়াতে নিউক্লিয়য়েড এর অতিরিক্ত একটি বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। একে প্লাসমিড বলে। কনজুগেশনের সময় একটি দাতা ব্যাক্টেরিয়া ও একটি গ্রহীতা ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে একটি কনজুগেশন নালিপথের সৃষ্টি হয়। তারপর দাতা ব্যাক্টেরিয়ামের প্লাসমিড অনুলিপিত হয়। একটি প্লাসমিড দাতা কোষে থেকে যায় ও অন্যটি গ্রহীতায় চলে যায়। সে প্লাসমিড গ্রহীতা কোষে নতুন নতুন প্রোটিন সৃষ্টি করবে অর্থাৎ গ্রহীতা ব্যাক্টেরিয়াম নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য লাভ করবে৷
ব্যাপারটি ব্যাক্টেরিয়ার জন্য একটি মাইলফলক কিন্তু আমাদের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন! কেন? 
কারণঃ ব্যাক্টেরিয়াঘটিত কোনো রোগে আক্রান্ত হলে আমরা এন্টিবায়োটিক সেবন করি। এই এন্টিবায়োটিক সাধারণত ব্যাক্টেরিয়ার দ্বি-ভাজনে বাধা সৃষ্টি করে অথবা ব্যাক্টেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণে বাধাদান করে ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে থাকে। মনে করা যাক একটি পাত্রে ১০০০ টি ব্যাক্টেরিয়া আছে। সেই পাত্রে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হলো। এন্টিবায়োটিক ব্যাক্টেরিয়াগুলোর প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করতে লাগলো। এখন কোনো একটা ব্যাক্টেরিয়ার প্লাসমিডে এমন কিছু বেসপেয়ার সিকুয়েন্স আছে যার কারণে তা কিছু বিশেষ প্রোটিন উৎপন্ন করে। এই প্রোটিনের গুণ হলো এই প্রোটিন এন্টিবায়োটিকের কার্যকরীতা নষ্ট করে দেয়! অর্থাৎ সেই ব্যাক্টেরিয়া এন্টিবায়োটিকে ধ্বংস হয়না! এখন সেই ব্যাক্টেরিয়া অন্য ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে যদি তার প্লাসমিডের সেই সিকুয়েন্স কনজুগেশনের মাধ্যমে দিয়ে দেয়? তখন অন্য ব্যাক্টেরিয়াগুলোও এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে কার্যকর হয়ে পড়বে। ধরলাম সেই ১০০০ ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে ৩০০ টি ব্যাক্টেরিয়া মারা গেল। বাকি ৭০০ টি এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে কার্যকর হয়ে গেল। আবার নতুন কোনো এন্টিবায়োটিক দিলাম। এতে আগের আরো ১০০ টি মারা গেল। বাকি ৬০০ টি কিন্তু এখন ২ টা এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে কার্যকর। এমন করতে করতে শেষপর্যন্ত এমন কিছু ব্যাক্টেরিয়ার উদ্ভব ঘটবে যা আমাদের পরিচিত সব এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে কার্যকর হয়ে পড়বে! তখন আর সেই ব্যাক্টেরিয়াকে মারার মতো আর কোনো অস্ত্র আমাদের কাছে থাকবে না। পরিণাম? সেই ব্যাক্টেরিয়ার কবলে পড়ে মৃত্যু। প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি বাস্তবে সম্ভব? উত্তর হচ্ছে হ্যা। এবং ধীরে ধীরে আমরা সেদিকেই আগাচ্ছি। বিভিন্ন ডেইরি ফার্মে / পল্ট্রি ফার্মে পশুপাখিকে যেই হারে এন্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে তা মারাত্মক! এন্টিবায়োটিক তাদের দুধ/ডিম/মাংসে রয়ে যাচ্ছে। আর আমরা যখন তাদের এইসব প্রোডাক্ট খাচ্ছি তখন তা আমাদের দেহেও প্রবেশ করছে৷ এন্টিবায়োটিকের একটি ব্যাপার হলো প্রয়োজনীয় মাত্রায় না দিলে তা কাজ করবে না। এরজন্যই এন্টিবায়োটিক কোর্স এতো নির্দিষ্ট! যদি ডাক্তার ১২ দিনে কোর্স শেষ করতে বলে আর আপনি ১০ দিন ঔষধ সেবন করে বলেন যে আমি তো বেশ সুস্থ। বাকি ঔষধগুলো না খেলেও চলবে। সুসংবাদ, আপনি আপনার দেহের ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে আরো শক্তিশালী হওয়ার পথে আরো একধাপ এগিয়ে দিলেন। মনে করেন শরীরে ১০০ টা ব্যাক্টেরিয়া আছে যা আপনার রোগের জন্য দায়ী। আর যখন শরীরে ২০ টা বা এর কম পরিমাণ ব্যাক্টেরিয়া থাকবে তখন রোগের কোনো উপসর্গ দেখা যাবে না। আর প্রতিটা এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট ১০ টি করে ব্যাক্টেরিয়া মারে। এখন আপনি ৮ টি ট্যাবলেট সেবন করে চাঙা অনুভব করলেন। বাকি ২ ডোজ খেলেন না। পরিণাম জানেন? বাকি ২০ টি ব্যাক্টেরিয়া এই এন্টিবায়োটিকের কলাকৌশল জেনে নিজেদের জিনে মিউটেশন করে নিবে। তখন সেই ২০ টি ব্যাক্টেরিয়া সেই এন্টিবায়োটিকের প্রতি " এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট " হয়ে উঠবে। আর আপনার শরীরের অন্য ব্যাক্টেরিয়াগুলোকেও তাদের জিনের কপি দিয়ে দিবে ও সেই ব্যাক্টেরিয়াগুলোও সেই এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে উঠবে। ফলাফলস্বরূপ পরবর্তীতে আপনাকে আরো কড়া ডোজ নিতে হবে। একই জিনিস প্রযোজ্য যখন মাছ -মাংসে ব্যাবহৃত এন্টিবায়োটিক আপনার দেহে প্রবেশ করছে। ফলে অনেক বেশি এন্টিবায়োটিক এর প্রতি ব্যাক্টেরিয়ারা রেজিস্ট্যান্ট হয়ে উঠছে। ফলস্বরূপ আমরা অপেক্ষা করছি নিজেদেরই হাতে নিজেদের কাল, সব এন্টিবায়োটিক এর প্রতি ইমিউন ব্যাক্টেরিয়া " সুপার বাগ" তৈরির।


২) ট্রান্সফরমেশনঃ অনেকসময় ব্যাক্টেরিয়ামেরসাইটোপ্লাজম ধ্বংস হয়ে গেলেও এর নিউক্লিয়য়েড অবশিষ্ট থাকে। তখন অন্য কোনো ব্যাক্টেরিয়া সেই নিউক্লিয়য়েড গ্রহণ করে। নূতন আগত নিউক্লিয়য়েড(DNA) ব্যাকটেরিয়ার নিজের DNA এর সাথে যুক্ত হয়ে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি করে ও নতুন প্রকরণের সৃষ্টি হয়।

‌৩) ট্রান্সডাকশনঃ এই প্রক্রিয়ায় ব্যাক্টেরিয়া একা একা নিজের জিন ট্রান্সফার করতে পারে না। ভাইরাসের সাহায্য দরকার হয়। এই প্রক্রিয়াটা জানার আগে একটু ভাইরাসের গল্প করা যাক। ব্যাক্টেরিওফায ভাইরাসের বংশ বিস্তার(?!) পদ্ধতিটি বেশ ইন্টারেস্টিং। ভাইরাসটি ব্যাক্টেরিয়ার দেহে নিজের DNA প্রবেশ করায়। সেই DNA ব্যাক্টেরিয়ামের DNA কে কেটেকুটে ধ্বংস করে দেয়। তারপর ভাইরাস DNA নিজের অনুলিপন করতে থাকে। অতঃপর ভাইরাস দেহ গঠন করে ব্যাক্টেরিয়ামের দেহ থেকে বেরিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়াকে লাইটিক চক্র বলে। তো অনেকসময় ভাইরাসের কোষদেহ গঠনের সময় মূল ব্যাক্টেরিয়াম এর DNA এর অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়। তখন সেই ভাইরাসটি যখন লাইটিক চক্রে অংশ নেয়ার জন্য অন্য ব্যাক্টেরিয়ামের দেহে DNA প্রবেশ করায়, তখন আগের ব্যাক্টেরিয়ামের DNA নতুন ব্যাক্টেরিয়ামের DNA এর সাথে মিলে রিকম্বিনেন্ট DNA সৃষ্টি করে। এভাবেও নতুন প্রকরণ পাওয়া যায়।
এখন একটি প্রশ্ন জাগতে পারে, যে এমন হলে তো সব ব্যাক্টেরিয়াই উধাউ হয়ে যাওয়ার কথা। থাকার কথা শুধু ভাইরাসের?। ব্যাপার হচ্ছে বেশ কিছু ব্যাক্টেরিয়ায় "ক্রিসপার কেস ৯" নামে একধরণের প্রোটিন তৈরি হয়। এই ক্রিসপার ব্যাক্টেরিয়ার অতন্দ্র প্রহরী। ভাইরাস যখন তার DNA প্রবেশ করায় তখন ক্রিসপার সেই DNA শনাক্ত করে ও আক্ষরিক অর্থে সেই DNA কে "কেটে দেয়"! ফলে সেই ভাইরাস DNA ব্যাক্টেরিয়ার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। That's how a protector works.

ক্রিসপার নিয়ে কিছু কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। ক্রিসপার প্রযুক্তিটি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারকদের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ। ক্রিসপারের DNA কাটার কৌশলকে কাজে লাগিয়ে এখন আমাদের DNA তে অনেক কাজ করা হচ্ছে। মনে করা যাক কোনো কোনো DNA তে ক্ষতিকর কোনো জিন আছে। এখন সেই জিনকে সরিয়ে ফেললে প্রাণিটি কোনো রোগ প্রতিকার করতে পারবে (ধরা যাক কোনো মানুষের DNA তে থাকা কালার ব্লাইন্ডনেসের জিন) এখন সেই জিনকে সরাতে হলে উপায়? আগে জিনটিকে খুঁজে বের করো,,তারপর কেটে ছাটাই করো,, তার জায়গায় নতুন জিন বসাও।

এই সব কাজ ক্রিসপার খুব সহজেই করে ফেলে! আগে কোনো প্রাণিতে জেনেটিক পরিবর্তন আনতে হলে তার গ্যামিটে পরিবর্তন এনে লম্বা সময় অপেক্ষা করা লাগতো। ক্রিসপার প্রযুক্তিটি আক্ষরিক অর্থে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে চেইন স' এর মতো। ক্রিসপার দিয়ে চাইলে জীবীত কোষের ক্রোমোজোমেও হাল্কা " এডিট" করে দেয়া যাবে।
All credit goes to Bacteria.


লেখাটি শেষ করতে চাই প্রথম পর্বে দেয়া কুইজটির উত্তর দেয়ার মধ্যে দিয়ে। কুইজটি ছিলো যে "আমরা জানি যে সালোকসংশ্লেষণের সময় গাছ অক্সিজেন তৈরি করে। আবার শ্বসনের সময় গাছ অক্সিজেন গ্রহণ করে। আর আমরা প্রাণীরা তো শ্বসনে অক্সিজেন নিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করছিই। তাহলে বায়ুমন্ডলে কিভাবে অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে?? "
উত্তর হচ্ছে, ব্যাক্টেরিয়া।
কিছু কিছু ব্যাক্টেরিয়া নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে। তাদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে। যেহেতু ক্লোরোফিল থাকে, তাই তারা সালোকসংশ্লেষণ করে। ফলে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। কিন্তু টুইস্ট হচ্ছে এইসব ব্যাক্টেরিয়া আমাদের মতো সবাত শ্বসন করে না। তারা অবাত শ্বসনের মাধ্যমে খাদ্য থেকে শক্তি পায়। অর্থাৎ সেই ব্যাক্টেরিয়াগুলোই আমাদের নিঃস্বার্থভাবে অক্সিজেন দিয়ে যাচ্ছে। আর সেই ব্যাক্টেরিয়ার নাম হলো " নীলাভ সবুজ শৈবাল "( BGA - Blue Green Algae। ভ্রু কুচকাচ্ছেন? এটা তো শৈবাল? আসলে এটা একটা ব্যাক্টেরিয়া( Cyanobacteria)।যদিও এর নামের সাথে শৈবাল শব্দটি যুক্ত আছে। আপনার বাড়ির পাশের পুকুরে এগুলো সবুজ কার্পেটের মতো পড়ে থেকে নিবিড় অন্তরালে আপনাকে অক্সিজেন দিয়ে যাচ্ছে

Writer: Ishrak Hamim Mahi

Post a Comment

0 Comments

Close Menu