Advertisement

সাবজেক্ট রিভিউঃ মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি, ইলেকট্রনিক্স এন্ড ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবটিকস এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং



Subject Review:
Microbiology

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক—এ ধরনের জীবাণুর নাম শুনলেই কেমন একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সবার মনে। তবে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় এই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে অনেক আগ থেকেই। সব জীবাণু যে অমাদের জন্য ক্ষতিকারক নয়, বরং এর থেকে আবিষ্কার হয়েছে জীবন রক্ষাকারী পেনিসিলিনের মতো বিস্ময়কর ওষুধ। তবে এ সবই সম্ভব হয়েছে অণুজীববিজ্ঞানীদের কল্যাণে। এই ছোট ছোট জীব নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে পড়তে পারেন মাইক্রোবায়োলজি বা (অণুজীববিজ্ঞান)। আর হতে পারেন অণুজীববিজ্ঞানী।

অণুজীববিজ্ঞান: মাইক্রোবায়োলজি গ্রিক শব্দ মিকরস (Mikros) মানে অণু, বায়োজ (Bios) মানে জীবন এবং লজিয়া (Logia) মানে জ্ঞান থেকে এসেছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, অণুজীব একধরনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এককোষী জীব, যা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া খালি চোখে দেখা যায় না। যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি। এক কথায় বিজ্ঞানের যে শাখা জীবাণু ও অণুজীব নিয়ে কাজ করে, তাকেই অণুজীববিজ্ঞান বলে। তিনি আরও বলেন, জীবাণুর চরিত্র, বংশবিস্তারের পদ্ধতি, দুষ্ট ও ক্ষতিকর জীবাণু থেকে বাঁচার উপায়, উপকারিতা—এই বিষয়গুলোই হচ্ছে মাইক্রোবায়োলজির নিরন্তর গবেষণার বিষয়।

যেভাবে শুরু: সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, লুই পাস্তুর হলেন অণুজীববিজ্ঞানের জনক। কিন্তু এন্টনি ফন লিভেনহুক প্রথম ব্যক্তি, যিনি ১৬৭৬ সালে পর্যবেক্ষণ করেন ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু। এতে ব্যবহার করেন নিজের তৈরি একক লেন্সের একটি অণুবীক্ষণযন্ত্র। ১৮০০ সালের শুরুর দিকে লুই পাস্তুর ও রবার্ট কর্ক প্রমাণ করেন, জীবাণুও একধরনের জীব। তাঁদের এই পর্যবেক্ষণ থেকে উদ্ভব হয় এক নবদিগন্ত, তা হলো মাইক্রোবায়োলজি। ১৯৭৫ সালে চিকিৎসক এম আর চৌধুরীর নেতৃত্বে ১২-১৫ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্ট (বিএসএম) নামক একটি সোসাইটির মাধ্যমে প্রথম অণুজীববিজ্ঞানের কার্যক্রম শুরু হয় বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় ১৯৭৯ সালে মাস্টার্স কোর্সের মাধ্যমে।

গুরুত্ব: অণুজীব ভূপৃষ্ঠ, বাতাস, এমনকি লবণাক্ত পানিতেও বাঁচতে পারে। সব প্রাণীর দেহে এর অস্তিত্ব আছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, মানুষের দেহে কোষের তুলনায় অণুজীবের সংখ্যা ও পরিমাণ বেশি। অধ্যাপক বলেন, অণুজীব সর্ম্পকে ভুল ধারণা হলো, অধিকাংশ জীবাণুই আমাদের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু মাত্র ১ শতাংশেরও কম বাদে, বাকি অণুজীব আমাদের দেহের রোগব্যধির পরিবর্তে উপকারই বেশি করে। যেমন ব্যাকটেরিয়া মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি করে গাছপালা ও শস্য উৎপাদনে সাহায্য করে। গাছের শিকড়ে থাকা অণুজীব মৃত প্রাণীকে পচিয়ে গাছের খাদ্য তৈরি করে। ছত্রাক রুটিকে ফুলিয়ে বিস্তৃত করতে সাহায্য করে। ছত্রাক ও ব্যকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমণ প্রতিষেধক অত্যন্ত শক্তিশালী ওষুধ পেনিসিলিন ও টেট্রাসাইক্লিন তৈরি হয়। এই ওষুধ গলাব্যথা, কানব্যথা, উদরাময় ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করে শরীরকে সুস্থ রাখে।

পড়তে হলে: অণুজীববিজ্ঞান বিষয়টি বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে পড়তে ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক দুটিতে বিজ্ঞান বিভাগে (চতুর্থ বিষয় বাদে) মোট জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে। বললেন অধ্যাপক এস অই খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও প্রায় সব পাবলিক এবং কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অণুজীববিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিতে ভর্তি যোগ্যতার ভিন্নতা রয়েছে। এ ছাড়া হেলথ টেকনিক্যাল ডিপ্লোমা করেও এ বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সুযোগ আছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি সরকারি ও বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ার সুয়োগ আছে।

যা পড়ানো হয়: এ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে মূলত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সম্পর্কে বিশদ পড়ানো হয়। এ ছাড়া জেনারেল মাইক্রোবায়োলজি, বেসিক টেকনিক অব মাইক্রোবায়োলজি, বেসিক বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবিয়াল ইকোলজি, বেসিক মাইক্রোবিয়াল জেনেটিক্স, ইমুনোলজি, এনজাইমোলজি, এনভায়রনমেন্টাল, ফুড, মেডিকেল, সয়েল, এগ্রিকালচারাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, ফার্মাসিউটিক্যালস, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, জেনেটিক ইঞ্জিয়ারিং, এনালিটিক্যাল, মাইক্রোবিয়াল, ব্যাকটেরিয়লজি, কোয়ালিটি কন্ট্রল অব ফুড, ফিশ অ্যান্ড বেভারেজ ইত্যাদি বিষয় পড়তে হয়। বললেন অধ্যাপক এস আই খান।

কাজের ক্ষেত্র: কাজের সুযোগ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র মো. আশরাফ বলেন, ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে প্রায় ৯০০ কোটি। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট বেড়ে যাবে। এতে ফসলি জমি কমে যাবে। খাদ্যের ঘাটতি ও পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে থাকবে। তখন খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে আমাদের নির্ভর করতে হবে অণুজীববিজ্ঞান ও বায়োটেকনোলজির ওপর। তাই প্রতিনিয়তই চাহিদা বাড়ছে এ বিষয়ে পড়ার।
এ বিষয়ে পড়ে হতে পারেন সাইনটিস্ট, মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ, প্রোডাক্ট স্পেশালিস্ট, ডায়াগনস্টিক স্পেশালিস্ট, মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ, গবেষক ও শিক্ষক। এসব পদে আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠান, ভেকসিন প্রোগ্রাম, জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রকল্প, খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ডেইরি ফার্ম, বায়োইন্ডাস্ট্রি, পেপার ইন্ডাস্ট্রি, টেক্সটাইল মিল, পরমাণু শক্তি কমিশন, পাট গবেষণা কেন্দ্র, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, কৃষি ও পরিবেশ ক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে কাজের ব্যাপক সুযোগ।
এস আই খান বলেন, যাঁরা এসব বিষয়ে ভালো করতে চান, তাঁদের থাকতে হবে গবেষণার মনোবৃত্তি। তাহলে খুব সহজেই পৌঁছে যাবেন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে।


Subject Review:
Biochemistry and Molecular Biology

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি-র বাংলা করলে দাঁড়ায় প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান।
সোজা ভাষায় এই সাবজেক্টে প্রাণের রসায়ন নিয়ে গল্প সল্প করে আর জীবনকে ব্যাখ্যা করে আনবিক পর্যায়ে। তোমার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তুমি কি কর, কেন কর, কেন সুখী হও, কেন দুখি হও, কিভাবে এত বড় হলে, কেন বুড়ো হবে,এমনকি কেন প্রেম কর সেটাও আলাপ আলোচনা করে এই সাবজেক্ট। মরলেও রেহাই নেই। তোমার ডি এন এ খুঁজে বায়োকেমিস্ট বলে দিতে পারবেন তুমি কে, কি তোমার পরিচয়। একটু দুষ্টু করে বলি। এই সাবজেক্ট হচ্ছে একটা দুষ্টু ছেলের মত যে অনেকগুলা মেয়ের সাথে প্রেম করে।
.
এই সাবজেক্টে পড়ে তুমি যদি কম্পিউটার প্রোগ্রামার হতে চাও হতে পারবে (Bioinformatics ), যদি হতে চাও পদার্থবিদ (Biophysics) তাও পারবে, যদি হতে চাও প্রকৌশলী (Bioengineer/ Genetic Engineer) তাও পারবে। যদি হতে চাও এলিয়েনবিদ (Alien Biology)m তাও পারবে। মানুষের শরীরে কিভাবে রোগ জীবাণু আক্রমন করে, আমাদের দেহের Immune সিস্টেম (Immunology) কিভাবে সৈন্য সামন্ত নিয়ে সেটা প্রতিরোধ করে, না পারলে আমরা কিভাবে ওষুধ বানিয়ে (Pharmacy) সেগুলো ধ্বংস করতে পারি এত্ত সব মজার জিনিস দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। আমাদের নিজেদের কিছু কোষ কিভাবে রাজাকার হয়ে আমাদের ক্ষতি করে ক্যান্সারের দিকে নিয়ে যায় (Onclology) তাও বুঝতে পারবে।

এই সাবজেক্টের কিছু রহস্যময় আর রোমাঞ্চকর দিক আছে যেমনঃ কিভাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে এক্স-মেনদের মত মানুষ অথবা অন্য প্রানী বানানো যায়,
যে কোন প্রাণীর কাছ থেকে একটু কোষ নিয়ে ক্লোনিং করে হুবহু একই রকম আরেকটি প্রাণী বানানো যায়, স্টেম সেল দিয়ে কিভাবে নতুন হাত পা ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ একবারে নতুন করে তৈরি করা যায়
ইত্যাদি

গত শতাব্দী ছিল ভৌত বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির। এই শতাব্দী হচ্ছে প্রাণরসায়নের। বিজ্ঞানের এই দিকটা এখনও মানুষের কাছে বেশিরভাগই অজানা।প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। যেমন ধর ই-বোলা ভাইরাস। এখনও এইডস আর ক্যানসারের ভাল কোন ওষুধ আবিস্কার হয়নি। তাই সারা পৃথিবীতে প্রাণরসায়ন
নিয়ে চলছে প্রচুর গবেষণা। আগামী শতাব্দির সব চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করতে আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে অনেক গবেষণা। এরই মধ্যে তোমরা পাটের জিনোম প্রজেক্টের কথা জান। শুনেছ ড. মাকসুদুল আলমের কথা। পুরো বিশ্বে বিজ্ঞানের এই দিকটায় বাংলাদেশি আরও অনেকে আছেন যারা তাঁদের কাজের
ক্ষেত্রে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন
.
সবার প্রশ্ন থাকে চাকরি কোথায় এই সাবজেক্টের। সারা পৃথিবীতে চাকরির ব্যাপারটাই ধাঁধার মত। কেউ হয়ত প্রকৌশলী কিন্তু চাকরি করে ব্যাঙ্কে। আজকাল ডাক্তাররাও এমবিএ করে। তুমি যদি মনে কর এবং দিন শেষে প্রমান কর তুমি কেউ একজন তাহলে চাকরি তোমার পেছনে ঘুরবে।
.
বাংলাদেশে বায়োকেমিস্ট্রিতে ক্যারিয়ার গড়ার চমৎকার সব সুযোগ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে ভালো রেজাল্টধারীগণ বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ লাভ করেন। দেশে-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বায়োকেমিস্টগণ
* বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে শিক্ষকতা,
*বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানি,
*বায়োটেকনোলজি কোম্পানি,
*ক্যামিক্যাল ইন্ড্রাস্টি,
*ফুড ইন্ড্রাস্টি,
*ফরেনসিক ল্যাব,
*হসপিটাল,
*ডায়াগনোস্টিক ল্যাব,
*কসমেটিক ইন্ড্রাস্টি
ইত্যাদিতে কাজ করতে পারেন। এসবের বাহিরেও বায়োকেমিস্ট্রতে ডিগ্রিধারীগেণর জন্য বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসা ইত্যাদিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

সরকারি চাকুরীঃ বাংলাদেশের সরকারি চাকুরীগুলোতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে ন্যুনতম যে কোন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী হলেই যেহেতু আবেদন ও চাকুরী পাওয়া যায় সেহেতু বায়োকেমিস্ট্রিও মলিকুলার বায়োলজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের বাংলাদেশের সরকারী চাকুরীতে আবেদন করার ও নিয়োগ লাভের প্রচুর সুযোগ আছে।বায়োকেমিস্ট্রিও মলিকুলার বায়োলজিতে ডিগ্রিধারীরা একদিকে যেমন বিসিএস দিয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করতে পারবেন তেমনি ৩১ তম বিসিএস হতে বায়োকেমিস্ট্রিসাধারন শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত হওয়ায় আপনারা বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে ও যোগদান করতে পারবেন অর্থাৎ বিসিএস জেনারেল এবং টেকনিক্যাল উভয় ক্যাটাগরিতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাকুরি করার সুযোগ পাবেন।তাছাড়া একজন স্নাতকোত্তর হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের চাকুরি ও পিএসসির ( নন ক্যাডার) চাকুরি লাভের অবারিত সুযোগ রয়েছে।।মোট কথা সবার জন্য উম্মুক্ত যে সকল চাকুরি রয়েছে সেই সকল চাকুরিতে বায়োকেমিস্ট্রির ছাত্র/ছাএীরা অাবেদন করতে পারবেন এবং যদি স্বীয় যোগ্যতা ও মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারেন তাহলে চাকুরিগুলো আপনাদের হওয়ারও সম্ভবনা থাকবে প্রচুর।
বায়োকেমিস্ট্রিও মলিকুলার বায়োলজি( টেকনিক্যাল পদ)

সংশ্লিষ্ট চাকুরিঃবায়োকেমিস্ট্রিও মলিকুলার বায়োলজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নকারীরা সাধারনত
বিসিএসআইআর ,
আইসিডিডিআরবি
বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশন,
ন্যাশন্যাল ইনস্টিটিউড অব বায়োটেকনোলজি,
বাংলাদেশ চা বোর্ড,
বারডেম,
বিসিআইসি ,
বিএসএমএমইউ (পিজি) ,
বাংলাদেশ ডায়াবেটিকস আস্যোশিয়েশন,
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন
ন্যাশন্যাল ফরেনসিক ডিএন এ প্রোফাইল ল্যাবরেটরীর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা,
বিএসটিআই ও বাংলাদেশ এ্যাক্রোডিটেশন বোর্ড এর পরীক্ষক,
ওয়াসা এর সহকারি রসায়নবিদ ও সহকারি জীবানুবিদ,
বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের অধীন সহকারি রসায়নবিদ ও প্রানরসায়নবিদ,
শিল্প মন্ত্রনালয়ের অধীন ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের পেটেন্ট ডিজাইনার(প্রানরসায়ন),
স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধীন ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ড্রাগ সুপার,ড্রাগ ইন্সপেক্টর, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা,
শিশু হাসপাতালের অধীন সি এইচ আর এফ এর রির্সাচ অফিসার,
বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক বিভাগ প্রভৃতি সেক্টরে কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।


ব্যাংক ও বীমা সংশ্লিষ্ট চাকুরিঃস্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী হিসাবে বায়োকেমিস্ট্রিও মলিকুলার বায়োলজির শিক্ষার্থীরা সাধারনত বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার, সিনিয়র অফিসার, সহকারি ব্যাবস্হাপক এবং সরকারি বিভিন্ন ব্যাংক ও বীমাতে অফিসার, সিনিয়র অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন।বেসরকারি ব্যাংকে যেহেতু এম বি এ ডিগ্রীধারীদের বেশি প্রাধান্য দেয় তাই বায়োকেমিস্ট্রির শিক্ষার্থীদের বেসরকারী ব্যাংকে ভাল চাকুরি পেতে গেলে অবশ্যই এম বি এ ডিগ্রী নিতে হবে, তা না হলে বেসরকারি ব্যাংকে ভাল পোস্টে আপনারা কাজ করার তেমন সুযোগ পাবেন না।।

মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব সংশ্লিষ্ট চাকুরিঃ
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকল্যাবে বায়োকেমিস্ট্রি
ও মলিকুলার বায়োলজিতে অধ্যায়নকৃত শিক্ষার্থীদের চাকুরি করার অবারিত সুযোগ আছে। যেহেতু এই সেক্টরটাতে খুব সহজেই চাকুরি পাওয়া যায় তাই এই বিভাগে অধ্যায়নকৃতদের বেকার থাকতে হয় না।
মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এই বিভাগের অধ্যয়নকৃতরা মূলত বায়োকেমিস্ট, সায়েন্টিফিক অফিসার,রিপোর্ট ট্রান্সক্রিপ্টশনিস্ট, রির্সাচ অফিসার, জুনিয়র কনস্যালট
এছারা সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি কোর্সেরর লেকচার, ফার্মসিটিকেল এ এক্সিকিউটিব অফিসার, ম্যানেজার,রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার সহ আরো।কেমিক্যাল রিলেটেড সকল ইনডাস্ট্রিজ এ কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, কোয়ালিটি এসুরেন্স সহ আরো,এমনকি টেক্সটাইল এ কোয়ালিটি কনট্রলার হিসেবে জব রয়েছে।।।এছাড়া আমার জানার বাইরেও আছে অনেক


এবার বলি মলিকুলার বায়োলজির কথা......


বিজ্ঞান চর্চার প্রাথমিক যুগের সূচনা ঘটেছিল গণিত চর্চার মধ্য দিয়ে। মধ্যযুগে তা পদার্থবিদ্যার বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। ধীরে ধীরে নিউটন, গ্যালিলিও, আইনস্টাইন, বোরের তত্ত্ব একে আধুনিক যুগে নিয়ে আসে। কিন্তু, 1920 এর আবিষ্কারের ধারা কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তখন, বিজ্ঞানীরা ঝুকতে থাকে পরিবেশ, পৃথিবী, মানুষ, জীবজগৎ নিয়ে গবেষণার দিকে। বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীকে তাই নিঃসন্দেহে বলা হচ্ছে The Century of Biological Science. এর কারণ 1972 সালে পল বার্গের রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজি বা মলিকুলার ডকিং এর আবিষ্কার।
.
প্রাণ রসায়ণের সবচেয়ে আধুনিক একটি শাখা মলিকুলার বায়োলজি!যেখানে জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা হয় অণু-পরমাণু পর্যায়ে, একে বলা হয় "The Molecular Logic Of Life"। A-T-C-G এই মাত্র চারটি হরফে লেখা এ বিষয়কে বলা হয় Language of GOD. মলিকুলার বায়োলজি মূলত ট্রান্সজেনিক (উন্নত বৈশিষ্টধারী) উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টিতে কাজ করে। এর একটি শাখা জেনেটিক্স, জীববিজ্ঞানের এ শাখাটিতেই নিজের ইচ্ছামত ডিজাইন করে একটি প্রাণী সৃষ্টি করা যায়, ডিজাইন করা যায় নিজের পছন্দের ই.কোলাই যে কিনা নিজের কথামত উঠবে বসবে। কাজটা অনেকটা একটা কম্পউটার প্রোগ্রাম ডিজাইন করার মত, যা তোমার আদেশ সম্পূর্ণ মেনে চলে। চিন্তা করে দেখ, ব্যাপারটা একজন আবিষ্কারকের জন্য কতটা রোমাঞ্চকর যখন সম্পূর্ণ জীবন্ত কিছু একটা নিজের ডিজাইন মত কাজ করছে?
.
মলিকুলার বায়োলজি ভালো করে জানতে হলে মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োস্ট্যাটিসটিক, ইমিউনোলজি, ওর্গানিক কেমিস্ট্রি, এনজাইমোলজি, ইনসিলিকো (কম্পিউটেশনাল) বায়োলজি, টিস্যু কালচার ইত্যাদি ভালোভাবে জানতে হবে।
.
একজন মলিকুলার বায়োলজিস্ট একাধারে একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট কারণ, নিজের ব্যাকটেরিয়াগুলো তাকে পেটরি ডিসে জন্মাতে হয়; সে একজন বায়োকেমিস্ট কারণ নিজের সৃষ্টি জীব থেকে সংগৃহীত প্রোটিন তাকে বিশ্লেষণ করতে হয়; সে একজন পরিসংখ্যানবিদ কারণ 3.2 বিলিয়ন বেস পেয়ারের মাঝে তাকে ধারণা করে কাজ করতে হয়; সে একজন অর্গানিক কেমিস্ট কারণ নিজের আবিষ্কৃত ওষুধের মলিকিউলার গঠন তাকে বের করতে হয় এবং পরিশেষে একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী কারণ বিশাল ডিএনএ এনালাইসিসের জন্য তাকে সফট ওয়ার ডিজাইন করতে হয়।এত সব কিছুর মাঝে তুমি সত্যিই হয়ে উঠবে “Jack of all traits, master of SOME".
.
কি কি গুণ লাগবে বিশ্বের আধুনিকতম এ বিষয়ে পড়তে? তোমাকে হতে হবে খুবই অভূতপূর্ব চিন্তাবিদ, কঠোর পরিশ্রমী, মানবিক গুণসম্পন্ন বিশেষ করে দেশপ্রেমিক। পাশাপাশি ঝানু হতে হবে জীববিজ্ঞান, জৈব রসায়ন এবং প্রোগ্রমিং এ। চিন্তা করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে এমন কিছু করা সম্ভব যা কেউ ভাবতেও পারে না। যেমন, একবার এক বিজ্ঞানী ঠিক করলেন ছাগলের দুধের মধ্যে তিনি মাকড়সার জালের সূতা তৈরি করবেন যা হবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সূতা। তিনি সফল হয়েছিলেন এবং সৃষ্টি করেছিলেন বায়োস্টীল!। সুতরাং, আজগুবি চিন্তা করতে জানতে হবে।
এত অবিশ্বাস্য জিনিস একদিনে আবিষ্কার হয় না। তাই, তোমাকে হতে হবে কঠোর পরিশ্রমী।
.
নেচার ম্যাগাজিনের কভারের প্রতিদিনিই জায়গা করে নিচ্ছে জাপান, আমেরিকার মলিকুলার বায়োলজিস্ট রা। এ বছর ২০১৬ তে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যিনি নোবেল পেলেন তিনি একজন মলিকুলার বায়োলজিস্ট।
.
সবার সব ব্যাপার সবসময় ভাল লাগেনা। বায়োকেমিস্ট্রি এই ব্যাপারটা বেশি প্রশ্রয় দেয় কারন বায়োকেমিস্ট্রি পড়তে সবই দরকার হয়। যা খুশি হতে পার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে তোমার কি করতে ভাল লাগে আর কি করলে তুমি সুখী হবে। তাই চাকরির নিয়ে বেশি কথা না বলি। তোমরা গুগল দৈত্যে সার্চ দিলেই সারাবিশ্বে এই সাবজেক্টের চাকরি কোথায় সব জানতে পারবে। আরেকটু বেশি উৎসাহী হলে এই সাবজেক্টের স্যালারি নিয়েও সার্চ দিয়ে দেখতে পার। অনেকেই মনে করতে পার যে বায়োকেমিস্ট্রিতে যেহেতু বায়োলজি আর কেমিস্ট্রি আছে তাই প্রচুর মুখস্ত করতে হয়। এই ধারনা কতটুকু ভুল সেটা বুঝতে ইউটিউবে বিখ্যাত Eric Lander এর লেকচার দেখতে পার। এই ভদ্রলোক গণিত শাস্ত্রে পি এইচ ডি শেষে এখন MIT তে মলিকুলার বায়োলজি পড়ান!


Subject Review:
Electronics and Electrical Engineering (EEE)

সবাই নাম শুনেছে। ইলেক্ট্রিকাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল। যা ইলেক্ট্রন নিয়ে আলোচনা করে। নামের মধ্য দিয়েই সাবজেক্ট সম্পর্কে হালকা ধারণা পাওয়া যায়। সরাসরি চলে যাচ্ছি সাবজেক্ট রিভিউতে।
সবচেয়ে পুরনো এবং প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোর মধ্যে ইইই অন্যতম আভিজাত্যের অধিকারী। আশেপাশের চারদিকে ইলেক্ট্রনিক্সের বিপ্লব দেখে নিশ্চয়ই এই সাবজেক্ট পড়ুয়াদের গুরুত্ব বা চাহিদা আগ বাড়িয়ে বলে দিতে হবে না?

তোমার এইচএসসিতে প্রিয় বিষয় কি ছিলো? উত্তর যদি হয়ে থাকে Math বা Physics তাহলে তোমার EEE পড়া নিয়ে কোন ভয় নেই। তুমি নিঃসন্দেহে এখানে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে। তোমার যদি Equation Solve করতে মজা লাগে, ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের বিদ্যুতের চ্যাপ্টারগুলো যদি তোমার কাছে অসহ্য না লাগে, তাহলে ইইই তোমাকে হতাশ করবে না কোনদিন। সার্কিট নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে মজা লাগে? রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশ, হুইটস্টোন কার্শফের অঙ্ক করতে ভালো লাগে? আবারো বলবো ইইই নাও।
তোমার যদি উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকে, আর থাকে লেগে থাকার ইচ্ছা তবে তুমি ইইই পড়ে অনেক বড় কিছু করে দেখাতে পারবে। প্রকৌশলিক invention সবচেয়ে চমকপ্রদভাবে দেখানোর উপযুক্ত জায়গা হলো ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
আপাতদৃষ্টিতে দেখতে যেমন মনে হয়, ইইই আসলে তেমন ছোট পরিসরের কোন সাবজেক্ট না। এর পরিধি ব্যাপক, ক্ষেত্র অসীম।

ইইই এর সাবডিসিপ্লিনগুলো লক্ষ্য করো-
1.Power
2.Electronics
3.Telecommunication
4.Computers

Power সেক্টরের ব্যাপারটা মনে হয় সবাই এমনিতেই বুঝতে পেরেছে। যারা বিদ্যুত উৎপাদন আর সরবরাহের দায়িত্বে থাকে। এই সেক্টরের চাহিদা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মুহুর্তে প্রচুর। চাহিদা পুরনের জন্য প্রতি বছরই নতুন নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও চলছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। আর এই সেক্টরের পুরো দায়িত্বই থাকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে। যারা নিজেকে একজন Power management engineer হিসেবে দেখতে চাও, তারা নিঃসঙ্কোচে EEE নিতে পারো।

Electronics নিয়েও সবাই হালকা পাতলা কিছু জানে। Resistor, Capacitor, Inductor এসবের নাম তোমরা শুনে এসেছ। এখনকার সময়ে তোমরা যত ডিভাইস দেখ, তার বেশিরভাগই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট দিয়ে ডিজাইন করা। স্মমার্টফোন, আইপ্যাড, নোটপ্যাড, ল্যাপটপ সবগুলোই ইলেক্ট্রনিক্সের অবদান। Microcontroller এর নাম হয়তো কেউ কেউ শুনে থাকবে। যা রোবটিক্স নিয়ে পড়াশোনার ব্যাপক ইচ্ছা যাদের, তাদের জন্য microcontroller হলো একেবারে শুরুর ধাপ। তবে হ্যা, এদিক দিয়ে আগাতে হলে অবশ্যই পরিশ্রমী আর উদ্যমী হতে হবে।
যাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বেশি, বিস্তর ইচ্ছা আছে এই rapidly running টপিক নিয়ে পড়াশোনা করার, তার জন্য EEE'র দরজা সদা উন্মুক্ত।
Telecommunication, যোগাযোগ নিয়ে কাজকারবার। মোবাইল ফোন কোম্পানিতে মাঝের কয়েক বছর ইইই ইঞ্জিনিয়ারদের বিশাল চাহিদা ছিলো। আমাদের মত দেশে নতুন নতুন নেটওয়ার্ক, টাওয়ার, কভারেজ তৈরিসহ সমগ্র সিস্টেম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে আছে বিপুল সংখ্যক ইইই ইঞ্জিনিয়ার। শুধু এক Grameenphone এই এখন কাজ করছে প্রায় ৫ হাজার প্রকৌশলী, যার বেশিরভাগই ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ব্যাকগ্রাউন্ডের। যত নতুন নতুন টেকনোলজি আসবে, অত চাহিদা Expand করবে। যারা নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত Telecommunication Engineer হিসেবে দেখতে চাও, তাদের জন্য অবশ্যই EEE.
Computer আসলে এমন এক ব্যাপার যাকে কোন কিছু থেকেই আলাদা করা যাবে না। ইইই থেকে পড়ে পরবর্তীতে Software Engineer হয়ে গিয়েছে এমন উদাহরনও আছে অনেক। তুমি যদি প্রোগ্রামিং ভালো বোঝ, কম্পিউটারে ভালো দখল থাকে, তবে ইইই পড়েও তুমি খুব সহজেই CSE সাইডে Divert হতে পারো। যাকে যা suit করে আরকি!!!
ইইই পড়েছ বলে যে তুমি প্রোগ্রামার হতে পারবে না বা সফটওয়্যার বানাতে পারবে না এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল। তোমার যদি Electronics এর পাশাপাশি সফটওয়্যার নিয়েও ঘাটাঘাটি করতে ইচ্ছে করে তাহলে তুমি সহজেই ইইই নিতে পারো। এখানে এই সুযোগ প্রচুর।

চাকরির বাজার নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না। শুধু বলবো EEE হলো একটা Everlasting Subject. যতদিন পৃথিবী টিকে থাকবে অতদিন এর ডিমান্ড কমবে না। দেশে থাকতে পারলে ভালো, যদি তা সম্ভব না হয়, তোমার জন্য আছে বাইরে যেয়ে পড়াশোনা করার অফুরন্ত ক্ষেত্র। দেশে বিদেশে সবজায়গাতেই তোমার সম্মানজনক অবস্থান থাকবে। চাকরি নেই, হাজার হাজার স্টুডেন্ট হয়ে গেছে, এমন শোনা কথায় কান দিতে যেয়ো না। তোমার যদি যোগ্যতা আর মেধা থাকে, তবে EEE পড়ে তোমাকে একদিনও বসে থাকতে হবে না। তুমি ঠিকই তোমার Deserving পজিশনে যেতে পারবে।
আর স্যালারি? এটাও বলবো না। ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই জানতে পারবে। আমার নিজের মতামত হলো স্যালারির উন্মাদনার চেয়ে বিষয়টার প্রতি আকর্ষন থেকেই ইইই তে আসা উচিত।


Subject Review:
Robotics and Mechatronics Engineering

তুমি কি রোবট বানাতে চাও অথবা বায়োনিক সুপার হিউম্যান সাইবর্গ বানাতে চাও কিংবা চাও চিচিং ফাক বলার সাথে সাথে তোমার ঘরের দরজা খুলে যাবে তাহলে এই টিউন টি তোমর জন্য। না আমি এখানে রোবট বানানো শিখাবো না। আমি একটা সাবজেক্ট সম্পর্কে কিছু কথা বলব।

Mechatronics Engineering :
সারা বিশ্বে যে কটা সাবজেক্ট হইচই ফেলে দেয় তার মধ্যে একটা মেকাট্রনিক্স। যদিও আন্ডার গ্র্যাজুয়েডে সাবজেক্টে হিসেবে আমাদের দেশে মেকাট্রনিক্স এর প্রচলন কম। এক কথায় বলতে গেলে, “Mechatronics is where science fiction meets reality”। মেকানিক্যাল,ইলে
ক্ট্রিক্যাল ও সিএসসি এই তিনটা সাবজেক্টের সমন্বয়ে আমাদের মেকাট্রনিক্স। সেই সাথে কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিংও জড়িত আছে এর সাথে।

যা যা পড়ানো হয় :{Course Structure }
Mechanical engineering and materials science
Electrical engineering
Computer engineering
Computer science(software & hardware engineering)
Systems and control engineering
Optomechanics (optical engineer)

আপনি হয়ত বলতে পারেন এর কাজের ক্ষেত্র কেমন? তাহলে দেখুন
প্রয়োগ: {Applications }
1. রোবটিক্স এবং অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং
2. কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত মেশিন
3. অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, স্মার্ট ভিয়েকল ডিসাইন
4. বায়ো-মেকানিক্যাল সিস্টেম, সাইবর্গ।
5. আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স
6. মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশন
7. স্মার্ট সিকিউরিটি সিস্টেম
8. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং
৯.পাকেজিং
১০.মাইক্রো কন্ট্রোলার
১১.কনসিউমার প্রোডাক্ট
আরো অনেক।

এবার হয়ত ভাবছেন এতই পড়ব তাহলে চাকরির পর বেতন কত পাব ???
বেতন : এক জরিপে দেখা গেছে অ্যামেরিকার একজন মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারের বার্ষিক গড় বেতন ৮৩ হাজার ডলার।
আপনি হয়তো এও ভাবছেন যে বাংলাদেশে কি হবে?
আসলে কেউ যদি ভাবে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার হয়ে আমি বাংলাদেশে থাকবো, তার কি হবে? বাংলাদেশে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার লাগে কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার নেই বলে অন্য ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে কাজ চালাতে হয়।

যেমনঃ
১) মাইক্রো কন্ট্রোলিং বেসড বেশ কিছু কোম্পানী আছে বাংলাদেশে যেখানে দরকার মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার।
২) যে সকল ইন্ড্রাস্টিতে অটোমেটিক কন্ট্রোল এর ব্যাপার গুলো আছে।
৩) এছাড়া মেকানিক্যাল, ইলেক্ট্রিক্যাল আর সিএসইর রিলেটেড ফিল্ড তো থাকছেই।
৪)সর্বপরি আপনি মোবাইল apps ডেভেলপ করতে পারবেন।
এক দিকে যেমন আপনার ভাতের অভাব হবে না অন্য দিকে সৃজনশীল কিছু দিতে পারবেন বাংলাদেশকে।



Subject Review:
Applied Chemistry and Chemical Engineering

বিজ্ঞানের আধুনিকতম বিষয়গুলোর মধ্যে একটি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এই ক্ষেত্রটি প্রতি মুহূর্তেই আরও বিকশিত হচ্ছে আর যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন গবেষণা আর কাজের ক্ষেত্র। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ মূলত কি? অনেকের ই একটি ভ্রান্ত ধারনা আছে যে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আর কেমিস্ট্রি মোটামুটি একই ক্যাটাগরির। একজন কেমিস্ট এর মূল কাজ হল ল্যাবে। অন্যদিকে আমাদের কাজ হল প্রধানত ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে। একজন রসায়নবিদ যেই প্রক্রিয়া ল্যাবের বিকারে ঘটান একজন ইঞ্জিনিয়ার সেই কাজকেই শিল্পক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে কেমিক্যাল প্ল্যান্টে প্রয়োগ করেন। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত Physics, Chemistry, Life Science (biology,microb
iology,biochemistry) এর সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং এর সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক উপায়ে কাঁচামাল থেকে ব্যাবহারযোগ্য সামগ্রী তৈরির প্রক্রিয়া। অনেকের ধারণা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়িয়ারদের কাজ ল্যাবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন কেমিস্ট এর মধ্যে পার্থক্য টা এখানেই।

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ মূলত ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে। প্রধান কাজগুলো হল -
1. Design, manufacture and operating plants
2. Development of new or adopted products
আধুনিক বিজ্ঞানের একটা বিশাল সেক্টর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। পড়াশোনার সুযোগ যেমন বিশাল তেমন রয়েছে গবেষণার ও অনেক সুযোগ। এখানে পাবে Heat Transfer, Mass Transfer এর মত ইন্টারেস্টিং বিষয় সম্পর্কে জানার সুযোগ তেমনি পাবে সুবর্ণ এক ভবিষ্যতের হাতছানি। আর যদি ভাল না লাগে তবে দেখে নাও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রগুলো। ইচ্ছে থাকলে তুমিও হয়ে যেতে পারো একজন Nuclear Engineer তৈরি করতে পারো পারমানবিক বোমা ( ) অথবা হতে পারো biomedical Engineer. গবেষণা করতে পারো জটিল জিনগত রোগ বা এইডস/ক্যান্সার/ডায়াবেটিস নিয়ে। আবার চাইলে চলে যেতে পারো pharmaceuticals এ বা টেক্সটাইল সেক্টরেও। এসবের সূচনা হবে কেমিক্যাল এর হাত ধরেই। তবে দেখে নাও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিস্তৃত ক্ষেত্র

Biochemical Engineering
Biomedical Engineering
Chemical Reactor Engineering
Computational Fluid Dynamics
Corrosion Engineering
Electrochemistry
Environmental Engineering
Food and Nutition Science
Metallurgy
Mineral Processing
Nanotechnology
Neuclear Reprocessing
Oil exploration
Oil Refinery
Pharmaceuticals
Plastics, polymers
Process contol, design, development
Paper Technology
Textile Engineering
Water Technology

এতগুলো বিষয়ে গবেষণার সুযোগ অন্য কোন বিষয়ে পাবে না। আর চাকরি? যতদিন পৃথিবীতে শিল্প কারখানা থাকবে ততদিন তোমার চাহিদা থাকবেই। বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে দিনদিন যতই অগ্রসর হবে এর কাজের ক্ষেত্র ততই বিস্তৃত হবে। আর দেশের বাইরেও রয়েছে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা। AlChE এক জরিপ অনুযায়ী ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর গ্রাজুয়েট এর বার্ষিক বেতন $110000. পাশাপাশি দেশেও রয়েছে বিস্তৃত ক্ষেত্র।

অনেক জায়গায় ই শোনা যায় দেশে নাকি চাকরি নাই। তাহলে দেখে নাও তোমার ভবিষ্যতের চাকরির সুযোগগুলোঃ

সার কারখানা
পেপার মিল
সুগার মিল
গ্লাস ও সিরামিক শিল্প
পেইন্টস কারখানা
ঔষধ শিল্প
ফুড এন্ড বেভারেজ কোম্পানি
টেক্সটাইল কোম্পানি
কসমেটিকস কোম্পানি
পেট্রোলিয়াম
পারমাণবিক প্ল্যান্ট
সিমেন্ট কারখানা
তেল উত্তোলন ও পরিশোধন
ট্যানারি শিল্প
বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ

আর দেশে এই বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ খুব অল্প কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যে কারণে প্রতি বছর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর গ্র্যাজুয়েট সংখ্যা খুব বেশী থাকে না। এটা দেশের চাকরির বাজারে তোমার জন্য প্লাস পয়েন্ট হিসেবে গন্য হতে পারে।
মূলত সকল ধরণের শিল্প প্রতিষ্ঠানেই আমাদের চাহিদা। খাবার চিপস থেকে শুরু করে কম্পিউটারের মাইক্রোচিপ তৈরি হবে তোমার হাত দিয়েই। বড় বড় মিলস চলবে তোমার হাতে। তোমার হাতেই নিয়ন্ত্রিত হবে, তোমার উদ্ভাবিত পথেই উৎপাদনে যাবে কোটি কোটি টাকায় গড়া একটি প্রতিষ্ঠান।

***********************************
সব শেষে একটা কথা বলব । যে সাবজেক্ট নিয়েই পড় না কেন , তা সম্পর্কে আগে খোজঁ নেও কি কি পড়ানো হয় এবং যদি সত্যি সেগুলো তোমার ভাল লেগে থাকে তাহলেই সেই সাবজেক্ট এ ভর্তি হও । কোনটা ১ নাম্বার সাবজেক্ট , কোনটা ২ নাম্বার , এটার চেয়ে ওটা ভাল এভাবে বিচার না করে , সেটাই ভাল সাবজেক্ট যেটা তোমার কাছে ভাল এভাবে চিন্তা কর । মানুষের তৈরি এই বিভাজন অনুসরন করে নিজের সাথে প্রতারনা করোনা ।
***********************************

Post a Comment

3 Comments

Unknown said…
আমাকে কেউ কি বলতে পারবেন। জাতীয়বিশ্ববিদ্যালয়েরঅধীনে Biochemistryand MolecularBiology নিয়ে পড়ে কি ভালো কিছুকরা যাবে।
Tanzil said…
ভালভাবে পড়লে অবশ্যই ভাল কিছু করা যাবে
Unknown said…
বাংলাদেশের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকাট্রনিক্স /Aeronautics সাবজেক্ট আছে?
Close Menu